• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাবিতে আবারও ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা 

  মো. রাফিকুর রহমান লালু, রাজশাহী

১৪ মে ২০২২, ১৫:০৫
রাবিতে আবারও ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

সারাদেশে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতির কথা বিবেচনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবারও দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার তিনটি ইউনিটের প্রতিটিতে বাছাইকৃত ৭২ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। আগের বছরও চারটি ইউনিটে ৪৫ হাজার করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেত। এবার ভর্তি পরীক্ষায় বাছাইয়ের সীমাবদ্ধতা বেশি হলেও অনেক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগবঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, দ্বিতীয়বার পরীক্ষার বসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তবে পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন ফি, মূল আবেদন ফি, প্রশ্নপত্রের মান ও বাছাই করার পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা বলছেন, গতবছর করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়া উচিত। তবে হঠাৎ করে পরীক্ষার আগে সেটি জানানো বা নির্দিষ্ট বছরের জন্য এমন সুযোগে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। দ্বিতীয়বার সুযোগ প্রতি বছরই থাকা প্রয়োজন। হুট করে দ্বিতীয়বারের সুযোগ দেওয়া, আবার সেটি বন্ধ করা ভালো নয়। এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের জন্য কোনো ফি নেওয়া উচিত নয় বলেও মতামত দেন তারা।

অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ মিজান উদ্দিন ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ করেন। পরবর্তী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ২০১৭-১৮ সালে এই সুযোগ আবার চালু করেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে তিনিই আবার দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ বন্ধ করেন। এরপর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের প্রশাসন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এই সুযোগ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাবি ভর্তি উপ-কমিটি জানাচ্ছে, এবার তিনটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিটে ৭২ হাজার বাছাইকৃত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন। প্রাথমিক আবেদনের জন্য বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫ সহ একত্রে কমপক্ষে ৮ থাকতে হবে। বাণিজ্যের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫ সহ একত্রে কমপক্ষে ৭.৫ থাকতে হবে। এছাড়া মানবিকের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৩ সহ একত্রে কমপক্ষে ৭ থাকতে হবে। প্রাথমিক আবেদনের পর বাছাইকৃত ৭২ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি এক হাজার ১০০ টাকা।

এদিকে শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৩০ শিক্ষার্থী। আগেরবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অটোপাস দেয়ায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। বিজ্ঞানে শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।

এছাড়া দ্বিতীয়বার সুযোগ থাকায় আগেরবার ভর্তিবঞ্চিত জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা আবেদন করবেন। এতে প্রথমবারের ভর্তিচ্ছুদের অনেকে পরীক্ষায় বসার সুযোগবঞ্চিত হবেন। ফলে কোন মাপকাঠিতে রাবি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী বাছাই ও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিচ্ছে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা রয়েছে, তাদের সবাইকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য মূল আবেদন ফি এক হাজার ১০০ টাকা যথেষ্ট বেশি। এটি আরও কম হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি খুব কম হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফি যদি সার্বিকভাবে ইউজিসি নির্ধারণ করে দেয় তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়। এছাড়া প্রাথমিক আবেদনের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিটি মানুষের দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়া উচিত, সেদিক থেকে আমি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের পক্ষে। তবে এ সুযোগ যে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন হচ্ছে সেটি হঠকারিতা। এসব হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। রাবিতে একটি স্থিতিশীল ভর্তি পদ্ধতি থাকা উচিত।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হলো একটি পাবলিক পরীক্ষা। স্বচ্ছতার জন্য যার আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা উচিত। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের মান হতাশাজনক। প্রশ্নে ব্যাকরণ ও ভাষাগত মান একেবারেই থাকছে না। দীর্ঘ দিন এমন হওয়ার পরও কাউকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না এটি আরও হতাশাজনক। এছাড়া বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সঙ্গে কিছু লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে তুলনামূলক ভালো শিক্ষার্থী পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার সুযোগ পাচ্ছেন, যা ইতিবাচক। তবে তা এক বছরের জন্য হওয়া অনুচিত। এমন সুযোগের নিয়মিত পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তানুসারে ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন সকলকে পরীক্ষায় বসানো উচিত। কারণ প্রস্তুতি ভালো থাকলে কম জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাও ভালো করতে পারেন। প্রয়োজনে স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত পরীক্ষা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, করোনার ক্ষতি বিবেচনায় মূলত এবারের জন্য দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা অনুযায়ী বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরাই শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার মূল আবেদন ফি আগামীতে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড