• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘দৈনিক অধিকারে’ সংবাদ প্রকাশের পর চবির রেললাইনের সংস্কার কাজ শুরু

  মাহবুব এ রহমান, চবি প্রতিনিধি

০৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৬
চবি
রেললাইন সংস্কারের কাজ শুরুর আগে ও সংস্কার কাজ চলছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বাহন শাটল ট্রেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে রেললাইনটি। পাশাপাশি রেললাইনের ব্রিজে রড-কাঠের বদলে দেওয়া হয়েছিল বাঁশ! গেল ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ‘নড়বড়ে রেললাইনে চলছে চবির শাটল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয় দৈনিক অধিকারে। এ সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের লাইন দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার হয়নি। রেললাইনের অনেকগুলো কালভার্টে রড-কাঠের বদলে দেওয়া হয়েছে বাঁশ! এছাড়া লাইনে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পাথর।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার লাইনে ছোট বড় ৩১টি কালভার্টের মধ্যে অনেকগুলো আবার একদম ফাঁকা। রড-কাঠ বা বাঁশ কিছুই নেই।

ছবি

রেললাইন সংস্কারের কাজ শুরুর আগে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কালভার্টে বাঁশ কতটুকু কাজে আসে, সে প্রশ্নের জবাবে শাটল ট্রেনের সহকারী চালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, কালভার্টগুলোতে বাঁশ যে লক্ষ্যে দিয়েছে তা আসলে কোনো কাজে আসছে না। কারণ কাঠ বা রডের কাজ বাঁশ দিয়ে হয় না।’

আরও উল্লেখ করা হয়, ‘রেললাইনের অনেকাংশে ক্লিপ-হুক ও নাটবল্টু চুরি, স্লিপার পচে যাওয়া, স্লিপারের হুক উঠে আসা, লাইনের নিচের মাটি ও পাথর সরে যাওয়া নিয়মিত ঘটছে। ফলে ট্রেনের লাইনচ্যুতির মতো ঘটনা যেকোনো সময় হতে পারে। আর সে ঝুঁকি মাথায় নিয়েই প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করছে। রেললাইনের চৌধুরীহাট, পাঁচলাইশ এলাকা দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় ট্রেন একদিকে ঝুঁকে পড়ে। এছাড়া, আশপাশের বস্তি এলাকায় খড়কুটো রেললাইনের ওপরেই শুকাতে দেখা গেছে। যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সংবাদ প্রকাশের পরের দিনই থেকেই তুলে নেওয়া হয় ব্রিজের বাঁশ এবং শুরু হয় রেললাইন পরিস্কারসহ অন্যান্য সংস্কার কাজ। যা এখনো চলমান।

এরই প্রেক্ষিতে গেল বুধবার (২৪ জুলাই) সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের শাটলে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। পরে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক সভায় মিলিত হন।

ছবি

সংস্কার কাজ চলছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

তিনি বলেন, ‘আমি শাটল ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছি। শাটলট্রেনের সমস্যাগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রাথমিক সমস্যাগুলো খুব দ্রুতই সমাধান করা হবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যার কথা চিন্তা করে বর্তমান ট্রেনগুলোর পাশাপাশি আমরা এই রুটে ১৫ থেকে ১৬ বগির নতুন এবং আধুনিক একটি ট্রেন দেব। যেটাতে ওয়াইফাই, পাখা, চেয়ার কোচ, ওয়াসরুমসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে এবং শিক্ষকদের জন্য মানসম্মত যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি স্টেশনগুলোর উভয় পাশে ছাউনির ব্যবস্থা করা হবে এবং রেললাইন সংস্করণেরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী দৈনিক অধিকারকে বলেন, রেললাইনের সার্বিক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যে সমস্যাসমূহ ছিল তা দূর হয়েছে। কিছু সংস্কার কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন। অতি শিগগিরই সব কাজ শেষ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আরও পড়ুন : নড়বড়ে ট্রেনলাইনে চলছে চবির শাটল

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected].com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড