• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ক্যাসিয়া রেনিজেরার রূপে মাতোয়ারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি

১৪ মে ২০১৯, ১৪:১৯
জাবি
ক্যাসিয়া রেনিজেরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার সবুজ প্রকৃতি সহজেই বিমোহিত করে সবাইকে। বৈশাখের প্রখর রোদে যখন ঘেমে-নেয়ে দিশাহারা শিক্ষার্থীরা, চারিদিকে রুক্ষভাব ঠিক তখনই তাদের জন্য অপরূপ সৌন্দর্য মেলে ধরেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাসিয়া রেনিজেরা। গরমে অতিষ্ঠ পথচারী ও দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে চলেছে জাপানের এই জাতীয় ফুলটি।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাথা উঁচু করে সৌন্দর্য বিলানো এই ফুল চেরি ফুল নামেও পরিচিত। ক্যাম্পাসে আগত দর্শনার্থীদের এখন মূল আকর্ষণ এই ফুল। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যেন হয়ে উঠেছে স্বপ্নপুরী। চারদিকে এখন ফুলের মিষ্টি সুবাস। ফুল, ফল, পাখি, প্রাকৃতিক জলাধার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির অমলিন ভাস্কর্য আর নান্দনিক অট্টালিকার এই ক্যাম্পাস এখন যেকারো মন ভরিয়ে দেবে।

রাজধানী ঢাকায় ইট-পাথরের অট্টালিকায় থাকতে থাকতে যারা হাঁপিয়ে উঠেছে, তাদের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনাবিল আনন্দ উপভোগের স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতির রূপ, রস, সুবাস আর রঙের আভা প্রবলভাবে মোহিত করবে আগন্তুককে। এর মধ্যে ভিনদেশি ফুল ক্যাসিয়া রেনিজেরা ক্যাম্পাসের প্রকৃতিতে এক ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে, পুরাতন কলাভবনের ভেতরে, বেগম সুফিয়া কামাল হলের সামনে, শহীদ সালাম-বরকত হলের সামনে, জহির রায়হান অডিটোরিয়াম, চৌরঙ্গীসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফুটেছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা। চলতি পথে মানুষ থমকে দাঁড়াচ্ছে ক্যাসিয়ার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

জাবি

জানা যায়, ২০০২ সালে ড. এ আর খান বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করে ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্পটে তা রোপণ করেন। এর ফুল ও বীজ অনেকটা সিম আকৃতির প্রায় কালো রঙের লম্বা দণ্ডের ফল। ফুলের ভেতর গোলাকৃতি বীজ। আতা ও ডালিমগাছের সঙ্গে এর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে এর ডালপালা অতোটা ঘন নয়। তবে বেশ লম্বাটে।

শ্বেতশুভ্র এই ফুলের আদি নিবাস জাপান। বৈজ্ঞানিক নাম বার্মিজ পিংক ক্যাসিয়া । গাছের উচ্চতা হয়ে থাকে সাধারণত আট থেকে দশ মিটার। চিকন ঝোলানো ডাল। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ফুল আসে। বর্ষা ছাড়া বছরের মোটামুটি বেশিরভাগ সময়ই গাছ থাকে পাতাহীন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু করে এপ্রিল-মে পর্যন্ত ফুলের দেখা মেলে। ক্যাসিয়া দেখতে চেরি ফুলের মতো হলেও এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই ফুল ফোটার সময় গাছের সব পাতা ঝরে যায়। তখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। উপমহাদেশে দৃষ্টিনন্দন ক্যাসিয়া প্রজাতির প্রায় ৪০ প্রকার গুল্ম ও গাছের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে অন্তত ১৫টি প্রজাতি রয়েছে বলে জানা যায়।

ঢাকার মৌচাক এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। ক্যাসিয়া রেনিজেরা ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসের গ্রীষ্মের রূপ দেখে আমি সত্যিই অবাক। সারা ক্যাম্পাস সবুজ আর ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে। কৃষ্ণচূড়া আর জারুলে ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। আর এই ফুল (ক্যাসিয়া রেনিজেরা) তো জীবনে এই প্রথম দেখলাম। সত্যিই এই ফুল দেখে আমি মুগ্ধ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস এমন একটি জায়গা যেখানে ষড়ঋতুর আবহ স্পষ্ট ফুটে ওঠে। গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া ও জারুলের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা। সহজেই যে কাউকে বিমোহিত করতে পারে এই ফুল। আমি নিজেও এই ফুলে এতো বেশি বিমোহিত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’

জাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা হামিদ ঐশী বলেন, ‘গ্রীষ্ম এলেই ক্যাম্পাসে বাহারি রঙের ফুলের উৎসব শুরু হয়ে যায়। সঙ্গে সবুজের নতুন পাতা এক অপরূপ আবহ সৃষ্টি করে। এমন রূপ-লাবণ্যে ভরা রঙিন প্রকৃতির ক্যাম্পাসে পড়তে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হয়। সত্যিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি।’

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড