• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

ব্রেকিং :

জাবির বটতলায় হরেক পদের ভর্তার সমাহার

  আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি ২৩ মার্চ ২০১৯, ১২:০০

জাবি
হরেক রকম ভর্তার পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘এই যে মামা এই দিকে, ভর্তা আছে, হরেক পদের ভর্তা, ভর্তা দিয়ে মন মাতিয়ে দেব, দেব অন্যরকম স্বাদ, এরকম ভর্তা আর কোথাও পাবেন না, চলে আসুন’ দুপুর হতে না হতেই এমন হাঁকডাকে সরব হয়ে উঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা। হরেক রকম ভর্তার পসরা সাজিয়ে বসে দোকানিরা।

কী নেই সেই ভর্তা উৎসবে! বাদাম ভর্তা, সরিষা ভর্তা, পেঁপে ভর্তা, ডাল ভর্তা, শিম ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কালিজিরা ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ভেণ্ডি ভর্তা, টমেটো ভর্তা, আলু ভর্তা, লাউশাক ভর্তা, কলা ভর্তা, কচু ভর্তা, রসুন ভর্তা, ডিম ভর্তা, মরিচ ভর্তা। এছাড়াও ইলিশ মাছের ভর্তা, শুঁটকি মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, রুই মাছের ভর্তা, চিকেন ভর্তা, লইটা শুঁটকিসহ আরও অনেক ধরনের ভর্তা খেতে পারবেন একদম টাটকা। ক্যাম্পাসের বটতলায় খুব সস্তায় পাওয়া যায় এসব ভর্তা। প্রতিটি ভর্তার দাম মাত্র ৫ টাকা।

জাবি

এসব ভর্তা যেমন সুস্বাদু তেমনি এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগুণও

বাংলা খাবারের নাম আসলেই প্রথমেই আসে ভর্তার কথা। ঝাল ভর্তা দিয়ে আহার মনে এনে দেয় অতুলনীয় তৃপ্তি। ভর্তা খেতে পছন্দ করে না এমন হয়ত কাউকে পাওয়া যাবে না। বরং ভর্তা খাবারে বেশ রুচি আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অনেকের দৈনিক খাবারে ভর্তা থাকা চাই।

বটতলায় প্রায় ২৫-৩০টি খাবারের দোকান রয়েছে যার সবগুলোতে পাওয়া যায় এসব ভর্তা। এখানকার ভর্তা যেমন সুস্বাদু তেমনি এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগুণও। ৫ টাকা করে দাম দিয়ে আপনি অত্যন্ত ৩০-৩৩ প্রকারের ভর্তা খেতে পারবেন। জাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবেলা ভাতের পাতে ভর্তা না নিলে মনে হয় ভাত হজম হয় না।

জাবি

ঝাল ভর্তা দিয়ে আহার মনে এনে দেয় অতুলনীয় তৃপ্তি

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ভিড়। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে ছুটে আসেন ভর্তার স্বাদ চেখে দেখতে। ভর্তার পাশাপাশি পাওয়া যায় বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি, খাসির মাংস ও মগজ, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, মুরগির মাংস, রুই মাছ, ইলিশ মাছ, বোয়াল মাছ, পুঁটি মাছ, চাপিলা মাছ, শিং মাছ, বেলে মাছ, কাতলা মাছ, পাঙ্গাস মাছ, কালি বাউস মাছ, গজার মাছ ও তেলাপিয়া মাছ।

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বল্প মূল্যে খাবারের একমাত্র জায়গা হচ্ছে হলের ক্যান্টিন অথবা ডাইনিং, কিন্তু ব্যতিক্রম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে হলের ক্যান্টিন ছাড়াও বটতলাতে স্বল্প মূল্যে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসের বটতলায় খাবারের দোকানে একটু বেশি করে আয়োজন করা হয় হরেক রকমের ভর্তার। কেননা ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ভিড় নামে অতিথিদের।