• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘বিশ্বব্যাপী সংবাদ পত্র একটি অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র’

বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম শীর্ষক আলোচনায় ইবি উপাচার্য

  ইবি প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৬
আলোচনা সভা
বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম শীর্ষক আলোচনা সভা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী আজ সংবাদ পত্র একটি অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র। এ অস্ত্র যেমন ভালভাবে গণ মানুষের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা যায়, ঠিক তেমনি বিঘ্ন ঘটানোর জন্যেও এ অস্ত্র ব্যবহার করা যায়।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এ কথা বলেন। 

উপাচার্য বলেন। ‘গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এটি প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে এবং তার আগেও চোখ খুলে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেন না ২৩ বছরের গোলামীর শাসন ভেঙ্গে তিনি স্বাধীনতার সূর্য উদয়ে যে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন তার পেছনে প্রেরণা ছিল মানুষের বাক স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার আরেক দিক হচ্ছে সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা।’ 

রশিদ আসকারী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভ মনে করতেন। রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ এই ৩টি স্তম্ভ সমান্তরাল ভাবে চলছে কিনা, তাদের পরস্পরের কর্ম সম্পাদনের মধ্যে কোন প্রকার সমন্বয়হীনতা রয়েছে কিনা সেটি নির্দেশ করার জন্য গণমাধ্যমকে আরেকটি স্তম্ভের মর্যাদা দিয়েছিলেন তিনি।’ 

ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হলুদ সাংবাদিকতার বিরোধী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় প্রেস ক্লাব তৈরি করে গিয়েছেন। সেই প্রেস ক্লাব আজ তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বকালের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়েছেন। যার নির্মাণ কাজ চলমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইবি প্রেস ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারে মতো এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ড. রাশিদ আসকারী।

বক্তব্য রাখছেন ইবি উপাচার্য (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য-সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু। 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাংবাদিক বান্ধব। বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন পর্যায়ে সংবাদ পত্রের সাথে কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর বিভিন্ন আন্দোলনে সংগ্রামে সাংবাদিকদের কাজে লাগিয়েছেন। আন্দোলনের সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি সংবাদ মাধ্যম ব্যবহার করেছেন। বঙ্গবন্ধু সংবাদ পত্রকে গণ মাধ্যম ঘোষণা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অর্জনে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ আয়োজন করায় তিনি ইবি প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ‘আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ভূমিকা অতীতেও যেমন ছিল তেমনি বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি জীবনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘এক সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুসলিম এবং নারী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো না। তখন আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে আন্দোলন করেছি এবং ইবি প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে সেই আন্দোলনের সংবাদ দেশবাসীকে জানিয়েছি। আর এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমার ৬ মাসের জেলও হয়েছিল।’ 

শাহজাহান আলম বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে গিয়ে আমাদের অনেককেই বহিষ্কার করা হয়েছিল। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং প্রেস ক্লাব মুক্ত জ্ঞান চর্চার বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতির দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এটি ধরে রাখতে হলে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কোন বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব যে শিরোনামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সংবাদ পত্র এবং সাংবাদিক সমাজের যে সম্পর্ক ছিল তা আমাদের অনেকেরই অজানা। এ সম্পর্ক জানানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি করে এ ধরণের আয়োজন করতে হবে। সময়োপযোগী এ আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সভায় আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন- বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদক ও সহসভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বি এম রফেল, ইবি রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার এবং ইবি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন খান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত তিমির। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং ইবি কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মো. মোর্শেদুর রহমান। 

সভায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাবেক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- ইবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ইবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ লাভলু, ইবি রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সদস্য ড. নওয়াব আলী খান, হুয়াই মোবাইল কোম্পানির সিনিয়র আর এফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন বাপ্পী, পাবনা বেড়া কর্মসংস্থান ব্যাংকের ম্যানেজার ও ইবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন তোতা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন, ইবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহিল ওয়াত্রিশ মিরাজ, ইবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক শরিফুল ইসলাম জুয়েল, ইবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুদ্র এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর কালো ব্যাজ ধারণ এবং জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনার ফাঁকে-ফাঁকে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর জীবনীর উপর ডকুমেন্টারি এবং বদলে যাওয়া ইবির প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড