• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা

  গণবি প্রতিনিধি

২৪ মে ২০১৯, ১৮:৩৮
গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) উপাচার্য সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে মধ্যরাতে এমন আভাস দেয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল।

এছাড়া আলোচনা শেষে আন্দোলনকারীরা ছয়টি দফাও ঘোষণা করেন। এতে তারা উপাচার্য নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার দাবিতে অটল থাকলেও ক্লাস টেস্ট ও মিডটার্ম পরীক্ষার ব্যাপারে শিথিলতা দেখান। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ ধারীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করে উপাচার্য নিয়োগের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার শর্তে লিখিত দেয়ার দাবি জানায়।

আন্দোলনকারীদের নেয়া সিদ্ধান্তসমূহ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো। 

১. দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্যার, সাবেক উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন স্যার সহকারে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করে ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে আলোচনা করে কিংবা তাদের সম্মতিতে নতুন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বাসযোগ্য করে এই উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া তদবির, তদারকি করে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত তরান্বিত করার জন্য লিখিত দায়িত্ব নিতে হবে। যেখানে উপাচার্য নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত না হলে বা বাধাগ্রস্ত হলে এই কমিটিকেই জবাবদিহি করতে হবে এবং সমস্যা সমাধান করার দায়িত্ব নিতে হবে।

২. আমাদের উপাচার্য নিয়োগ কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং সামনের পদক্ষেপগুলো কিভাবে নেয়া হবে এবং সম্ভাব্য সময় উল্লেখপূর্বক নোটিশ কিংবা প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

৩. যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বয়ং-সম্পূর্ণভাবে এখন উপাচার্য নিয়োগের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পেতে আরও কিছু সময় ক্ষেপণের প্রয়োজন হবে এবং পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। সুতরাং চূড়ান্ত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা যাবে না এবং উপাচার্য নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে এ নিশ্চয়তা প্রাপ্তির পরবর্তী ৩ (তিন) সপ্তাহ বা ২১ দিন পর হইতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ করতে হবে।

৪. আমাদের বৈধ উপাচার্য চাই আন্দোলন এবং আলোচনা চলমান থাকবে। শুধুমাত্র ক্লাস টেস্ট, মিড টার্ম পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত শিথিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচল অবস্থা সচল অবস্থায় ফিরে আনতে সমর্থন দেয়া হবে তবে যে কোনো দায়িত্বহীনতার জন্য আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত থাকব।

৫. যেহেতু অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন এবং অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি এবং দেশের বিভিন্ন দূর দূরান্তের বাড়িতে অবস্থান করছে যেখানে আগামী ঈদকে সামনে রেখে যাতায়াত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং বর্তমানে যারা ক্লাস পরীক্ষা দিবে এবং যারা দিতে পারবে না তাদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে সুতরাং যারা ক্লাস পরীক্ষা দিতে পারবে না তাদের পরবর্তীতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে মর্মে নোটিশ উল্লেখ করতে হবে।

৬. আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীগণ সহ সকল শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম, টিউটোরিয়াল, ভাইবা সহ আগামী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় কোনো হেনস্থা বা বৈষম্য করা যাবে না। এর নিশ্চয়তা নোটিশে উল্লেখ করতে হবে এবং এই কমিটিকে দায়িত্ব নিতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত উপাচার্যের দাবিতে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে গত ৬ এপ্রিল থেকে টানা আন্দোলন করে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড