• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৩৫ জনকে অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দিলেন সাবেক ভিসির ভাতিজা

  বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

১২ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৫০
বশেমুরবিপ্রবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : ইনসেটে খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ)

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে যাত্রা শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগ। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। কিন্তু বিভাগের চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, বিভাগটির চেয়ারম্যান খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ বিভাগের উন্নয়নের বিষয়ে যেমন উদাসীন তেমনি কারণে অকারণে শিক্ষাজীবন নষ্ট করার হুমকি দেন শিক্ষার্থীদের। সম্প্রতি এই চেয়ারম্যান দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষায় প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দিয়েছেন। চেয়ারম্যান শুধু তার ক্ষমতা প্রদর্শন করতেই অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দিয়েছেন বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের চারটা ব্যাচের জন্য মাত্র একটা ক্লাসরুম রয়েছে সেটিও টিনশেডে। বৃষ্টি হলে সেখানে ক্লাস করা যায় না। এসব নিয়ে বা কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বললে চেয়ারম্যান তার সমাধান তো করতেনই না বরং শিক্ষাজীবন নষ্ট করার হুমকি দিতেন। আর আমরা যাতে তাকে ভয় পাই শুধু এই কারণে তিনি আমাদের ৩৫ জনকে অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, তিনি আমার অ্যাসাইনমেন্টটি পড়েই দেখেননি, শুধু তার নামের স্পেলিংটা ভুল হওয়ায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি অ্যাসাইনমেন্টের কভার পেজ না কিনে নিজে তৈরি করেছিলেন যেখানে খোন্দকার লেখায় তিনি ইংরেজি অক্ষর ‘ই’ এর পরিবর্তে ‘এ’ ব্যবহার করেছিলেন।

এ দিকে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসলেও কেন তারা অভিযোগ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওদের অতিরিক্ত ভালোবেসে ফেলেছিতো তাই ওরা এসব অভিযোগ করছে। অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এই শিক্ষক বলেন, কপি পেস্ট করায় এবং লেখার মান খারাপ হওয়ায় শূন্য দিয়েছি। কিন্তু তিনি যে সকল শিক্ষার্থীকে শূন্য দিয়েছেন তারা প্রায় সকলেই অন্যান্য পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফল করেছেন। যে সকল শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট লেখার মান এতটা নিম্ন তারা কীভাবে অন্যান্য পরীক্ষায় ভালো ফল করলেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই শিক্ষক।

প্রসঙ্গত, খোন্দকার মাহমুদ পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের ভাতিজা। অভিযোগ রয়েছে তিনি সাবেক উপাচার্যের সহায়তায় দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড