• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঢাকা কলেজের পুকুরে লাল শাপলার হাসি

  মো. রাকিবুল হাসান তামিম, ডিসি প্রতিনিধি

০৩ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৭
ঢাকা কলেজ
পুকুরের বিস্তীর্ণ পানিতে লাল শাপলার হাসি

দেশের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজর পুকুরের বিস্তীর্ণ পানিতে স্বল্প পরিসরে ফুটেছে লাল (রক্ত) শাপলা। সকালের নতুন সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সদ্য ফোঁটা লাল শাপলার হাসিতে রোদ ঝলমলে সকালটা যেন অন্য দশটি সকালের চেয়ে ভিন্নতার সাক্ষ্য দেয়। লাল শাপলার হাসির আভায় মুহূর্তেই যেন দর্শনার্থীদের মুখেও ছড়িয়ে পড়ে ঝলমলে হাসি। সেই হাসিতেই ক্ষণিকের জন্য হলেও মুছে যায় দুঃখ-গ্লানি। সকল জীর্ণতার বেড়াজাল ছিন্ন করে নতুনত্বের আভাস ছড়ানো লাল শাপলার হাসিতে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। ঢাকা কলেজের ক্যাফেটেরিয়ার পাশের পুকুরের পাড় সংলগ্ন অগভীর পানিতে সেই রক্ত শাপলার চোখ জুড়ানো হাসির দেখা মিললো।

ফুটন্ত ফুলের পাশেই আরও কলি পানি থেকে মাথা বের করে পূর্ণ ফুল হয়ে ফোঁটার প্রহর গুনছে। এ যেন সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে পুকুরের বিশাল জলরাশি। ভোরের সূর্যের আলোয় ফুটন্ত শাপলার চোখ জুড়ানো হাসি আশপাশের পরিবেশকে যেন আরও আলোকিত করে দেয়। মুগ্ধতা ছড়িয়ে পরিবেশকে আরও আপন করে নেবার আয়োজন যেন উপচে পড়ছে। প্রকৃতি যেন তার নিজ হাতে ফুটন্ত লাল শাপলার হাসিকে সাজিয়ে দিয়েছে। লাল শাপলা যখন বিলুপ্তির পথে তখন শহরাঞ্চলের পুকুরে লাল শাপলার উপস্থিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থী সবাইকেই বিমোহিত করেছে।

ছবি

পুকুরের বিস্তীর্ণ পানিতে স্বল্প পরিসরে ফুটেছে লাল শাপলা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের দেশে আবহাওয়াগত দিক থেকে সাদা, লাল, বেগুনী, হলুদ ও নীল এই পাঁচ রঙের শাপলা আমদের দেশে জন্মালেও লাল এবং সাদা দুই ধরনের শাপলা বেশি দেখা যায়। গ্রামবাংলার আনাচে কানাচে হাওড় বিলে ঝিলে পুকুরে ডোবায় অহরহ দেখা মিলতো এ জলে ভাসা ফুলের, কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল। বিভিন্ন ধরনের ফুলের সৌন্দর্য বাংলার বৈচিত্র্যময়তাকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছে।

ঢাকা কলেজের ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক সোহাগ বলেন, অনেক বছর ধরে এই পুকুরে লাল শাপলার উপস্থিতি। আরও আট-দশ বছর আগে অনেক লাল শাপলা ফুটত। সকাল বেলায় সদ্য ফোঁটে থাকা লাল শাপলা দেখলে মনে হতো যেন লালগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে পুরো পুকুর জুড়ে। চোখ জুড়িয়ে যেত সেই দৃশ্য দেখে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গত কয়েক বছর ধরে অযত্ন, অবহেলা, মাছ চাষের সুবিধার জন্য কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে এখন লাল শাপলার উপস্থিতি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া এর সংরক্ষণেও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

ছবি

কলি পানি থেকে মাথা বের করে পূর্ণ ফুল হয়ে ফোঁটার প্রহর গুনছে (ছবি : দৈনিক অধিকার) 

ঢাকা কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল বলেন, কলেজের পুকুরে সদ্য ফোটা লাল শাপলা আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতেই ক্লাসে যাবার আগে বা পরে এখানে ছুটে আসি। মৃদুমন্দ বাতাসে লাল শাপলার হাসিতে মূহুর্তের জন্য হলেও ভিন্ন এক জগতে প্রবেশ করি।

বিভিন্ন রকম ফুলের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুলের স্বীকৃতি নিয়ে ‘শাপলা’ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুলও এই শাপলা। শ্রীলঙ্কায় শাপলাকে নীল-মাহানেল বলে ডাকা হয়। ইংরেজিতে শাপলা বলা হয় 'Water lily'। যার বৈজ্ঞানিক নাম (Nymphea nouchali)।

শাপলা ফুল দিনের বেলা ফোটে এবং সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। শাপলার পাতা আর ফুলের কাণ্ড বা ডাটি বা পুষ্পদণ্ড পানির নিচে মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির ওপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। পাতার সাইজ ২০ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার এবং এদের ব্যাপ্তি প্রায় ০.৯ থেকে ১.৮ মি। শাপলা ফুল নানা রঙয়ের দেখা যায় যেমন : গোলাপী, সাদা, নীল, বেগুনী ইত্যাদি। এই ফুলে ৪ থেকে ৫টি বৃতি থাকে ও ১৩ থেকে ১৫টি পাঁপড়ি থাকে। ফুলগুলো দেখতে তারার মতো মনে হয়। কাপের সমান বৃতিগুলো ১১-১৪ সেমি হয়ে থাকে। প্রায় বছরের সব সময় শাপলা ফুটতে দেখা যায় তবে বর্ষা ও শরৎ এই উদ্ভিদ জন্মানোর শ্রেষ্ঠ সময়।

ছবি

লাল শাপলার হাসি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঢাকা কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, শাপলা বর্ষাকালে জন্মে ও ফুল ফোঁটে। জুন মাসের শেষের দিকে ফুল ফোঁটা শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়। জাতীয় ফুল শাপলা সাধারণত আবদ্ধ অগভীর জলাশয়, খাল-বিলে জন্মে থাকে। শাপলা ফুলের বংশবৃদ্ধি মূলত শিকড় থেকেই হয়ে থাকে।

সবকিছু ছাপিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থী সবাইকেই পুকুরের সামনে দিয়ে যাবার সময় লাল শাপলার সৌন্দর্যের মায়ায় একনজর থমকে দাঁড়াতেই হয়। কেননা সৃষ্টিগতভাবেই ফুলের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের অমোঘ বন্ধন। তাই ফুলের জাদুকরী বৈশিষ্ট্য মানুষকে সহসাই কাছে টানে।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড