• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

গণ বিশ্ববিদ্যালয়

বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম, সেশনজটের আশঙ্কা

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০৮

গণবি
গণ বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বৈধ উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে গত ৬ এপ্রিল আন্দোলনে নামে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বছরে দুইবার এপ্রিল এবং অক্টোবরে সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার প্রেক্ষিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে নারাজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রতিনিয়তই নানাবিধ চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন তারা। সামনেই ৭ মে থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার শিক্ষার্থীদের ১০টি শর্ত অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের ২১ কার্য দিবস পরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এরূপ পরিস্থিতিতে সেশনজটের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অনেক অভিভাবক।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যনুযায়ী, গেল মার্চের শেষ সপ্তাহে ইউজিসির ওয়েবসাইটে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘরের সঙ্গে শূন্যস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নামের ওপরে লাল তারকা চিহ্ন লক্ষ্য করেন তারা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নেয়। নির্ধারিত তারিখে শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফল না আসায় ৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, প্রশাসনিক ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের ১০ দফা দাবি মানতে বাধ্য করে। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা এবং সকল ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এরপর গেল ১১ এপ্রিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেখানেও শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হয় ট্রাস্টি বোর্ড। ফলশ্রুতিতে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্তে অটুট থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বি ইবনে কাদের বলেন, ‘প্রায় ২ সপ্তাহ যাবত আন্দোলন করে যাচ্ছি আমরা, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট। এমন পরিস্থিতিতে বাসা থেকে চাপ আসছে। এমনভাবে চলতে থাকলে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছি আমরা।

ইংরেজি বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটু সদ্য ইচ্ছে থাকলেই তারা ইউজিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধানে আসতে পারেন। ডা. লায়লা পারভিনকে নিয়ে যেহেতু বিতর্ক রয়েছে তবে কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতদিন যাবত উনাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একরোখা সিদ্ধান্তে পড়ে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্তে আসা জরুরি। শিক্ষার্থীদের আগামীর কথা ভেবে কার্যকরী সিদ্ধান্তে আসার জন্য প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করব।’

এ প্রসঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানু জানান, ‘গত ৩ এপ্রিল আমাকে উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ দিন অর্থাৎ ২ মে এর মধ্যে ইউজিসি কোনো রিট দায়ের না করলে উপাচার্য হিসেবে আমি বৈধ। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

এ দিকে, গত ৩ এপ্রিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানুকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী নিয়োগে সহায়তাদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"গণবি".*')) AND id<>58525 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড