• রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রশ্নপত্র ফাঁসে সেই শিক্ষক চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত

  শিক্ষা ডেস্ক

২০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৬
প্রশ্নপত্র ফাঁস
চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ। (ছবি : সংগৃহীত)

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শিক্ষক হুমায়ুন খালিদকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে। এ বিষয়ে বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সাগরদিঘী কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ছিলেন। সে সময় টাকার বিনিময়ে গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস করায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। এছাড়া অষ্টম ও নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে তিনি এমপিওভুক্ত করেন।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে আমি নিজেই নজর রাখতে থাকি। এসএসসি পরীক্ষার শুরু থেকেই তারা এ কাজ করে আসছিল। জানতে পারি প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রতি পরীক্ষার্থী বাবদ ২৫ হাজার টাকার প্যাকেজ ছিল। এ কাজের সঙ্গে শুধু কেন্দ্র সচিব নয় কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মকর্তারাও জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় সচিব এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই ফাঁস করেন।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই শ্যামল চন্দ্র সাহার শ্যামল কোচিং সেন্টার। আর এ কোচিংয়ের অর্ধেক শেয়ারে আছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ। একদিকে নিজ কোচিংয়ের পরীক্ষার্থীদের ভালো ফল করানো অন্যদিকে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকার লোভ সামলাতে না পেরে পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই দপ্তরির হাত হয়ে গণিত প্রশ্ন চলে যায় শ্যামল চন্দ্র সাহার হাতে। বিষয়টি জানতে পেরে কোচিংয়ের শিক্ষক শ্যামল ও দপ্তরি আব্দুর রহমানকে প্রশ্নসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশ।

স্কুলের দপ্তরি আব্দুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার হাতে প্রশ্নপত্র দিয়ে লাইব্রেরিতে নিয়ে যেতে বলেন। আমি তার কথামতো দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা কোচিং মাস্টার শ্যামল বাবুর কাছে প্রশ্নপত্রটি দেই। আমি তার অধীনে চাকরি করি। তিনি যা বলবেন আমার তো তাই করতে হয়। আমার কোনো দোষ ছিল না। 

এ ঘটনায় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল মামুন কোচিং শিক্ষক শ্যামল ও কেন্দ্র সচিব হুমায়ুন খালিদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৪ ধারা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস বা বিতরণ করার অপরাধে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। 

আরও পড়ুন : দুই শিক্ষকে চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও হলে বহু নির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর বলে দেওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন, সচিবের পদ থেকে হুমায়ুন খালিদকে বহিষ্কার এবং সাগরদিঘী কেন্দ্রটি বাতিল করার জন্য শিক্ষা বোর্ডকে সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে বোর্ডে তদবির করে হুমায়ুন খালিদ কেন্দ্রটি বহাল রাখেন।

ওডি/জেআই 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড