• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নুহাশ পল্লীতে একদিন 

  ডিআইউ প্রতিনিধি

১৯ মে ২০২২, ১১:২৭
ডিআইইউ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীরা (ছবি : সংগৃহীত)

শহরের যান্ত্রিক কোলাহলকে বিদায় জানিয়ে কিছু সময় মুক্ত বাতাসে প্রাণ ভরে নি:শ্বাস নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা ছুটে গেছি গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। আর জীবনকে শিল্পের পরশ দিতে গেলাম এক শিল্পীর গড়া জাদুর বাড়ি নুহাশ পল্লীতে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের ডে-৬৪ এবং ডে-৭০ (১ম শিফট) ব্যাচের জন্য একদিনের ট্যুরের আয়োজন করা হয়েছিল। শিক্ষকদের মধ্যে ট্যুরে উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম, প্রভাষক মো. নাহিদ হাসান।

ট্যুরের দিন সকালে ইউনিভার্সিটির গ্রিন রোড ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাসে করে দুই ব্যাচ একসঙ্গে আনন্দ উল্লাস করতে করতে সাফারি পার্কের উদ্দেশে রওনা দেয়।

সেখানে পৌঁছে প্রথমেই ছিল কোর সাফারি ভ্রমণ। বাসে করে বিভিন্ন জীবজন্তু খুব কাছ থেকে দেখার আনন্দটাই ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে বাঘ, সাদা সিংহ খুঁজে বের করার সময়টা ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। আরও ছিল জেব্রা, জিরাফ, হরিণ, বানর, ভাল্লুক ইত্যাদি। কোর সাফারি ভ্রমণ শেষে সবাই সবার মত করে পার্ক পরিদর্শন করে। মিউজিয়াম, বিভিন্ন পাখি, মাছ, কুমির,কচ্ছপ, কালো মুখো বানর, সাপ আরও অনেক অনেক পশুপাখি একসঙ্গে দেখার এক অনন্য সুযোগ ছিল এই পার্কে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ঝুলন্ত ব্রিজ আর ঠিক তার উল্টো পাশে থাকা হাতির পাল। অনেকে আবার হাতির পিঠেও চড়েছে।

কিছু ইভেন্টের মাধ্যমে ট্যুরকে করে তোলা হয়েছিল আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর। মেয়েদের জন্য ছিল পিলো পাসিং, বেলুন ফুলানো। আর ছেলেদের জন্য ছিল লক্ষ্যে বল ছোড়া ও বেলুন রক্ষা করার মজার ইভেন্ট। খেলায় বিজয়ীদের সুন্দর সব গিফট এর মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

নুহাশ পল্লী ছিল একটুকরো শান্তির জায়গা। ছোট্ট তবে গভীরতা আর শিল্পের ছোঁয়ায় ভরপুর। কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ যেন তার লেখার মত করে বাড়িটাকে সাজিয়েছিল নান্দনিকতার ছোঁয়ায়। এখানে ছিল কতশত গাছ, দোলনা, দাবা বোর্ড, ট্রি হাউজ, কবুতরের বাসা, কাঠগোলাপ ঘেরা সুবিশাল বাঁধানো পুকুর, আর লেখকের বৃষ্টি বিলাস। তার বানানো শৈল্পিক বাড়িতেই তিনি আছেন চিরনিদ্রায়।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই বন্ধুর মত মিলে মিশে দিনটি উপভোগ করেছে। ছবি তোলা, গান গাওয়া আর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে দিনটি কেটেছে।

পুরো আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য অর্গানাইজার হিসেবে ছিলেন উভয় ব্যাচের কোর্স কো-অর্ডিনেটর সম্মানীয় আল বশির স্যার (লেকচারার, সিএসই বিভাগ)। সার্বিক সহযোগিতার দায়িত্বে ছিল মো. মুরসালাতুল ইসলাম পল্লব, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. মুহাইমেনুল ইসলাম রাতুল এবং যারিন জাসিয়া ঐশী।

এবার ফেরার পালা, যা সর্বদা কষ্টের। তবে সেই কষ্টের সময়টাকেও বশির স্যার আনন্দঘন করে তুলেছিলেন মজার এক র‍্যাফেল ড্র আয়োজনের মাধ্যমে। নানা ধরনের মোড়কে পেঁচানো উপহার দেওয়া হয় র‍্যাফেল ড্র এর বিজয়ীদের। অনেক অনেক সুন্দর স্মৃতি, প্রাণশক্তি, সতেজ প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছে সবাই যার যার নীড়ে। আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হবে সামনের দিনগুলো।

লেখক : যারিন জাসিয়া ঐশী, শিক্ষার্থী (সিএসই বিভাগ), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড