• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

সহনীয় মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতুতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

  বাকৃবি প্রতিনিধি

২২ জুলাই ২০১৯, ২২:১১
বাকৃবিতে সেমিনার
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দেশে উদ্ভূত সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দুধ ও দুগ্ধজাতসহ যেকোনো খাদ্যদ্রব্যেই নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকলেই তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলা যাবে। সহনীয় মাত্রার বেশি না হলে তা মানবদেহের ক্ষতির কারণ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম।

সোমবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দেশে উদ্ভূত সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ‘দুধে স্বভাবতই কিছু ব্যাকটেরিয়া বা নানা কারণে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা বিভিন্ন ধাতুর উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। দুধের ক্ষেত্রে ভারী ধাতুর সহনীয় মাত্রা লেড .০১ পিপিএম, ক্যাডমিয়াম .০০৩ পিপিএম, মার্কারি .০০১ পিপিএম আর্সেনিক .০১ পিপিএম।’ 

অধ্যাপক আরও বলেন, ‘অঞ্চল ও পরিবেশ ভেদে এবং গবাদিপশুর খাদ্যাভ্যাসের ওপর দুধে কী পরিমাণে জীবাণুর উপস্থিতি থাকবে, তা নির্ভর করে। দুধের এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করে গবেষণার ফল প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও শঙ্কার সৃষ্টি হবে, যা মধ্যম আয়ের দেশে দুগ্ধ শিল্পের মতো ক্রম বিকাশমান একটি শিল্পের জন্য মোটেই সুখকর নয়। মানুষ ফল-সবজিতে ফরমালিনের উপস্থিতির মতো অযথা আতঙ্কিত হবে, পুষ্টিকর দুধ খাওয়া কমিয়ে দেবে এবং দুগ্ধ শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।’

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে ড. মো. নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দুগ্ধজাত পণ্যে মানব স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও থাকে। দইয়ে থাকে উপকারী ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া। কাঁচা তরল দুধে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকা খুবই স্বাভাবিক। পাস্তুরায়ণের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্যাথজেনিক (রোগ সৃষ্টিকারী) ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণভাবে মেরে ফেলা। গবেষকদের দেখা উচিত প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া পাস্তুরিত দুধে আছে কি না? তবে পাস্তুরিত দুধে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে গুদামে কিংবা দোকানে কোল্ড চেইন বজায় না রাখা। পরীক্ষার সময় মাথায় রাখতে হবে সমস্যাটি কোথা থেকে আসছে কৃষক পর্যায়ে, প্রক্রিয়াজাতকরণে নাকি বিপণন ব্যবস্থায়।’


চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গবাদি পশুর চিকিৎসা কিংবা রোগ প্রতিরোধে কয়েক দশক ধরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে গাভির শরীর পুরোপুরি মাত্রায় তা শোষণ করতে পারে না। এ কারণে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক মল- মূত্রের সঙ্গে এবং কিছু দুধের মধ্যে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুগ্ধবতী গাভীকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে বিশেষ সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেবল সহনীয় মাত্রার বেশি পাওয়া গেলেই তা খাবার অনুপযোগী বলে গণ্য হবে।’

ইতোমধ্যে গত ১৯ জুলাই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যর গুণগত মান নির্ণয় করা, গবেষণালব্ধ ফলাফল সম্বলিত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা এবং প্রাসঙ্গিক একটি সুপারিশ প্রদান করার লক্ষে বাকৃবিতে জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের আওতায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। উপরিউক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে টাস্কফোর্সকে কাজ করার কথা বলেন বক্তারা।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড