• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শান্তির বার্তা নিয়ে হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা

  সাদিকুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৩
হাবিপ্রবি
শান্তির বার্তা নিয়ে হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর (ছবি : দৈনিক অধিকার)

হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক তরুণ প্রশ্নপত্র ফাঁস, গুজব ও প্রকাশ্যে রিফাত হত্যার প্রতিবাদ করে মানুষকে সচেতন করছিলেন। তার মাথায় লাল-সবুজের পতাকা বাঁধা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ’ এবং গুজব ও প্রশ্নফাঁসসহ দেশের চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সচেতনতামূলক কথা। ওই তরুণের নাম সাইফুল ইসলাম শান্তি। পড়ছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক শেষ সেমিস্টারে। সাইফুল ইসলাম শান্তির বাড়ি দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আমলাহার এলাকায়।

এটিই এই তরুণের প্রথম উদ্যোগ নয়, এর আগে তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সঙ্কটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একক অবস্থান গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া। এ তেঁতুলিয়া থেকেই ওই তরুণ ২১ জুলাই সকাল ৬টায় তার ক্যাম্পেইন শুরু করেন।

সাইফুল ইসলাম শান্তি জানান, পঞ্চগড়-ঢাকা হাইওয়ে দিয়ে পায়ে হেঁটে বগুড়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করি। তারপর সাভার-গাবতলি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে কুমিল্লা রোড দিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার অতিক্রম করে টেকনাফ জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছেছি। এ পদযাত্রায় ৩১ দিন সময় লেগেছে। অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ১২টায় টেকনাফ জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছি। এ ৩১ দিনে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে আমাকে ১৭টি জেলা পেছনে ফেলতে হয়েছে। আমি ৩০ জায়গায় রাত যাপন করেছি। প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ কি. মি. পথ হেঁটেছি।

ছবি

পথ সভার ক্যাম্পেইনে বক্তব্য রাখছেন শান্তি (ছবি : সংগৃহীত)

তিনি বলেন, পদযাত্রায় জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। প্রত্যেকটি পথ সভার ক্যাম্পেইনের বক্তব্য উপস্থিত জনগণ গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন। বেশিরভাগ পথচারী আমাকে আমার পদযাত্রার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। অনেকেই রাস্তা-ঘাটে আমাকে দেখেই বুকে টেনে নিয়েছেন। কেউ বা বলেছেন, ‘দেশে এখন আর কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। তোমাকে প্রতিবাদ করতে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’ পদযাত্রার মাঝে আমি দুই দিন অসুস্থ হয়ে পড়ি। পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে আমি শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে গিয়েছি, পায়ের একটি আঙ্গুলের নখ মরে গেছে এবং দুই পায়ের দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিতেও ফোস্কা পড়েছে। প্ল্যাকার্ড ধরে রাখার কারণে হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে, পিঠে ব্যাগ রাখার কারণে পিঠ প্রচুর বিষাদে ভরে গেছে। রোদে চোখমুখ কালো হয়ে গেছে। পদযাত্রায় আমার তিক্ত অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কিছু নিরক্ষর পথচারী না বুঝে আমাকে ইঁদুর-টিকটিকি মারার ওষুধ বিক্রেতার (হকার) সঙ্গে তুলনা করেছেন। তখন তাদের কাছে গিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতাম। তারা নিরক্ষর-দোষ তাদের না, দোষ মূলত আমাদের গোটা সমাজের, গোটা দেশের। আমরা আজও এদের অক্ষর জ্ঞান শিক্ষা দিতে পারিনি।

শান্তি বলেন, পদযাত্রার ৫ম দিনে দিনাজপুরের দশমাইল ত্যাগ করে সৈয়দপুরের উদ্দেশে হাঁটছিলাম। ওই দিন রাত ৯টা বেজে যায় তবুও কোনো শহর সামনে পড়ছিল না। শহরে কোনো আবাসিক হোটেলে অথবা উপজেলা শহরের সরকারি ডাকবাংলোয় রাতে বিশ্রাম নিতে হবে। গুগলের মানচিত্র দেখার সুযোগ ছিল না কারণ স্মার্ট ফোনে চার্জ না থাকায় সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে একটি মসজিদ ও দোকান পেলাম, সেখানে ২০-৩০ মানুষ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের কাছে গিয়ে আমার পরিচয় দিই, দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তাদের দেখাই এবং রাতটুকু থাকার জায়গা করে দিতে অনুরোধ করি। আমার এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই ফিসফিস করতে লাগলেন এবং রাতে জায়গা দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। কয়েকবার অনুরোধ করার পর মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি আমাকে আশ্রয় দেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি ছেলেধরা সন্দেহে লোকজন ঐ বাড়িতে ভিড় জমিয়েছে। ঐ বাড়ির মালিক না ঘুমিয়ে রাতে আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং আমাকে সকালে খাইয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছেন। এ কর্মসূচিটি আমার পরিবর্তে কোনো উঁচু মানের ব্যক্তি-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার অথবা মানবাধিকার কর্মী বাস্তবায়ন করলে আরও ভালো লাগত। আমি উপস্থিত শ্রোতাদেরকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, গুজব ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হতে আহ্বান করেছি। এ কর্মসূচিতে সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার পুলিশ, ডিসি এসপি, ইউএনও, সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয় স্বজনসহ অনেকে আমার খোঁজ-খবর নিয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন।

মার্কেটিং বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সাইফুল ইসলাম শান্তি আমার বিভাগের ছাত্র, সে মানুষকে সচেতন করার যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তার এ উদ্যোগের জন্য মার্কেটিং বিভাগ গর্ববোধ করছে।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড