• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাঠ রক্ষায় জাককানইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি

  জাককানইবি প্রতিনিধি

২৩ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪৮
জাককানইবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা (ছবি : অধিকার)

খেলার মাঠ বন্ধ করে নতুন স্থাপনা নির্মাণ কাজের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে ৭ দফা দাবি জানান তারা।

সোমবার (২২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় গাছ কেটে ও খেলার মাঠ বন্ধ করে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজের প্রতিবাদে জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের স্থানে (পুরাতন খেলার মাঠে) রাখা ভবন নির্মাণের সীমানার পিলার উপড়ে ফেলে সেগুলো নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো করেও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রকল্প পরিচালক জুবায়ের হোসেন বলেন, আমরা কেবল পরিকল্পনা দফতরের দেওয়া কাজ বাস্তবায়ন করি। যেহেতু শিক্ষার্থীরা কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।

কয়েকঘণ্টা ব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অবরুদ্ধ ছিল প্রশাসনিক ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান ভবন নির্মাণের বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ স্থগিত থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন। আগামীকাল বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাহমিদ অর্ক বলেন, আমরা নতুন প্রশাসনিক ভবন চাই তবে খেলার মাঠ ধ্বংস করে নয়। এই একটি জায়গা কেবল বাকি ছিল। সেটিতেও তাদের নজর পড়ে গেছে। আমরা এই মাঠকে আগলে রাখবো। কোনো বস্তিতে পরিণত করতে দিব না। আমরা স্মারকলিপি প্রদান করার পরও যদি ভবন নির্মাণে আগায় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের একটি চিঠি পেয়েছি। তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি আমরা। আলোচনা করে দ্রুতই সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

শিক্ষার্থীদের ৭ দফার মধ্যে রয়েছে-

১/ নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ স্থগিত করতে হবে। নতুন অধিগ্রহণকৃত জমিতে অথবা নতুন জমি অধিগ্রহণ করে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

২/ এক সপ্তাহের মধ্যে পুরাতন দুই মাঠ সংস্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন একটি খেলার মাঠ তৈরি করতে হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে।

৩/ নতুন দুই হলের জন্যে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪/ অতিসত্বর ৫০০ একরের ক্যাম্পাসে পরিণত করতে হবে।

৫/ অপরিকল্পিত আর কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না এবং নতুন মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে।

৬/ নতুন ভবন নির্মাণের জন্যে কোনো গাছ কাটা যাবে না এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

৭/ ডিপিডি দফতরে পরিবর্তন আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, ৫৭ একরের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্থায়ী মাস্টারপ্ল্যানে বারবার পরিবর্তন করতেও দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি হল থাকলেও নেই তাদের নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ। জায়গা না বাড়লেও পাশাপাশি নির্মিত হচ্ছে একাধিক ভবন। ২০২৩ সালের মধ্যে আরও ১০টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের। যার অর্থনৈতিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড