• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তাদের স্বপ্ন পূরণে তৃপ্তির হাসি বিলিয়ে দেওয়া

  চুয়েট প্রতিনিধি

১২ মে ২০২২, ১৬:৪৮
চবি
সানশাইন ফাউন্ডেশনের ইদ উদযাপন (ছবি : সংগৃহীত)

বাবুল মামার রিক্সায় চেপে নীল শাড়ি পরে তিশা আজ তার প্রেমিককে নিয়ে যাচ্ছে রেস্টুরেন্টে। ধানমন্ডির সবচেয়ে দামি রেস্টুরেন্টে সে আজ ট্রিট দিবে তার প্রেমিক কে। না তিশা আর তার প্রেমিক এই গল্পের নায়ক কিংবা নায়িকা নয়,এই গল্পের নায়ক হচ্ছেন বাবুল মামা। তিনি তিশা আর তার প্রেমিকের মত এমন অনেককে নিয়ে আসেন এমন দামি দামি রেস্টুরেন্টে। কখনও তাদের নামিয়ে ভাড়া নিয়ে চলে যায় কিংবা কখনও উঁচু বিল্ডিং এ তাকিয়ে আনমনে ভাবেন না জানি কি আছে ওই ভবনের ভিতরে আর রেস্টুরেন্টেই বা কি কি খাবার থাকে।

আমরা হয়তো শহরের সব বাবুল মামার আক্ষেপ মিটাতে সক্ষম হইনি। কিন্তু কিছুতো করতে পেরেছি তাদের জন্য, তাদের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করে। ইদে বাবুল মামাদের মুখের হাসিই আমাদের এবারে ইদ সালামি।

এমনই ভাব প্রকাশ করে ইদের পর দিন ফেসবুকে পোস্ট করেছে অর্ণব এবং তাদের সানশাইন ফাউন্ডেশন। হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারের মলিন মুখে হাসি ফুটিয়ে দিচ্ছে সানশাইন ফাউন্ডেশন নামের সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

করোনার পরবর্তীতে অথবা দুর্যোগের কারণে কিংবা দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ন মধ্য আয়ের এবং দরিদ্র পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে আর্তনাদের ছায়া। ইদুল ফিতর সময়ে সেই সকল পরিবার গুলোতে ইদের হাসি ফুটিয়ে তুলতে এগিয়ে আসছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল বাছেদ অর্ণব এবং তার কয়েকজন সহপাঠীরা। গঠন করেছে সানশাইন ফাউন্ডেশন নামের সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

গত মঙ্গলবার (৩ মে) ইদের দিন সকাল থেকে সারাদিনে সংগঠনটির স্বেচ্ছা সেবকরা কয়েক ধাপে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার অর্ধশতাধিক হতদরিদ্র পরিবারকে ইদ সামগ্রী, ৫০ জন দিনমজুরদের এক বেলার খাবারের ব্যবস্থা এবং সুবিধা বঞ্চিত অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রীসহ খাবার সরবরাহ করে।

এরপর স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় কর্তৃপক্ষের চাহিদা মতো সিলিং ফ্যান উপহার দেয় সানশাইন ফাউন্ডেশন নামের এই সংগঠনটি।

গত বছর ২০২১ এর ১০ মে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানান ধরণের সেবামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। করোনায় ধানমন্ডি এলাকায় মাস্ক বিতরণ থেকে শুরু করে লকডাউন সময়ে সচেতনতা ও যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজে এগিয়ে এসেছে সংগঠনটি। এরপর নোয়াখালীর চরকিং দং গামছাখালির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যান বিতরণ করে।

এরই মধ্যে তাদের সেবামূলক কাজের দ্বারা প্রশংসা কুড়িয়েছে ফাউন্ডেশনটি।

সংগঠনটির লক্ষ, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাতা অর্ণব বলেন- দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্ত থেকে শুরু করে যে কোন সময় আমাদের সংগঠন মানবতার বিকাশে কাজ করবে। মূলত আমরা কাজ শুরু করেছি সুবিধা বঞ্চিত শিশু এবং হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর মধ্য দিয়ে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে সকলের সহযোগিতায় এমন নিম্ন মধ্য আয়ের পরিবারদের একটু সহযোগিতা করে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ব। মলিন মুখে হাসি ফুটাবো এটাই প্রত্যাশা।

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড