• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

বর্ষবরণ শেষে আবারও আন্দোলনে ববি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  বরিশাল প্রতিনিধি ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৩

ববি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলা নববর্ষ বরণ শেষে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ও ৮ দফা দাবিতে শিক্ষক সমিতি পৃথকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় উপাচার্যের পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপাচার্য বিরোধী চলমান আন্দোলনের ২১তম দিনে সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ অথবা পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন শিক্ষকরা। ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ববি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

চলমান আন্দোলনের বিষয়ে ববি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘বাঙালির প্রাণের উৎসব হলো নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান। এজন্য রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিন আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ছিল। তবে আমরা বৈশাখ বরণে যেসব কর্মসূচি পালন করেছি তার মাধ্যমেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এটিকে আন্দোলনের একটি অংশ বলা যায়।'

তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের একদিন পরে উপাচার্যের পদত্যাগ বা পূর্ণ মেয়াদে ছুটির দাবিতে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচি পালন শুরু করেছি। তবে দেশবাসী এখনও বৈশাখী উন্মাদনায় রয়েছে। তাদের কথা ভেবে আমরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে না গিয়ে আপাতত আগের মতো ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।'

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক ও তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ববি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, 'বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন। আমরা আমাদের ৮ দফা যৌক্তিক দাবি আদায়ে দু’ঘণ্টা করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছি।' দাবি না মানা হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচির আয়োজন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এজন্য ২৬ মার্চ থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন দমাতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে পানি সম্পদ

প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সিটি মেয়র এর উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকের পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও আন্দোলন

চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

সবশেষে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর ১৫ দিনের জন্য ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু ছুটির এই আবেদন লোক দেখানো দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে রেজিস্টার ড. হাসিনুর রহমান ও জনসংযোগ বিভাগের চলতি দায়িত্বে উপ-পরিচালক ফয়সল আহমেদ রুমিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং ভিসির পদত্যাগ দাবিতে চারবার বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। ভিসির পদত্যাগ বা পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"ববি".*')) AND id<>57913 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড