• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

  কুবি প্রতিনিধি

০৮ জুন ২০২২, ১৩:৫৬
কুবি
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান নোবেল (ছবি : অধিকার)

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ছাত্রীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান নোবেলের বিরুদ্ধে।

এছাড়া অভিযুক্ত শাহরিয়ার ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতন এবং সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে একই সঙ্গে একাধিক ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

গত মে মাসের মাঝামাঝি বিভাগটির শিক্ষার্থী উপদেষ্টার মাধ্যমে বিভাগের প্রধানের কাছে একটি অভিযোগ দেন ঐ ছাত্রী।

সম্প্রতি ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়লে এসব বিষয় জানা যায়।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ার খান নোবেল সম্পর্কের শুরু থেকেই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। এ সময়ে অনেকবারই তাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে সে। সম্পর্কের স্বার্থে এসব মেনে নেন বলে জানান অভিযোগকারী।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগপত্রে বলেন, সম্প্রতি সে সম্পর্ক থেকে সরে আসার কথা লোকসম্মুখে প্রচার করলেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যায় ও নানাভাবে আশ্বাস দিয়ে যায়। তার সঙ্গে যোগাযোগের কথা অন্যদের জানাতে নিষেধ করে। আমি যোগাযোগ না করলে সে নানাভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে এবং যোগাযোগ করলে সে আমাকে অপমান করে। সম্প্রতি একই বিভাগের আরও কিছু মেয়ের নিকট আমার অগোচরে আমার সঙ্গে সম্পর্ক নেই বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে নোবেল। আমি জেনে যাওয়ায় সে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালায় এবং আমাকে দোষারোপ করে।

অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে আমার (অভিযোগকারীর) পরিবার থেকে বিয়ের চাপ দেওয়া হয়। তখন আমি আমার ক্যারিয়ার ও তার সঙ্গে সম্পর্কের কথা চিন্তা করে বাসা থেকে চলে আসি। পরে তৎকালীন বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া ও প্রভাষক কাজী এম আনিছুল ইসলামকে জানাই। তখন আনিছ স্যারের উপস্থিতিতে সে আমার দায়িত্ব নিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।

তবে এ বিষয়ে কিছু মনে নেই বলে মন্তব্য করেন শিক্ষক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, আমার এ ধরনের কোনো কিছু মনে পড়ছে না। এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আপাতত কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহরিয়ার খান নোবেল বলেন, আমার সঙ্গে এক সময় একজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক এখন শেষ হয়ে গেছে। সম্পর্ক থাকাকালীন সময়ে কথাবার্তা হয়েছে। এখন মানসিকভাবে নির্যাতনের কি অভিযোগ আসে তা সম্পর্কে আমি অবগত না।

বিভাগ থেকে কি বলা হয়েছে- এমন প্রশ্নে নোবেল বলেন, ডিপার্টমেন্ট বলেছে (যদি) সম্পর্ক না রাখতে চাও, তাহলে সম্পর্ক বাদ দাও।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক আলি আহসান বলেন, আমরা দুই জনের সঙ্গে কথা বলে কাউন্সিলিং করার চেষ্টা করেছি। আইনি পদক্ষেপ বা শাস্তি দেওয়ার কোন পদক্ষেপ বিভাগের থাকে না।

আলি আহসান আরও বলেন, আমি ও বিভাগের আরেকজন শিক্ষক মিলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের কথা শুনেছি। যেভাবে কাউন্সিলিং করে সেভাবে কাউন্সিলিং করেছি। আমরা মনে করেছি কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সমস্যাটা সমাধান করা সম্ভব।

তবে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) কাজী এম আনিছুল ইসলাম। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটা কনফিডেন্সিয়াল। একজনের বিষয়ে তো আমি এভাবে বলতে পারি না। আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। এটা সমাধান না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো কমেন্ট করতে পারছি না। আপাতত নো কমেন্ট।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড