• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভিন্ন পথে নোবিপ্রবির দিকে

  হিমেল শাহরিয়ার

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫০
নোবিপ্রবি
ভাঙ্গা রাস্তা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাস চলছে। জেলা শহর মাইজদি থেকে সোনাপুরের ব্যস্ততা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বাসের শেষ স্টপেজ। বছরের কাছাকাছি প্রায়, রাস্তাটা ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যাচ্ছে। বাড়ছে ঝুঁকি আর বিড়ম্বনা। সাময়িক কিছু সংস্কার চলেছে, কিন্তু কাজে লাগেনি। এমনি চলছে যাতায়াত।

আবার নোবিপ্রবিতে চলছে ২য় সমাবর্তনের প্রস্তুতি, আসবেন রাষ্ট্রপতি। তাই ক্যাম্পাস আঙ্গিনা ছাড়িয়ে সংস্কার আর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ এগিয়ে চলছে আশেপাশের সব জায়গায়। সেই সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রাস্তার দিকে নজর দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন। সংস্কার কাজে হাত লাগিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চলছে ব্যাপক সংস্কার কাজ। সেই সংস্কার কাজ কেমন চলছে তা নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। সংস্কার কাজের ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস যাত্রা কেমন হয়েছে তাই ব্যক্ত হয়েছে এই লেখায়।

গেল শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি পেজ ও গ্রুপে পোস্ট দেওয়া হয়েছে রাস্তার সংস্কার কাজের বিষয়টি। বলা হয়েছে সংস্কার কাজের কারণে বাসগুলো সোনাপুর বাজার পর্যন্ত যেতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাটি বন্ধ থাকবে তাই আর যেতে পারবে না। এই ছিল ঘোষণা। পরবর্তী রাস্তাটুকু কিভাবে যাবে তা নিয়ে চলছে দ্বিধা-দ্বন্দ।

পরের দিন সকাল বেলা বাস তার সময় অনুযায়ী চলছে। গন্তব্য সোনাপুর, পৌঁছে গেছে গন্তব্যে। দেখা গেল ঘোষণা অনুযায়ী চলছে কাজ। ‘রাস্তা বন্ধ, চলছে সংস্কার কাজ’। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে বাকি রাস্তা পারি দিয়ে ক্যাম্পাস আঙ্গিনায় যাওয়ার চেষ্টা। কতটুকু রাস্তা জুড়ে চলছে কাজ তা অজানা। কিভাবে যাবে সেই চেষ্টায় সবাই। শত শত শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছে এদিকে সেদিকে।

সাধারণত এই এক রাস্তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর তেমন কোনো বড় রাস্তা নেই। কিছু আছে স্থানীয় এলাকার ছোট ছোট গ্রামের রাস্তা। সেই রাস্তা সম্পর্কে অজ্ঞাত অনেক শিক্ষার্থী। স্থানীয় অটোচালকরা সেই গ্রামের রাস্তার বিস্তৃত জাল সম্পর্কে কিছুটা অবগত। তাই এই মূহুর্তে তারাই ভরসা এই সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরত্বকে সহজ ও দ্রুত করতে। আছে ক্লাস আর ক্লাস পরীক্ষা, তাই অনেকে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে চিন্তিত। তাই অটোরিকশা করে গন্তব্যে পৌঁছাতে চেষ্টা চলছে। আর এখানে একটি প্রকট সংকট দেখা দিয়েছে অটোরিকশার। শত শত শিক্ষার্থীর চাপ সামাল দিতে পারতেছে না তারা। আটকে রয়েছে অনেকেই।

অনেকে পায়ে হেঁটে এগিয়ে চলছেন। অনেক ফিরে যাচ্ছেন। আর অনেকে অটোরিকশায় চড়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। এই সুযোগটা কম কাজে লাগায়নি অটোচালকরা। ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি চারগুণ করে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে শিক্ষার্থীরা কিভাবে নিয়েছে নতুন পথটি কে? কেমন ছিল সেই পথের ভিন্নতাটুকু!

সাধারণত এইসব এলাকার রাস্তা দিয়ে হাঁটা চড়া হয়নি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। তাই এইসব এলাকা সম্পর্কে অজ্ঞাত অনেকে। তাই নতুন পথ-ঘাট আর এলাকাগুলো কেমন তার প্রতি ঝোঁক ছিল অনেকের। এই সব এলাকাগুলো হলো শহরতলি। যত ভেতরের দিকে যাওয়া যায় ততোই গ্রামীণ আবহ ফুটে ওঠতে থাকে। আছে পুকুর, পুকুর পাড়ের গাছগাছালি। বাড়িগুলোর মধ্যে আছে ভিন্নতা। কিছু কিছু পাঁকা, আছে আধা-পাঁকা, আর আছে কিছু টিনের ঘর। পাশেই খড়ের স্তূপ। গ্রামের মসজিদগুলোর মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। মসজিদগুলোর সঙ্গে পুকুরগুলো সুন্দরের মাত্রাটা বাড়িয়েছে অনেকটাই। আছে অনেক মাদ্রাসা, চলছে পাঠদান।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে আছে কিছু টিনের ঘর আবার কিছু ইট বালুর তৈরি। রাস্তার দুপাশে আছে গাছের সারি। সেই সারিগুলোর অনেক জায়গায় বড় বড় গাছ, আবার অনেক জায়গায় ছোট ছোট ঝোপের মতো গাছের সারি। কিছু রাস্তা চলছে ছোট ছোট খালের পাড় ঘেঁষে, কখনো বা পুকুর ঘেঁষে। অনেক স্থানে রাস্তার দুপাশে আছে শাক-সবজির গাছ। যেখানে শিম গাছের আধিক্যই বেশি দেখা যায়। সেখানে রাস্তার পাশের মাঠগুলো আর আবাদি জমির ক্ষেতগুলো গ্রামের মেঁঠু পথের কথা মনে করিয়ে দেয়। আবার বাড়ির উঠান, পুকুর, গাছগাছালিগুলো একটি সমৃদ্ধ গ্রামের বাড়ির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

নোবিপ্রবি

নোবিপ্রবির দিকে

 

শহরের ইটের দেওয়ালের পরিবর্তে এখানে আছে সারি সারি ছোট-বড় আর লতানো গাছের বেড়া। বাড়ির সামনের দিকের বাগান-বাগিচাগুলোতে শীতকালীন সবজির চাষ দেখা যায়। যেখানে রয়েছে শিম, বেগুন, লাউ গাছ ও আরও কিছু লতানো গাছ। এই বিষয়গুলো ভিন্ন এক অনুভূতিতে নিয়ে আসে। সরু রাস্তাগুলোর একের পর এক বাঁক নেওয়াটাও ছিল রোমাঞ্চিত।

তবে এই বিষয়গুলো একদিনে বা একই রাস্তায় দেখা যায়নি। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন রাস্তা দিয়ে যেতে হয়েছে ক্যাম্পাসের দিকে। গ্রামের এই সরু রাস্তাগুলোতে হঠাৎ গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তীব্র যানযট সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন যায়গায়। তাই অটোচালকরা আরও ভেতরের দিকে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে নিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

আরও পড়ুন : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

স্থানীয় লোকেরাও সাহায্য করেছেন রাস্তার এই ছড়ানো জালগুলো দেখিয়ে। তারা নতুন নতুন পথ খুঁজে দিয়েছেন। অটোচালকরাও প্রতিদিন সহজ ও ভালো রাস্তাগুলো খুঁজে বের করেছন। আর সেই খুঁজে পাওয়া রাস্তাগুলো কম রোমাঞ্চিত করেনি। সেখানে যেমন পিচঢালা রাস্তা আবার আছে মাটির রাস্তা। ছিল বালুকাময় গ্রামীণ রাস্তাগুলো। সেই মাটির রাস্তার মসৃনতা যেমন রোমাঞ্চকর তেমনি তার উঁচুনিচু ঢেউগুলোর অনুভূতি। অনেক স্থানে ছিল বালুকাময় রাস্তা যেখানে আটকে গিয়েছিলো অটোরিকশাগুলো।

গ্রামের এই প্রাকৃতিক বিষয়গুলো শুধু মনের কুঠিরে থাকেনি, চলে গেছে ভার্চুয়াল জগতে। ভিন্ন পথে এই যাত্রাগুলো অনেকে শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেগুলোতে। সেখানে তারা তাদের ভিন্ন পথে নোবিপ্রবির দিকের যাত্রাগুলো তুলে ধরেছেন।

লেখক : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড