• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইবি ক্যাম্পাস অচল করে দেওয়ার হুমকি

  ইবি প্রতিনিধি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৫
ইবি
শিশির ইসলাম বাবু (ছবি : সম্পাদিত)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউজিসির নির্দেশ অনুসারে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর-২০১৯ অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিশির ইসলাম বাবু।

গত ২ বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির ইসলাম বাবু ও তার অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সভা কক্ষে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে অনুমতি না নিয়ে দলবল নিয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে বহিষ্কারের জন্য উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে। 

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। আরও বিভিন্ন প্রশ্ন করে অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। বুধবার প্রশাসন ভবনের সভা কক্ষে ডিন, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও অফিসারদের সঙ্গে এপিএ টিমের আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।

জানা যায়, ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত ও বিদ্রোহী দলের নেতারা ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তাকে বহিষ্কারের কার্যকরী পদক্ষেপ প্রশাসন নিয়েছে কি না এ বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্যের কাছে যান। এ সময় উপাচার্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই শিশির ইসলাম বাবু তার সাঙ্গপাঙ্গসহ সভাকক্ষে ঢুকে যায়। এতে সভাকক্ষে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এ সময় বক্তব্য প্রদান করছিলেন- কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ। তাদের অনুপ্রবেশের ফলে সরওয়ার মুর্শেদের বক্তব্য প্রদানে বিঘ্ন ঘটে। 

এ বিষয়ে সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ‘পরিবেশটা বক্তৃতা দেওয়ার মতো ছিল না। শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, একটা মিটিং চলছে সে মিটিংয়ে ঢুকতে গেলে যদি কেউ সে মিটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয় আর সংশ্লিষ্ট হলেও সে মিটিংয়ের সভাপতির অনুমতি নিতে হয়। এটাই হচ্ছে শিষ্টাচার। এটি শুধু আমি না ওই মিটিংয়ে যারা উপস্থিত ছিলেন সাবার খারাপ লেগেছে, সবাই আশ্চর্য হয়েছেন। উপাচার্য ওই ছেলেটিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন সভা চলছে তুমি পরে আসো তোমাদের সঙ্গে পরে কথা বলি তারপরও ছেলেটি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছে। ওই পর্যায়ে আমি আমার বক্তৃতা বন্ধ করে দেই আমি আর কথা বলি না। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, শিক্ষক হিসেবে আমরা আশা করি না। আর এই মিটিংটা তো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। এটাতো এমন না যেকোনো ছাত্র বিরোধী মিটিং হচ্ছে যে ছাত্ররা জোর করে ঢুকে গেল।’

প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে যেকোনো মিটিংয়ের মধ্যে কারো যাওয়া অনৈতিক ব্যাপার। ছাত্র-শিক্ষক কর্মচারী যে হোক না কেনো কারোরই এরকম ভরা মিটিংয়ে যাওয়া উচিত না। তারপরও কারো যদি অভিযোগ, বক্তব্য বা কথা থাকে তাহলে অবশ্যই অ্যাপয়েনমেন্ট নিতে হবে অথবা সে যখন ফ্রি থাকবে তখন কথা বলতে পারে এটাই স্বাভাবিক।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি সুতরাং আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সেলিম তোহা। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত এস এম আব্দুল লতিফ।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ উঠে পড়ে লেগেছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ (মাস্টার্স) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিশির ইসলাম বাবু পদ না পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। একসময় ক্যাম্পাসের ত্রাস ছিল এই শিশির ইসলাম বাবু। অস্ত্রের মহড়া, ভর্তি বাণিজ্য ও হল ডাইনিং এ টাকা না দিয়ে খাওয়া, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দলীয় প্রভাবে মারধরসহ ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বার্ষিক কর্মসংস্থান সম্পাদনে অনুষ্ঠানে যেখানে আমাদের শিক্ষক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সেখানে একেবারে বিনা নোটিশে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবেশ করাটা বাঞ্ছনীয় নয়। আমি উপাচার্য হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ছাত্র সুলভ আচরণ প্রত্যাশা করি।’

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড