• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

রোগীর চোখের ইশারায় চলবে বায়োনিক হুইলচেয়ার

  মো. আজমউদ্দীন, পিসিআইইউ প্রতিনিধি

১৮ মে ২০১৯, ১৪:১২
বায়োনিক হুইলচেয়ার
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও তার বায়োনিক হুইলচেয়ার (ছবি : সংগৃহীত)

বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বিশ্ব। প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেই এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না এই বিশ্বে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই (ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তৈরি করেছেন বায়োনিক হুইলচেয়ার। যা সম্পূর্ণ রোগীর চোখের ইশারায় পরিচালিত হবে।

কালের পরিক্রমায় আমাদের বয়স বাড়ছে। এছাড়া, বাংলাদেশে প্রায় সময় বিভিন্ন বাহিনী যুদ্ধে গিয়ে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা হারাচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। হাত-পা হারানোর পর তারা অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে পঙ্গু অবস্থায় জীবনযাপন করে। এছাড়াও অনেকেই সঠিক পরিচর্যার অভাবে মারা যাচ্ছেন। তাদের এই নিঃসঙ্গ জীবনে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্যই এই বায়োনিক হুইলচেয়ার।

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০১৯ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি ইউনিভার্সিটির রোবোলিউসান-২০১৯ তে এই প্রজেক্টটি প্রথম রানার্স আপ হয়। 

এই চেয়ারটি মূলত প্যাঁরালাইজড রোগীদের জন্য বানানো। তাই সব ধরনের প্যারালাইজড রোগীদের কথা চিন্তা করে এটিতে এমন সব ফিচার রাখা হয়েছে যার ফলে যেকোনো ধরনের প্যারালাইজড রোগী এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

সব ধরনের প্যারালাইজড রোগীদের কথা মাথায় রেখে এর মধ্যে রাখা হয়েছে ছয় ধরনের কন্ট্রোলিং সিস্টেম- ১. চোখের ইশারা, ২. মাইন্ড ওয়েভ (মনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত) সিস্টেম ৩. হাতের নড়াচড়ার মাধ্যমে, ৪. ভয়েসের মাধ্যমে, ৫. জয়স্টিকের মাধ্যমে এবং ৬. মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এটিকে কন্ট্রোল করা যাবে।

বাজারে তো অনেক ধরনের হুইলচেয়ার আছে, কিন্তু এমন কি আছে এই বায়োনিক হুইলচেয়ারে যার জন্য চেয়ারটিকে বাজারের অন্য সব চেয়ারগুলোর চাইতে সেরা ভিন্ন রকমের বলা হচ্ছে? এই চেয়ারের আউটপুট ফিচারগুলো দেখলেই পেয়ে যাবেন আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর। আউটপুটের কথা বলতে গেলে প্রথমেই চলে আসে এই চেয়ারের মধ্যে থাকা ‘পেশেন্ট মনিটরিং সিস্টেম’ এর কথা।

এখানে ‘পেশেন্ট মনিটরিং সিস্টেম’ জিনিসটা আসলে কি? এটি এমন একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে ডাক্তার বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে রোগী চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় রোগীকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে পারবে। পেশেন্ট মনিটরিংয়ের জন্য এই চেয়ারে রয়েছে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই চেয়ারে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা, আদ্রতা, হার্টবিট এবং এর বাইরে অন্য কোনো কারণে রোগী উত্তেজিত হয়ে ছটফট শুরু করলে তা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আছে।

ইউনিভার্সিটি

বায়োনিক হুইলচেয়ার (ছবি : সংগৃহীত)

এখানে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা এবং আদ্রতা মনিটরিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে টেম্পারেচার এবং হিউমিডিটি সেন্সর। রোগীর হার্টবিট মনিটরিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে হার্টরেট মনিটরিং সেন্সর। এই সেন্সরের সাহায্যে হার্টবিট ডিটেকশনের পাশাপাশি এমন ব্যবস্থা রেখেছে যেনো রোগীর হার্টবিট অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তার এবং রোগীর আত্নীয়-স্বজনদের মোবাইলে অটোম্যাটিক্যালি মেসেজ এবং মেইল চলে যাবে। এছাড়া, রোগী যদি কোনো কারণে ছটফট করতে শুরু করে (খিঁচুনি) তা ডাক্তার এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের জানানোর জন্য মোবাইলে অটোম্যাটিক মেসেজ এবং মেইল চলে যাওয়ার সিস্টেম রয়েছে।

এছাড়া, ইমারজেন্সি কোনো কারণে রোগী যদি কাউকে কোনো কিছু জানাতে চায় তার জন্য চেয়ারে একটি ইমারজেন্সি পুশবাটন রয়েছে। এই বাটন প্রেস করা মাত্রই ডাক্তার এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইলে অটোম্যাটিক্যালি (ইউর পেশেন্ট ইজ ইন সিরিয়াস কন্ডিশন, প্লিজ আরলি টেক সাম স্টেপস) মেসেজ এবং মেইল চলে যাবে।

এই চেয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে মেডিসিনরি মাইন্ডার নামের একটা বক্স। এই বক্সের মধ্যে ছোট ছোট আরও ছয়টি বক্স থাকবে এবং ঐ ছয়টি বক্সে থাকবে রোগীর ছয় বেলার ঔষধ, যখনি ঔষধ খাওয়ার সময় হবে ঠিক তখনি অটোম্যাটিক্যালি বক্সে এলার্ম বেজে উঠবে এবং যেই বেলার ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে ঠিক ঐ বেলার বক্সের এলইডি জ্বলে উঠবে এবং ঔষধের নামসহ সেবিকার মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে যে রোগীকে ঔষধ খাওয়ানোর সময় হয়েছে।

পরবর্তীতে অটোম্যাটিক্যালি মেডিসিন রিমাইন্ডার বক্সের ছয়টি বক্স থেকে যেই বেলার ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে ঠিক ঐ বক্সটা খুলে ঔষধ বের করে দেবে। পেশেন্ট মনিটরিং সিস্টেমে রোগীর সব ডাটা ওয়েবসাইটে প্রদর্শন এবং ভবিষ্যতে কোনো কারণে আগের ডাটা দেখার জন্য রাখা হয়েছে বর্তমান যুগে সব চাইতে বেশি আলোচিত (আইঅটি) ইন্টারনেট অব থিংকস সিস্টেম।

পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে এই বায়োনিক হুইলচেয়ারটি বানানোর জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এটি বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এর খরচ আরও কমিয়ে আনা যাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে আমি একটা কথাই বলব, ‘প্রাইভেট-পাবলিক ভার্সিটি কোনো ফ্যাক্ট না। কখনো হতাশ হবে না, সিজিপিএ বাড়ানোর পাশাপাশি প্র্যাক্টিকালি কাজ করো, যোগ্যতা অর্জন করো, ইনশাআল্লাহ্ জীবনে সফল হবে।’

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড