• বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

  রাকিবুল হাসান তামিম

১৭ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৮
বঙ্গবন্ধু
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ছবি : সংগৃহীত)

আজ ১৭ মার্চ (রবিবার) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা বেগম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এক সমাবেশে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই এসেছে স্বাধীনতার সূর্য। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নানা দমন আর নিপীড়নের কাছে হার না মেনে সত্য আর ন্যায়ের পক্ষে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সমানতালে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু।

৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছেন। আর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তার ডাকে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা।

২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তার নামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের রাষ্ট্রপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় কেবল তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ আর সৎ নেতৃত্বের ফলেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির উন্নয়ন আর অগ্রগতি শুরু হয়েছিল। আজ বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি নিজ চোখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে পারতেন, কিন্তু বিপথগামী মানুষরা তার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে দেয়নি। তারা চেয়েছে তাকে চিরদিনের মতো শেষ করে দিতে। তবে ঘাতকেরা জানত না জীবিত বঙ্গবন্ধুর থেকে মৃত বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী মহীরুহে পরিণত হবেন। বাঙ্গালির হৃদয়ের গহীন অরণ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তরুণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের অভিব্যক্তি।

মতামত সংগ্রহ করেছেন দৈনিক অধিকারের ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান তামিম।

নাবিলা নাজ আমীন
সম্মান ১ম বর্ষ, সিএসই ডিপার্টমেন্ট,
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় 

পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি মিলেছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নানা ধরনের অত্যাচার আর নির্যাতনে দিশেহারা বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের আহ্বানে সঠিক পথের দিশা খুঁজে পেয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো মানুষের জীবন, মা-বোনের ইজ্জত আর সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষার পর স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করে বাঙালি জাতি। জন্ম হয় বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তখন হাহাকার। শক্ত করে দেশের হাল ধরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ভাঙা সেতু জোড়াতালি, রাস্তা নির্মাণ, শরণার্থীদের পুনর্বাসন, অভাবীদের খাদ্য বিলিয়ে দেওয়া— এর সবটাই করেছিলেন মানবতার বন্ধু বঙ্গবন্ধু মুজিব। একদিকে তিনি দেশকে নির্মাণ করার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আর স্বপ্ন দেখেছেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের, কিন্তু হায় তিনি সেই সমৃদ্ধি চোখে দেখে যেতে পারেননি। হায়েনার নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময় অমর হয়ে থাকবে বাঙ্গালীর হৃদয়ের মণিকোঠায়।

বাঙালি

নাবিলা নাজ আমীন

 

সাইফুল ইসলাম 
সম্মান ৪র্থ বর্ষ, বাংলা বিভাগ 
ঢাকা কলেজ, ঢাকা

আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি হাজার বছরের এই সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে। সম্ভবত জাতি হিসেবে আমরা খুবই দুর্ভাগা। বঙ্গবন্ধুর মতো গুণী মানুষের মূল্য আমরা দিতে পারিনি। যিনি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেন সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় আমরা হারিয়েছি বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। রাজনীতির আকাশে এক জ্বলজ্বল তারার পতনে মহাবিশ্ব শোকাহত হয়ে পড়েছিল।

উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতনে যারা কলকাঠি নেড়েছিল, তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দীর্ঘ সময় পর। বিশ্বের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা বেশ বিরল। বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আকাশের কালো মেঘ কেটে গিয়ে রক্তিম আভা ফুটে উঠেছে। রক্তিম আভায় একটি জাতির ঘুম ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু ঘোর কাটেনি নিশ্চিত! এখনো অনেকে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করে তাকে ইতিহাস থেকে বাদ দিতে চান। এটা কখনোই সম্ভব হবে না। বঙ্গবন্ধু আছে লাখো কোটি মানুষের হৃদয়ের গহীন অরণ্যে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বেঁচে থাকবে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে হাজারো বাঙালির হৃদয়ে।

বাঙালি

সাইফুল ইসলাম 

 

মো. আল-আমিন 
দ্বিতীয়  বর্ষ, ডিপার্টমেন্ট অব ইউনানি, 
সরকারি ইউনানি অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা। ছোট সময় থেকেই তার চরিত্রে ছিল যোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলী। পরবর্তী সময়ে নানা উত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ছাত্র নেতায় পরিণত হন। এ সময় সমাজে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। বাঙালি শেখ মুজিব ধর্মতান্ত্রিক ও সামরিক আধিপত্যবাদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছিলেন। মুসলিমপ্রধান বিশ্ব জনপদে তিনিই প্রথম একটি আধুনিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাঙালি

মো. আল-আমিন

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখু মুজিব প্রায়শই বলতেন এবং তিনি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, বাংলাদেশ এসেছে, বাংলাদেশ থাকবে, কেউ তাকে ধ্বংস করতে পারবে না। কারণ ৩০ লাখ মানুষের তাজা রক্ত বৃথা যেতে পারে না। লাখো নারীর সম্ভ্রম বৃথা যেতে পারে না। লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। এখন বঙ্গবন্ধু রাজপথের জয়বাংলা স্লোগান। বঙ্গবন্ধু এখন চেতনার নাম, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই সবুজের বুকে লালের সমাহার। বঙ্গবন্ধু মানেই চেতনার দীপ্তি, বঙ্গবন্ধু মানেই আমার হৃদয়ের গহীন অরণ্যে আনন্দের স্পন্দন।

আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড