• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এখনও ডাক আসে চুয়েট

  চুয়েট প্রতিনিধি

১৯ মে ২০২২, ১৫:২৪
চবি
চুয়েটের উপ ডাকঘর (ছবি : অধিকার)

ডাকঘর কিংবা পোস্ট অফিস নামটির সঙ্গে এদেশের মানুষের সম্পর্ক বেশ পুরনো। যেখানে মিশে আছে কোটি বাঙালির আত্ম স্মৃতি, লাখো মায়ের ভালোবাসা। জড়িত আছে আবেগ। যদিও ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অনেকেই ডাকঘরকে ভুলতে বসেছে। কিন্তু সকল সরকারি ও আধা সরকারি দাফতরিক কাজগুলোতে ডাকঘর আজও জীবিত।

যুদ্ধকালীন সময় থেকে এর পরের প্রায় দেড় যুগ পর্যন্ত ডাকঘরগুলো তাদের সোনালী সময় পার করেছে। আর এমন প্রতিষ্ঠানের হাজারো স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় অনেককে। এতে মিশে আছে সেই মায়ের ভালোবাসা, যে রাস্তায় সাইকেলের বেলের টিং টিং আওয়াজ শুনলেই জানালা খুলে তাকাতো। এই বুঝি খোকার চিঠি এলো। সেই নববধূর কথা কি ভুলে যাবার মত! যার সদ্য বিয়ে করা স্বামী বিয়ের একমাসের মাথায় পাড়ি জমিয়েছিল দূর প্রবাসে। আর সেই স্বামীর কোনো খবর আসে তিনমাস পরে, তাও এই ডাকযোগে। কি আবেগ ছিল সে চিঠিতে! বধূ কি চিঠিটি হাতে পেয়ে, জগতের সকল কাজকর্ম ভুলে দৌড়ে যায়নি ঘরের কোনো এক কোণে? আর দুরুদুরু বুকে কি খোলেনি খামটির সেই লাল মোমের সীলটি! এক টুকরো কাগজ যেন কোটি টাকার চেয়েও দামি। দেশজুড়ে এই রকম অসংখ্য গল্প আছে ডাক বিভাগ নিয়ন্ত্রিত এই ডাকঘরকে নিয়ে।

ডাক বিভাগের সঙ্গে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সম্পর্কও অবশ্য বেশ পুরনো। স্বাধীনতার আগে এখানে একটি উপ-ডাকঘর স্থাপন করা হয়। তখন থেকেই বেশ জমজমাট ছিল এটি। চুয়েটের প্রধান ফটক পার হয়ে হাতের ডানে ৫০ মিটার হাঁটতে থাকলে সোনালী ব্যাংকের পাশেই একটি নামফলকে চোখ পড়বে ‘পোস্ট অফিস’। নাম ফলকে দেওয়া দিক অনুযায়ী আবারও বাম দিকে তাকালেই চোখে পড়বে চুয়েট উপ-ডাকঘর।

চারিদিকে সুনসান নীরবতা, লোকজনের খুব একটা আনাগোনা নেই। ডাকঘরের ভিতরে উঁকি মারলে দেখা যাবে ২/৩ জন লোক আপন মনে তাদের কাজে ব্যস্ত। জীর্ণ শীর্ণ একটি ঘরে চলছে তাদের দাফতরিক কার্যক্রম। মুহূর্তের মধ্যে আপনার কল্পনায় ভেসে আসবে ডাকঘরের সোনালী অতীত। কেউ মানি অর্ডারের টাকা তুলতে হুড়োহুড়ি লাগিয়ে দিয়েছে। কেউবা চিঠি রেজিস্ট্রি করতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো কোনো এক শিক্ষার্থী খোঁজ নিয়ে গেছে বাড়ি থেকে চিঠি এসেছে কিনা।

তিন যুগ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনে ছিল উপ-ডাকঘরটির দফতর। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ১৯৭০ সালে চুয়েট উপ ডাকঘরটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তখন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চুয়েট) এ একটি উপ-ডাকঘর স্থাপন নিয়ে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. ডব্লিউ. আহমাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডাকঘর সুপারিন্টেনডেন্টের বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি আদান প্রদান হয়। একই বছরের ১৯ নভেম্বর কলেজ অধ্যক্ষের পাঠানো চিঠির জবাবে ২৫ নভেম্বর ফিরতি চিঠিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডাকঘর সুপারিন্টেন্ডেন্ট চুয়েটে উপ ডাকঘর স্থাপনের বিষয়ে একমত পোষণ করে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রস্তুতি নেন। সেই থেকেই শুরু। বর্তমানে চুয়েট উপ ডাকঘরের পোস্ট কোড চট্টগ্রাম-৪৩৪৯।

সত্তর থেকে নব্বইয়ের দশকে ডাকঘরটি তার স্বর্ণযুগ পার করেছে। তখন প্রতিনিয়ত কলেজ শিক্ষার্থীদের শতশত চিঠি ও মানিঅর্ডার আসত। তখনকার শিক্ষার্থীদের মনের কোণে হয়তো এখনও জায়গায় করে আছে ডাকঘরটি।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে একজন পোস্টমাস্টার, একজন ডাক পিওন ও একজন খণ্ডকালীন স্টাফ নিয়ে চলছে ডাকঘরটির কার্যক্রম। সাব-পোস্টমাস্টারের দায়িত্বে আছেন ত্রিদেশ বড়ুয়া। তার দেওয়া তথ্য মতে ডাকঘরে প্রতিদিন শতাধিক প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি গ্রহণ করা হয় এরপর তা প্রাপকের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চুয়েটের পরিচিতি রাউজানসহ দেশের নানান প্রান্তে হওয়ায় অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে এখানে ডকুমেন্ট পাঠাচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা কম। প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দূর থেকেও অনেক গ্রাহক আসেন এখানে। কিছু লোক তাদের স্থায়ী আমানত জমা রাখছে এ উপ-ডাকঘরে। এক মাস পরপর মুনাফা উত্তোলনও করেন অনেকে।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম এরপর সর্বশেষ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) হিসেবে প্রকাশে কেটে গেছে পাঁচটি দশক। এখনও চুয়েটের ডাকঘরটি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ জনগনকে সেবা দিয়ে আসছে ।

যদিও দিনে দিনে শিক্ষার্থীদের সাথে ডাকঘরটির সম্পর্ক মলিন হচ্ছে। তবে এর আধুনিকায়ন দরকার এবং ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড