• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঢাকা কলেজে নেই ডাস্টবিন, নোংরা হচ্ছে পরিবেশ

  রাকিবুল হাসান তামিম

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:১৪
ঢাকা কলেজ
যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজের পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ময়লা, আবর্জনা, অপ্রয়োজনীয় কাগজ বা টিস্যু ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঝুড়ি বা ডাস্টবিন নেই। 

আবার পরিষ্কারের পর ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে রাখা হচ্ছে উন্মুক্ত পরিবেশে, ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের প্রধান ফটক থেকে শহীদ মিনার চত্বর, বিজয় চত্বর, অ্যাকাডেমিক ভবন চত্বর, টিচার্স কোয়ার্টার, ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন এলাকা, পুকুর পাড়, হল সংলগ্ন এলাকা, পরিবেশ চত্বরসহ আশেপাশের অন্যান্য জায়গাতেও ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট ঝুড়ি বা ডাস্টবিন নেই। যার ফলে ক্যাম্পাসের রাস্তার দুই পাশেই বিভিন্ন রকম আবর্জনা পড়ে আছে। কাগজ, খালি বোতল, পলিথিনসহ প্লাস্টিকের নানা আবর্জনা দৃশ্যমান। এমনকি অ্যাকাডেমিক ভবনেও ময়লা ফেলার জন্য কোনো প্লাস্টিকের ঝুড়ি নেই। যার ফলে প্রায় সারা বছরই ময়লা আর আবর্জনা পড়ে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অ্যাকাডেমিক ভবনের পাশে ফেলে রাখা ময়লা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সাম্প্রতিক সময়ে, গত কয়েক মাসে কলেজ প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় কলেজের স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে এসব পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো কাজেই আসছে না।

এছাড়া কলেজের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দূষণে আরও একধাপ এগিয়ে। তারা ড্রেন থেকে ময়লা তুলে ড্রেনের পাশেই রাখার ফলে সেগুলো আবার ড্রেনেই পড়ছে। যার ফলে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা জন্মাচ্ছে। 

কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়েদুর রহমান বলেন, ‘ময়লা আবর্জনা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাছাড়া যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে ক্যাম্পাসের নান্দনিকতাও নষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সতর্ক হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কাগজের টুকরো বা ময়লা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের আরেকজন শিক্ষার্থী নাঈমুল হাসান শান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী ডাস্টবিন না থাকায় দিনে দিনে সুন্দর ক্যাম্পাস আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। তাছাড়া ড্রেনের ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না যার ফলে সেখানে জন্মানো মশার কামড়ে ক্লাসে বসলে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারি না।’

ড্রেনের পাশে ময়লার সমাহার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হলে সবার সচেতন হতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় ময়লা আবর্জনা আছে সেগুলো শিগগিরই পরিষ্কার করা হবে।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সাম্প্রতিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এ বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যার মধ্যে নতুন করে চিহ্নিত স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন বসানো হবে। পরিচ্ছন্ন থাকতে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে শিক্ষার্থীদের। কারণ শিক্ষার্থীরাই হলো ক্যাম্পাসের প্রাণ। ক্যাম্পাসে তাদের পদচারণাই বেশি।’ সামনের দিনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

ওডি/এসএসকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড