• বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নির্মাণের ২ বছরেও চালু হয়নি চুয়েটের টিএসসি

  মো. গোলাম রব্বানী, চুয়েট প্রতিনিধি

২৫ মে ২০২২, ১৭:০৪
নির্মাণের ২ বছরেও চালু হয়নি চুয়েটের টিএসসি
চুয়েট টিএসসি (ছবি : অধিকার)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। নানান জটিলতা, বাজেট সংকট, টিএসসির যাবতীয় সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রের ব্যবস্থা না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হয় চুয়েট প্রশাসন। এরপর দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা করোনা মহামারিতে প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। ধাপে ধাপে আসবাবপত্র এবং স্থগিত ও অসম্পূর্ণ কাজগুলোতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করা হয়, যাতে অতি শীঘ্রই তা ছাত্র শিক্ষকসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে। কিন্তু এরপরও প্রশাসন ব্যর্থ।

টিএসসিতে কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষিতে ছাত্র সংগঠনগুলো ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন করলেও প্রতিবার আশ্বাসেই ভাসিয়ে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

করোনা মহামারির মাঝামাঝি সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাদ রেখেই ছোট পরিসরে টিএসসি উদ্বোধনের খবর থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরুই হয়নি। বিগত ২ বছরে টিএসসিতে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম আয়োজনের তালিকায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম এবং আরও কয়েকটি সভা সমাবেশ এবং চলতি বছরে স্বরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভবনটি এখনও তালাবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র মতে, চুয়েটের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অর্থ দিয়ে ভবনের ভিত্তি কাঠামোটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এরপর প্রকল্পের জন্য আর কোনো বরাদ্দ না আসায় নির্মাণকাজ আর আগায়নি।

এরপর কয়েক বছর কাজ বন্ধ থাকে। পর্যাপ্ত বাজেট এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে টিএসসির নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি সে সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলোতে ‘কোটি টাকার ভিত্তি স্থাপনা আগাছার দখলে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি বেশ সাড়া ফেলে।

এরপর আংশিক বাজেট এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন চুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। ভবনটির নির্মাণকাজ একতলা পর্যন্ত সম্পন্ন করার জন্য সংগঠনটি প্রায় অর্ধ কোটি সমপরিমাণ টাকা অর্থায়ন করে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, প্রথম ধাপে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় প্রকল্পটি শুরু হয়। কিন্তু ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা পরিমাণ কাজ শেষ হওয়ার পর অধিদফতর থেকে আর কোনো টাকা আসেনি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরকে প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়। এরপর নানান জটিলতার পর ২০১৯ সালের শুরুর দিকে টিএসসির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ভবনটি কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে চুয়েটের প্রকৌশল দফতর।

টিএসসি চালুতে বিলম্ব কেন?

টিএসসি নির্মাণ কাজ শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত পেরিয়েছে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়। নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ২ বছরের বেশি সময় পূর্বে। কিন্তু এখনও তা চালু করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীরাও জানেন না কেন চালু করা হচ্ছে না টিএসসির কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজেট কম থাকায় টিএসসির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

ছাত্রকল্যাণ পরিষদে টিএসসি চালু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম স্থাপনাটির কার্যক্রম খুব শীঘ্রই চালু করার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ‘কারিগরি সমস্যাগুলো সমাধান করেছি আমরা, খুব শীঘ্রই টিএসসি চালু করা নিয়ে ছাত্রকল্যাণ পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কিছু নীতিমালা তৈরির কাজে আছি, সেটি শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পদক্ষেপ নিব।’

এদিকে কবে নাগাদ টিএসসি চালু হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ছাত্রকল্যাণ থেকে নীতিমালা তৈরির পর তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট সভার শেষে আমরা বলতে পারবো। আমরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

টিএসসি চালু করার বিষয় নিয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

যা থাকছে চুয়েটের টিএসসিতে

১৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ ভবন নির্মাণে মোট ব্যয় হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা। পূর্ব পাশের তিনতলা অংশের প্রথম তলায় শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া, দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কর্নার থাকবে।

পশ্চিম পাশের চারতলা অংশে নিচ তলায় থাকবে স্টেশনারি দোকানপাট। দ্বিতীয় তলা বরাদ্দ হয়েছে ছাত্রকল্যাণ দফতরের নতুন কার্যালয় হিসেবে। তৃতীয় তলায় অবস্থিত কক্ষগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস হিসেবে বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে। চতুর্থ তলায় থাকছে চুয়েট মেডিক্যাল সহায়তা কেন্দ্র এবং চুয়েট এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের দফতর।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড