• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ : তদন্তে সময় চাইলেন জাবি উপাচার্য

  আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৪
জাবি
আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের' মাস্টারপ্ল্যান ‘অস্বচ্ছ, অপরিকল্পিত’ এবং প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের তিন দফা দাবির দুটি মেনে নিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। 

একটি দাবির বিষয়ে তিন কার্যদিবস সময় নিয়েছেন উপাচার্য। তবে দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

দ্বিতীয় দাবি প্রকল্পের টাকা থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেয়ার অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে তিনি (উপাচার্য) মামলার প্রক্রিয়ায় যাবেন নাকি আচার্য বরাবর তদন্তের প্রক্রিয়ায় যাবেন তার জন্য আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শের জন্য ৩ কার্যদিবস সময় নিয়েছেন উপাচার্য। এ বিষয়ে আগামী বুধবার একটি মিটিং হবে। আর তৃতীয় দাবি (অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান রিভাইস) পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে, রিভাইস হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় উপাচার্য আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবির মধ্যে দুটি দাবি মেনে নিয়েছেন একটির বিষয়ে তিন কার্যদিবস সময় চেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম দাবির বিষয়ে বলেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশ থেকে দুটি হল স্থানান্তর করা হবে। তবে নতুন জায়গা কোথায় হবে সেটার জন্য মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা কমিটি, সকল ছাত্র সংগঠন, এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া আলোচনায় আরও যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো- যৌথ মতামতের ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে, বিল্ডিং এর গুনগত মান নিশ্চিত করার লক্ষে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে, সর্বদলীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। যারা সমস্ত কাজের অগ্রগতি মনিটর করবেন এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা পর্যালোচনা করবেন।

এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের তিনটি দাবির মধ্যে দুটি মেনে নিয়েছেন। একটি দাবির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবার এ বিষয়ে আলোচনায় বসবো আগামী বুধবার।’ 

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, ‘আপাতত আমরা বড় ধরনের কোন কর্মসূচি রাখছি না। যেহেতু আগামী বুধবার আবার আলোচনা হবে। তবে ছোট খাটো কিছু আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন (প্রশাসন) ও অধ্যাপক নুরুল আলম (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আহসান হাবিব।

অপরদিকে এ আলোচনায় আন্দোলনরত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছেন। 

এর আগে তিন দফা দাবিতে গত ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর টানা তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলনরতরা। ৫ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে উপাচার্য তাদেরকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে দাবির ব্যাপারে ‘আন্তরিকতার’ শর্তে প্রস্তাবে রাজি হয় তারা। ৭ সেপ্টেম্বর আলোচনার প্রাক্কালে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের এক নেতা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করলে সেদিনের মতো আলোচনা ভেস্তে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে গত ৯ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ মে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নির্মিতব্য হলগুলোর জন্য নির্বাচিত স্থানগুলোতে ১১শ এর অধিক গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি গাছ কাটা পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিত-অস্বচ্ছ।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড