• বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাংবাদিকতা ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ভাবনা

  রিয়াজুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি

২৬ মে ২০২২, ১৫:৩৫
সাংবাদিকতা ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ভাবনা
ছবি : অধিকার

বিভিন্ন ঘটনা, ধারণা, মানুষ, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র সম্পর্কিত সত্য ঘটনা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরা সাংবাদিকতার প্রধান লক্ষ্য। প্রতিবন্ধকতার সমার্থক যদি কোনো শব্দ হয় তবে তা হবে সাংবাদিকতা।

বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতাসহ নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকতায় আসা নতুন ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরা।

সত্যের সন্ধানে সাংবাদিকতা করে যেতে চাই

কবিতা, ছোটো গল্পসহ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল মাধ্যমিকে পড়াশোনা করার সময়েই। নিজের লেখাগুলোকে প্রকাশ করার প্রবণতা থেকেই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আসা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমাকে সেই সুযোগগুলো তৈরি করে দিচ্ছে। এছাড়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি, আর সাংবাদিকতা সেই রকম একটি জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে প্রতিনিধিত্ব করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক সমস্যা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তির আসে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরাই হয়ে ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গা।

এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে পুরো দেশে বৃহৎ একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে, এতে অনেক অপরিচিত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। নিজের একটি আলাদা পরিচয়সহ যোগাযোগের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাহস, সততা এবং দক্ষতার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করছি। মিথ্যার বেড়াজাল ছিঁড়ে,সত্যের উন্মোচনেই সাংবাদিকতা। আর সেই সত্যের সন্ধানে সাংবাদিকতা করে যেতে চাই।

মোহাম্মদ তানভীর হোসাইন

ক্যাম্পাস সাংবাদিক, দৈনিক নয়া শতাব্দী

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

সংবাদপত্র রাষ্ট্রের দর্পণ

সংবাদপত্রে জনগণের অধিকার, রাষ্ট্রের অসঙ্গতি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ঘটনার সত্যানুসন্ধান ও গবেষণার উপর ভিত্তি করে জনগণের কাছে তুলে ধরা হয়। যেখানে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। মিডিয়াতে সব আয়নার মতো পরিষ্কার দেখতে পারা যায়।

আর এজন্যই আমি বেছে নিয়েছি সাংবাদিকতা। একটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকতা করতে চাই আমি। সেটি হচ্ছে জনগণের অধিকার ও তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। বর্তমানে স্বাধীন গণমাধ্যম চর্চার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ সকল প্রতিবন্ধকতা ঊর্ধ্বে রেখে গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের চর্চা করছি।

যুগে যুগে ভালো কাজে বেশি বাধা এসেছে তারপরেও যারা মুক্তিকামী মানুষ তারা সকল বাধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করছেন অনেকেই। যতই ভুঁইফোড় সাংবাদিকের উৎপত্তি হোক না কেন সুশীল জনগণ ঠিকই আসল সাংবাদিকদের চিনতে ভুল করেন না। তাই,আমাদের সকলের উচিত ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের পরিত্যাগ করে আসল সাংবাদিকদের চেনা। আর এজন্যে সরকারের উচিত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলেই তরুণরা সাংবাদিকতার প্রতি বেশি আগ্রহী হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের উপর বিশ্বস্ততা আরও বেশি বাড়বে।

জয়নাল আবেদীন

ক্যাম্পাস সাংবাদিক, দৈনিক খোলা কাগজ ও বাংলাভিশন ডিজিটাল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল

প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অধিকার

তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা সাংবাদিকদের নিয়ে গেছে বিশেষ স্থানে। আসলে সব বিষয়েরই মৌলিক দিক বা অংশ থাকে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা তেমনি সাংবাদিকতার একটি মৌলিক অংশ। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করলে সাংবাদিকতার মৌলিক চর্চা শেখা যায় ও অন্যান্য বিষয় খুব সাবলীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিখ্যাত কলেজগুলোতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার আবহ দীর্ঘদিনের। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার কাছে একটি আবেগ ও ভালো লাগা। আমি প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে উপভোগ করছি। এই ক্ষেত্রের পরিপূর্ণ চিত্রপট সম্পর্কে শেখা ও জানার চেষ্টা করছি। তবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট ওয়েজবোর্ড ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সব মিডিয়া হাউসেরই দেওয়া উচিত। এতে করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা সমৃদ্ধ হতো।

আমার স্বপ্ন আমি বড় সাংবাদিক হব। তবে স্বপ্নের পেছনে ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা। কারণ আমি অনেক কিছু শিখেছি যা পরবর্তীতে প্রয়োগ করতে পারব। এছাড়া আমি বলবো, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রেস ইন্সটিটিউট থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হোক। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমেই অনেক বড় বড় সাংবাদিকের হাতেখড়ি হয়েছে। আমিও চাই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজের কর্মগুণ ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে। পাশাপাশি শেখার ঝুলি আরও সমৃদ্ধ করতে।

অপূর্ব চৌধুরী

ক্যাম্পাস সাংবাদিক, দৈনিক আমাদের নতুন সময় ও বাংলাভিশন ডিজিটাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ হোক

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে সাংবাদিকতার আঁতুড়ঘর বলা হয়। পুঁথিগত বিদ্যা না থাকা স্বত্বেও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ভালো মানের সাংবাদিক হয়ে নিজেকে দেশ ও জাতির কাছে উপস্থাপন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকেই দেশ বরেণ্য সাংবাদিকের জন্ম হয়। সাংবাদিক পরিচয়ের আগে প্রথম পরিচয় শিক্ষার্থী। এখানেই বাঁধে বিপত্তি। অনেকসময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে নানা মহল চাপ প্রয়োগ করে। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। তাই সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উপর প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া জরুরি।

এছাড়া ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা খন্ডকালীন হিসেবে পত্রিকায় যুক্ত হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ একটা সময় সাংবাদিকতায় ব্যয় হয়। ক্যাম্পাসে ঘটনা ঘটার নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অনেক সময় গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগেও নিউজ কভার করতে হয়। হাতে গোনা কিছু প্রথম সারির পত্রিকা ছাড়া অধিকাংশ পত্রিকাই কোনো সম্মানী প্রদান করে না। যার ফলে অনেক নবীন শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতায় আগ্রহী হলেও পরবর্তীতে ঝরে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে পত্রিকা অফিসগুলোর ভাবা উচিত।

আজাহারুল ইসলাম

ক্যাম্পাস সাংবাদিক, দৈনিক জনকণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড