• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ও নাটক করতাছে; ফাহাদকে ছটফট করতে দেখে ছাত্রলীগ নেতার ঔদ্ধত্য

  ক্যাম্পাস ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪১
বুয়েট
আবরার ফাহাদ (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তাকে মারধরের পর মৃত্যুর ঠিক আগে মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন ফাহাদ।  তাকে ছটফট করতে দেখে হামলাকারীদের মধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতা বলে ওঠে, ‘ও (ফাহাদ) নাটক করতাছে’।

এভাবে ছটফট করতে করতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ফাহাদ। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত জেনে সেখান থেকে সটকে পড়ে হামলাকারীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রলীগের হামলায় আবরারের মৃত্যুর লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন তার দুই রুমমেট আরাফাত ও মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আবরারকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর তিনি তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। মহিউদ্দিন বলেন, আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে।’ এ রকম পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে না পারায় মহিউদ্দিনের এখন আফসোস হচ্ছে। আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আরাফাত আফসোস করে জানান, তিন-চার মিনিট আগে তিনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তা হলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।

তিনি আরও জানান, পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলাম। তখনই দেখি তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনও আমার চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। আমার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।

আরাফাত জানান, খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে। যখন আবরারের হাত ধরি, তখন হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে।

তিনি জানান, তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার এলো। ডাক্তার দেখে বললেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে। তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তা হলে পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিনে তিন ঘণ্টাও ঘুমাইতে পারি নাই।

মহিউদ্দিন জানান, আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ। আবরারকে ফেলে রাখার করুণ দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিয়ে মহিউদ্দিন জানান, তখন আড়াইটার মতো বাজে। আমি পড়া শেষে খেতে বের হয়েছি। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনও ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।

নিষ্টুর এ বর্বরতার বর্ণনা দিতে দিতে কান্না করতে করতে মহিউদ্দিন জানান, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারিনি। মাফ করে দিস, ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই।’

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড