• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাংবাদিক জিনিয়ার বহিষ্কারের ঘটনায় শাবি প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ

  শাবি প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৪৩
শাবিপ্রবি
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব (ছবি : সম্পাদিত)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) কর্মরত সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। একইসঙ্গে অবিলম্বে বহিষ্কার প্রত্যাহারপূর্বক বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে স্বৈরাচারমূলক আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শাবি প্রেসক্লাবের নেতারা।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা প্রতিবাদ ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

কথিত অভিযোগে জিনিয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিপন্থী এবং একইসঙ্গে তা নারীকে দমিয়ে রাখতে পুরুষতান্ত্রিক ধৃষ্টতা ও স্বৈরশাসনকেই প্রতিষ্ঠা করে বলে মনে করেন প্রেসক্লাবের নেতারা।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তা চর্চার সর্বোচ্চ অঙ্গন। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র খ্যাত ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রূপকার; কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরচারী শাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে তার স্বীয় চরিত্র থেকে বিচ্যুত করছে। কথিত অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সিন্ডিকেটের সভা ছাড়াই বশেমুরবিপ্রবির সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কার স্বৈরশাসনের অশনিসংকেত বহন করে।

নেতারা মনে করেন, বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হলেও বাংলাদেশের নারীরা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির যাঁতাকলে পড়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। সাংবাদিকতার মতো মহৎ পেশায় বাংলাদেশে নারী অবস্থান মাত্র ১৩ শতাংশ। ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার সঙ্গে উপাচার্যের কথোপকথন, হুমকি সর্বোপরি স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতির বহিষ্কার তাকে মানসিকভাবে আঘাত করা ও সাংবাদিকতার মতো মহৎ পেশা থেকে তার স্পৃহাকে দমিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা বলে করেন তারা।

তারা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ঠুনকো প্রতিষ্ঠান নয় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কিছু লিখলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্মান ক্ষুন্ন হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে অতি শিগগির ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান জানান তারা। সেইসঙ্গে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে নারীদের স্বনির্ভরতার পথে বাধা প্রদান করায় ঐ সাংবাদিকের কাছে উপাচার্যকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান শাবি প্রেসক্লাব নেতারা। অন্যথায় দেশের সকল ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিয়ে দাবি আদায়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে এ সংগঠন।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট প্রতিবেদন তৈরির জন্য উপাচার্যের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে যান ‘ডেইলি সান’ পত্রিকার বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়া। এ সময় উপাচার্য তাকে এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী হওয়া উচিত?’ এর কারণ জানতে চান। ব্যাখ্যা মনঃপুত না হওয়ায় উপাচার্য তাকে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন। উপাচার্য তাকে তুই তোকারি সম্বোধন করে তার পরিবার নিয়ে কটু কথা বলেন এবং যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করেন। এ সময় উপাচার্য তাকে ‘ফাজিল, বেয়াদব উল্লেখ করে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তোদের মতো বেয়াদব তৈরি করা।’ এ সময় তিনি দম্ভোক্তি প্রদান করে বলেন, ‘গেছোস বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোদিন? আমি এটা (বশেমুরবিপ্রবি) খুলছি বলেই তোরা পড়তে পারছিস’।

এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড