• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা কলেজ

  মো. রাকিবুল হাসান তামিম, ডিসি প্রতিনিধি

১৫ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩৪
শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট
ঢাকা কলেজ (ছবি : সংগৃহীত)

উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৭৮ বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের বিদ্যাপিঠ ঢাকা কলেজ এখন নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। চাহিদার আলোকে দিনকে দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও হয়নি অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন, উন্নত হয়নি পরিবহন ব্যবস্থা, বাড়েনি হলের সংখ্যা।

বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর আনাগোনায় প্রতিদিন মুখরিত হয় ক্যাম্পাস। কিন্তু এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নেই পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে রয়েছে প্রবল আবাসন সমস্যা।

ঢাকা কলেজের নানামুখী সঙ্কটের কথা জানাচ্ছেন দৈনিক অধিকারের ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান তামিম।

শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট

বর্তমানে ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছ। তিনটি অনুষদের অধীনে রয়েছে ১৯টি বিভাগ। এর মধ্যে উদ্ভিদবিদ্যা, সমাজ বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান এবং আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ মূল প্রশাসনিক ভবনের বাইরের ভবনে হলেও বাকি ১৫টি বিভাগ মূল ভবনে।

যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেবার জন্য রয়েছে ১০টি গ্যালারি এবং মাত্র ৪২টি শ্রেণিকক্ষ। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৪২টি শ্রেণিকক্ষ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এ সকল শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকায় অনেক সময়ই দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয় তাদের। এক ব্যাচের ক্লাস শেষ হতে না হতেই আবার পরবর্তী ক্লাসের শিক্ষার্থীরা বাইরে অপেক্ষমান থাকে।

ছবি

ছাত্রাবাসগুলোর আশেপাশের পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আবার সারা বছর কোনো না কোনো বিভাগ বা বর্ষের পরীক্ষা থাকে। যার ফলে খুব বেশি ক্লাসের সুযোগও থাকে না। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর মূল ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থাও বেশ জরাজীর্ণ। নিচতলায় ১০৬ নাম্বারসহ বেশ কযেকটি কক্ষের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ছে। দেখা যায় ভেতরের রড। গ্যালারির সঙ্গে দোতলার ওঠার সিড়িতে নেই কোনো বৈদ্যুতিক বাতি।

আবার প্রশাসনিক ভবনের পেছনের দিকে ময়লা আবর্জনা আর আগাছায় ভরপুর। অপরিষ্কার ঢাকনাবিহীন ড্রেনে দেখা যায় মশার কীট। দিনের বেলায় শ্রেণিকক্ষে মশার কামড়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগের বিঘ্ন ঘটে বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে আবার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গী হয়েছে সেশনজট।

পরিবহন সঙ্কট চরমে

ঢাকা কলেজে পরিবহন সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য মাত্র চারটি বাস বরাদ্দ থাকায় বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে আবার অনেক সময় গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নানা কারণে চারটি বাসও ঠিকমতো শিক্ষার্থী পরিবহন করতে পারে না। ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই হাজার শিক্ষার্থী কলেজের আবাসিক হলে থাকে। প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকে। তাদের জন্য মাত্র চারটি বাস রয়েছে। প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বাস রয়েছে মাত্র একটি। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজে যাতায়াত করে। এছাড়াও পরিবহন সঙ্কটের ফলে শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিতি হতে পারে না।

যার প্রেক্ষিতে পরিবহন সঙ্কট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুই দফা আন্দোলনের পর দুটি বাস চালু করার কথা থাকলেও এখনো তার কোনো ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। কলেজ প্রশাসন বলছে, বিআরটিসি থেকে ভাড়ায় গাড়ি এনে চালানোটা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তাই উপহার বা অনুদান হিসেবে দুটি বাস আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছবি

অপরিষ্কার ঢাকনাবিহীন ড্রেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পরিবহন সঙ্কটের ফলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় থাকেন ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি পরিবহনের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতো তাহলে শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হতো। কারণ তীব্র জ্যাম ঠেলে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কলেজে যাতায়াত করা খুব কঠিন। তাই আশা করব কলেজ প্রশাসন এ সঙ্কট মোকাবিলায় আরও দায়িত্ববান হবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন সঙ্কটের ব্যাপারে পরিবহন সমন্বয়ক ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিবহন সঙ্কট নিরসনে কলেজ প্রশাসন যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন এই সঙ্কট দ্রুত নিরসন করা যায়।

জরাজীর্ণ আবাসন ব্যবস্থা

আবাসন সঙ্কটে ভুগছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি। আর এই ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কলেজটিতে রয়েছে মাত্র ৮টি ছাত্রাবাস (দক্ষিণ ছাত্রাবাস, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস, শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস, ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রাবাস, উত্তর ছাত্রাবাস, পশ্চিম  ছাত্রাবাস ও নবনির্মিত শেখ কামাল ছাত্রাবাস।

ছবি
ছাদের পলেস্তার খসে পড়ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

এর মধ্যে আক্তারুজ্জামান ইলিয়াছ ছাত্রাবাস এবং শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস এবং আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। অনেক ছাত্রাবাসের ভবনের বাইরের দেওয়ালের এবং ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই উত্তর ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলার অনেক কক্ষেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। আর সব ছাত্রাবাসগুলো মিলিয়ে ধারণ ক্ষমতা মাত্র দুই হাজার হলেও এখানেই গাদাগাদি করে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী বসবাস করছে। নেই পর্যাপ্ত টয়লেট, গোসলখানা, রিডিংরুম, এবং স্বাস্থ্যসম্মত ডাইনিং ব্যবস্থা। আর ছাত্রাবাসগুলোর আশেপাশের পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে হওয়ায় মশার উপদ্রব প্রচুর। রাতে মশার উপদ্রবে ঠিকমতো পড়াশোনা বা ঘুমানো সম্ভব হয় না। অনেক শিক্ষার্থীই আবার মশার কামড়ে প্রায়শই ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড