• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাইক জুজু

  শিহাব জাহিদ

২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:২৪
মাইক বাজিয়ে প্রচারণা
নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা (ছবি : সংগৃহীত)

দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নগরীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। তবে এই উৎসবই যেন জুজু হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। ব্যাপারটা যেন ছোটবেলার সেই ব্যাঙ ও খেলাধুলারত ছোট্ট শিশুদের গল্পের মতো। যেখানে উপজীব্য ছিল, তোমার জন্য খেলা, আমার জন্য মরণ।

প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে সেই পুরনো পদ্ধতি অনুসরণ করে, তবে রং বদল হয়েছে ঢঙে। রাস্তায় মাইক বাজিয়ে কখনো গানের সুরে, আবার কখনো আবৃত্তির ঢঙে চলছে নির্বাচনি প্রচারণা। ফলে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, মাস দুয়েক পর এইচএসসি। পড়াশোনার চাপ তাদের একটু বেশিই। ফলে এই মুহূর্তে মাইকের আওয়াজ তাদের জন্য কানে তালা লাগার উপক্রম।

অনেক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, সারাদিন মাইকের শব্দে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। এলাকার মোড়ে মোড়ে নির্বাচনি অফিসে সাউন্ডবক্স আর রাস্তায় রাস্তায় রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশায় চলছে মাইকিং। এলাকার পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এ নিয়ে বিরক্ত হলেও সরাসরি প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারছেন না কেউ।

পান্থপথ, গ্রিনরোড, বাংলামটর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কানের পর্দা ফাটানো নির্বাচনি প্রচার চলছে। প্রার্থীকে নিয়ে গাওয়া হচ্ছে গান, জনগণের সেবা করার সুযোগ চাচ্ছেন নিজ কণ্ঠে রেকর্ডেড অডিও চালিয়ে। জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কেন তিনি অন্যদের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী। 

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাত ৮টার পর মিছিল, উচ্চশব্দে মোটরসাইকেলের হর্ন, মাইকে জোরে চিৎকার করে স্লোগান ও গান বাজিয়ে প্রচার চলছে বিভিন্ন এলাকায়। অথচ মাইক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের কঠোর বিধি রয়েছে।

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ তে বলা আছে, নির্বাচন-পূর্ব, অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। দুপুর ২টার আগে এবং রাত ৮টার পর শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এ সময়ের বাইরে একজন প্রার্থী একটি করে মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো জায়গায় পথসভা করা যাবে না। আইনে বলা থাকলেও আমাদের সচেতনতার অভাব ও প্রণয়নকৃত আইনের প্রয়োগ না থাকায় প্রার্থীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এবার আসি প্রার্থীদের অধিকার প্রসঙ্গে

আলোকপাত করার বিষয় হলো, এবারের ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (উত্তর ও দক্ষিণ) মেয়র পদে লড়ছেন মোট ১৩ জন প্রার্থী। এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন সর্বমোট ৭৪০ জন। ঢাকা উত্তরে রয়েছেন ৩৩১ জন ও ঢাকা দক্ষিণে রয়েছেন ৪০৯ জন প্রার্থী। এ হিসেবে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মাইক নিয়ে প্রচারে নামতেই পারেন। তাদের এটি অধিকার বলা চলে। মেয়র প্রার্থীর বিষয়টি না হয় বাদ দিলাম, এক ওয়ার্ডে অন্তত সাতজন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সেই সঙ্গে রয়েছেন চারজন নারী কাউন্সিল প্রার্থী। এরা সবাই যদি এক সঙ্গে মাইক বাজায় তবে কোনো বিধি লঙ্ঘন হবে না তা ঠিক কিন্তু নগরবাসীর অবস্থা?

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন বলেন, ‘সারাবিশ্বে নির্বাচনি প্রচারে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে হচ্ছে, এ দেশে হচ্ছে ঠিক তার উল্টোটা। এখন আদি যুগের মতো মাইকে প্রচার না চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো যায়। এটা বরং প্রার্থীর জন্য অনেক বেশি ভালো হবে।’

আরও পডুন : গ্র্যাজুয়েটদের চাকরিযোগ্য করতে ইউজিসির ২৯ সুপারিশ

পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এখন যেহেতু নির্বাচন চলছে, নির্বাচনে প্রার্থীদের কিছু অধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন বিশেষ বিবেচনায় ওই অধিকারগুলো অন্যান্য অধিকারের সঙ্গে দেখতে হবে। নির্বাচনে মিছিল, মাইকিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু শব্দদূষণ হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। এখন যেটি হচ্ছে, আমার মনে হয় মাইকিংয়ের বিষয়ে প্রার্থীদের যেভাবে অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেভাবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুমতি দেয়নি। যে কারণে শব্দদূষণও বেশি হচ্ছে। এগুলোর সীমিত আকারে অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থীরা কর্মীদের যেভাবে নির্দেশনা দেন কর্মীরা সেভাবেই প্রচার চালান। এখন যেহেতু এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি চলছে, তাই সব প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রচার চালানো উচিত। তাহলে হয়তো শব্দদূষণ কিছুটা কমে আসবে।’

ওডি/জেআই 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড