• শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যবিপ্রবিতে ইনডেমনিটি নাটক মঞ্চায়িত

  যবিপ্রবি প্রতিনিধি

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩২
যবিপ্রবি
ইনডেমনিটি নাটকের মঞ্চায়ন (ছবি : সংগৃহীত)

ওয়ান বাংলাদেশের আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) প্রদর্শিত হয়ে গেল মান্নান হীরা রচিত নাটক ইনডেমনিটি। 

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই নাটক প্রদর্শিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক মহা কলঙ্কের দিন, শোকের দিন। এই দিন বাংলাদেশ তথা স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা মৃত্যুর নেশায় বুঁদ হয়। নির্মমভাবে হত্যা করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের। এই হায়েনাদের থেকে রেহাই পায়নি শিশু রাসেলও। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। এই নির্মম ঘটনা আমরা সবাই জানি। 

সেইদিনের মাত্র ৪১ দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি আইন অধ্যাদেশ (যদিও তৎকালীন সাংবিধানিক আইনে প্রেসিডেন্ট কোনো অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা রাখে না) যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারতো দূরের কথা, ঐ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘৃণিতভাবে সেই হত্যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এই অধ্যাদেশকে আরও পাকাপোক্ত করার জন্য এবং হত্যাকারীদের চিরতরে বাঁচাতে ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনী এনে এটাকে আইনে রূপান্তর করে।

সেই সময়ের অবৈধ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের দাপটে পাশ করা হয় “ইনডেমনিটি” আইন। এই আইনে আরও বৈধতা দেয়া হয়
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সকল অবৈধ হত্যা, গুম ও ক্ষমতার। জাতীয় চার নেতার হত্যা থেকে শুরু করে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা, সিপাহী, আর্মি, নৌ-অফিসারদের হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত হয় স্বজন ও সর্বোপরি সকল বাংলাদেশী। এ দেশের এই চার বছর ১০ মাস ছিল এক অন্ধকার যুগ। একজন মানুষকে খুন করা হবে অথচ তার বিচার চাওয়া যাবে না। পক্ষান্তরে খুনিরা দম্ভভরে খুনের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে এবং রাষ্ট্র যন্ত্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় ভূষিত হবে কোনো সভ্য দেশে এসব ভাবাই যায় না। 

তবে আশার বিষয় এই যে, ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে সংবিধানের “ইনডেমনিটি” আইন বাতিল করা হয় যা দেশ ও জাতির এক ভয়ংকর কালিমা অপনোদনের দ্বার উন্মোচন করে।  

ইনডেমনিটির বিষয়টা এখনও অনেক মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনেকের কাছেই এখনো অজানা ইতিহাসের এই
কালো অধ্যায়টি। সর্বসাধারণের কাছে সহজভাবে ইনডেমনিটির বীভৎসতা তুলে ধরার জন্য ওয়ান বাংলাদেশের আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিটি অঞ্চলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যার অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় নাটক “ইনডেমনিটি” স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় মঞ্চস্থ হয়=। 
বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। 

নাটকে অভিনয় করেছে - সজিবুর রহমান, নিশাত জাহান তন্নি, আকিব, ফেরদৌস, নিলয়, ত্রিবেদী, অনুভব, লিপি, মাহমুদ হাসান সৈকত।  রচনায় ছিলেন, মান্নান হীরা, নির্দেশনায় কামরুল হাসান রিপন এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল যশোর বিবর্তন শাখা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে পরিচালক ড. মীর মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।  

উপাচার্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ছাত্রদের প্রধান লক্ষ্য থাকতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই নাটক থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত তা তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুব দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বাংলাদেশকে কলঙ্ক মুক্ত করার আহ্বান জানান।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আনিছুর রহমান, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. আমজাদ হোসেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মেহেদী হাসান, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এপিপিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, শেখ হাসিনা হলের সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন সহ প্রমুখ।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড