• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহী কবির দেশে আগমনের সুবর্ণজয়ন্তী পালিত 

  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

২৫ মে ২০২২, ১৬:৩৭
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলের দেশে আগমনের সুবর্ণজয়ন্তী পালিত 
পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী (ছবি : সংগৃহীত)

কাজী নজরুল ইসলামের বাংলাদেশে আগমনের সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০ বছর) এবং ১২৩তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রবর্তিত নজরুল পদক-২০২২ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. প্রীতিকুমার মিত্র (মরনোত্তর) ও শিল্পী সুজিত মোস্তফা।

মঙ্গলবার (২৪ মে) দিনব্যাপী আলোচনা সভা, দেশীয় ও আন্তর্জাাতিক সেমিনার, স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ, নজরুল পদক প্রদান, বইমেলা, চারুকলা প্রদর্শনীসহ নানা কার্যসূচীতে দিনটি পালন করা হয়। সারাদেশে এ বিষয়ে এটিই একমাত্র আয়োজন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চে তিনদিন ব্যাপী ১২৩তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদ্বোধনী পর্ব ও বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে নজরুলের বাংলাদেশে আগমনের সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন ও শিল্পী সুজিত মোস্তফা। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আমার দায়িত্বের অংশ নয়। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইট ফেলা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এর সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক সে সম্পর্কের সূত্রধরে আমার অন্তরের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান আমাদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান।

নজরুলকে বাংলাদেশে আনার ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যাপক উদ্যোগ ও কার্যসূচী গ্রহণ করেছে সে জন্য বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মাত্র সাড়ে সাত লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। আর ২০২২ সালে সেটি আমরা ১৩ কোটিতে উন্নীত করেছি। গ্রাহকরা মাত্র সাড়ে সাত এমবিপিএস-এর ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতো আমরা এটিকে ৩ হাজার ৪০০ জিপিবিএস ব্যান্ডউইথে উন্নীত করেছি। আমাদের দুটো সাবমেরিন কেবল আছে এখন আমরা তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের সংযোগ দিচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। সেটি হলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনো অবস্থাতেই পৃথিবী থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত না হতে পারে তার ব্যবস্থা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।

এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে খুব তাড়াতাড়ি ওয়াই-ফাই অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আজকের দিনটি যদি আমাদের ইতিহাসে না থাকতো, দিনপঞ্জিকায় না থাকতো তাহলে হয়তো আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আমাদের এ মাটিতে সমাধিস্থ করতে পারতাম না। আমাদের এ মাটিতে যে তাকে দীর্ঘ কয়েক বছর রাখার সুযোগ পেয়েছিলাম সে সুযোগ হতে বঞ্চিত হতাম।

উপাচার্য বলেন, জাতির পিতার উদ্যোগেই আমরা নজরুলকে এই বাংলাদেশে ফিরে পেয়েছিলাম। তিনি ছাড়া আর কেউ হয়তো তাকে এ মাটিতে আনতে পারতেন না। আজ তার ৫০ বছর পূর্ণ হলো। অথচ ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে ততটা মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয় না। আমি জানি না কেন? তবে আমরা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলের চেতনাকে ধারণ ও লালন করি। আর যার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সংশ্লিষ্টতা আছে তাকে অবশ্যই পালন করতে হবে। ১৯৭২ সালের সে ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নজরুল পদক-২০২২ প্রদান করা হয়। এবার সাহিত্যে অধ্যাপক ড. প্রীতিকুমার মিত্র (মরণোত্তর) ও সংগীতে শিল্পী সুজিত মোস্তফা নজরুল পদক পেয়েছেন। অতিথিগণ পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক, সনদ ও প্রতীকী আর্থিক চেক তুলে দেন। এদিন অনুষ্ঠানে নজরুলের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে নজরুল’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, ‘নজরুল ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, বইমেলা উদ্বোধন ও চারুকলা বিভাগ আয়োজিত বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

এর আগে সকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। এরপর মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন পুলিশের একটি চৌকস দল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা স্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ৩ টায় গাহি সাম্যের গান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যোগে নজরুলের বাংলাদেশে আগমনের সুবর্ণজয়ন্তী’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে ‘বাঙালিত্বের স্বপ্নবাহক নজরুল ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের গবেষক ও প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক, ‘বাংলাদেশে নজরুল, নজরুলের বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার সাঈদ ও কলকাতার ডায়মন্ড হারবার উইমেন্স ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তপন মন্ডল ‘পশ্চিমবঙ্গে নজরুলের অবস্থান (১৯৪২-১৯৭২)’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

এছাড়া সন্ধ্যায় মুক্তমঞ্চে সংগীত, নৃত্য নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড