• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২৪ ঘণ্টার মধ্যে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবি

  ক্যাম্পাস ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন (ছবি : সংগৃহীত)

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দীনকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধনে মঞ্চের পক্ষে থেকে এ দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বুশেমুরবিপ্রবির ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও জানান তারা।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির, সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড়।

মানববন্ধনে আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বুশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দীন গত কয়েক বছর ধরে যে ধরনের স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন, তারই প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিস্তার অভিযোগ এসেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ঘুমিয়ে আছে কি না তা আমরা জানি না। এই ভিসি ফাতেমা তুজ-জিনিয়া নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে। আর এর কারণ ছিল সে শুধু ফেসবুকে লিখেছিল- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ কী। এরও আগে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করা হয়।’

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বলেন, ‘ছাত্রজীবনে খোন্দকার নাসির উদ্দিন স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি করতেন। যুক্তরাজ্যে থাকার সময় ছাত্রদলের সংগঠক ছিলেন।’

তিনি জোর কণ্ঠে বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে না। এ রকম ভিসিকে আমরা জাতির জনকের জন্মভূমিতে থাকতে দেব না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। দাবি মানা না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণাও দেন তিনি। 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য খন্দকার মোশতাকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। খন্দকার মোশতাক যেমন বঙ্গবন্ধুর খুব কাছে থেকে তার সঙ্গে বেঈমানি করেছিল তেমনি খন্দকার নাসির উদ্দীন বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে তার আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধুর নিজ জায়গা। এখানে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে অগণতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যেখানে সারাজীবন এ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে গেছেন, সেখানে একজন ভিসি কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে শুধু তার মতামত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছেন। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ স্বৈরাচার ভিসির পদত্যাগ চাই।’

রায়হানুল ইসলাম আবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মত প্রকাশে বাধা না দেয়ার কথা বলেছেন, সেখান একজন উপাচার্য মত প্রকাশের কারণে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করছেন। এর আগেও ক্লাসরুম অপরিষ্কারের ব্যাপারে লেখার কারণে আরও কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে, ভিসি সেখানকার ছাত্র সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করে একটি গুন্ডা বাহিনী গড়ে তুলেছেন। সচেতন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য তাদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আলোকিত বাংলাদেশে’র প্রতিনিধি শামস জেবিনের ওপর রাশা ও সাজিদ নামের দুই গুন্ডা হামলা চালিয়েছে। আমরা অবিলম্বে এ হামলার বিচার দাবি করছি।’

তিনি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াসহ সকল বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। অন্যথায় দেশের সব সাংবাদিক সংগঠনকে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ারও ঘোষণা দেন এই সাংবাদিক নেতা।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড