• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ রোমাঞ্চ

  মাহবুব এ রহমান

০১ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৩
চবি
চবি শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট উন্মাদনা (ছবি : সংগৃহীত)

ক্রিকেটের সব চেয়ে বড় আসর আইসিসি বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের লর্ডস, কার্ডিফ, এজবাস্টন, টনটন কিংবা সাউদাম্পটনের গ্যালারি ছাপিয়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ রোমাঞ্চে ভাসছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা পতপত করে উড়ছে ইংল্যান্ডের আকাশে। রক্তে কেনা সেই পতাকার দাপুটে প্রতিনিধিত্ব করছেন তামিম, সাকিব ও মাশরাফিরা। দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহর-বন্দর সব দিকে বিশ্বকাপ জোয়ার। সবার  মুখে মুখে টাইগার বন্দনা। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও চোখে পড়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এক অনন্য রোমাঞ্চকর দৃশ্য। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ভিনদেশি পতাকার ছড়াছড়ি না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ক্রিকেট আলোচনা। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস, ক্যাম্পাস কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরেও লাল-সবুজের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ান। ঝুপড়ি, হলের ডাইনিং, ক্লাসরুম, কিংবা সেমিনার রুমেও চলে ক্রিকেট বিশ্লেষণ। হলের রুমে ঝুলে প্রিয় ক্রিকেটারদের ছবি। যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকে, সেদিন হলের টিভিরুমে তিলধারণের জায়গা থাকেনা। প্রিয় দলের খেলা দেখতে সবাই বসে যান টিভি সেটের সামনে। যেই না বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় বাউন্ডারি হাঁকায় কিংবা প্রতিপক্ষ দলের উইকেট ভাঙ্গে অমনি সজোরে চিৎকার! বাংলাদেশের জয়ে মিছিলও বের হয় বিভিন্ন হল থেকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘ক্রিকেট অনেক বড় একটা আবেগের জায়গা। আমাদের দেশকে বিশ্ব দরবারে সগৌরবে উপস্থাপন করছে এ ক্রিকেট। এক সময় গ্রামে খেলা দেখতাম। তখনকার বিনোদনটা ছিলো অন্য রকম। আর এখনকারটা সেসময় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের হলে বসে বড় ভাই-ছোট ভাইদের সঙ্গে যখন খেলা দেখি তখন নিজেকে অনেক বড় ভাগ্যবান মনে হয়। কখনও কখনও ক্রিকেটারদের সাফল্যে ফেসবুকে একের পর এক আবেগী পোস্ট করা, বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে গেলে সবাই মিলে বিজয় মিছিল করা, সে এক অন্যরকম আনন্দ।’ 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায় শিক্ষকদের মধ্যেও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনুভা রহমান শীলা বলেন, ‘শত বছর ধরে ক্রিকেট নামক সাহেবী খেলার দেশগুলোর সামনে বাংলাদেশ সদ্যোজাত হতে পারে তবে এদেশ কম শক্তিশালী নয়। বিশ্ব দরবারের খেলার জগতে আমার দেশের বিস্ময় জাগানিয়া পারফরমেন্স আমাদের যে পরিচিতি দিয়েছে তা কতখানি উদ্বেলিত করে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান কে আমরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেও আসন্ন তালিকায় থাকা ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দুটি নিয়েই আমার আগ্রহ বেশি। দুরুদুরু শংকার সঙ্গে খেলা দুটিতে জিতে যাওয়ার চরম তেষ্টা আমাকে অধৈর্য করে তুলছে! ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের জন্য অফুরান ভালোবাসা, দোয়া ও শুভ কামনা।’ 

একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা সুকন্যা বাশার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমি অপেক্ষা করি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য। খেলোয়াড়দের মানসিক জোর আমাকে মুগ্ধ করে দারুণভাবে। ক্রিকেট গেইম প্ল্যান নির্ভর একটি খেলা হলেও ভাগ্যের হেরফেরে জিতে যাওয়া খেলায় হেরে যেতে হয়- এ বিষয়টা মনে বেশ দাগ কাটে। বাংলাদেশের খেলা যেদিন থাকে সেদিন অন্যান্য কাজগুলো আগেই সেরে রাখি যেন খেলা ছেড়ে উঠতে না হয় একবারও। দেশের জার্সির সঙ্গে কয়েক পদের নাস্তা আর পানি নিয়েই খেলা দেখতে বসে যাই সবাই।’

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড