• শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টিউশন ফি কমাতে গবি শিক্ষার্থীদের মানবিক আবেদন

  গবি প্রতিনিধি

২৯ জুলাই ২০২০, ১৯:৫৩
গণ বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : সংগৃহীত

নিম্মমধ্যবিত্তের বাতিঘর নামে পরিচিত সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) অনলাইনে ক্লাস সমাপ্তির পরে সেমিস্টার চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ১৭ মার্চ যখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন গবি এপ্রিল ২০২০ সেমিস্টারের বয়স মাত্র দুই মাস। বাঁকি ক্লাসগুলো সম্পন্ন হয় অনলাইন প্রযুক্তিতে।

এতে সেমিস্টার ফি গ্রহণে কোনো তারতম্য আসবে কি? গবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সহায়তা দিবে কি? পরবর্তী সেমিস্টার অনলাইনে আরম্ভ হবে!

এ বিষয়ে গবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবু বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি। গণ বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ করেছে। অনেক বিভাগের ফলও ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং আমরা পিছিয়ে নেই, সেশন জট আমাদের নেই। পরবর্তী অবস্থা দেখে, বুঝে গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ অর্থবাজেটে ইন্টারনেটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নিজস্ব অর্থায়নে ডাটা কিনে ক্লাস করেছে। অনলাইন লেকচার ছাড়া আর কোনো সুযোগ সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারেনি। তাই পূর্বের নিয়মে সেমিস্টার ফি নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘এবার আমরা ল্যাব ক্লাস করতে পারিনি। যার ফলে গবেষণা ও উন্নয়নে অর্থ খরচ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোনো বাজেট লাগেনি। খেলাধুলা, লাইব্রেরি, বিদ্যুৎ বিল, বাসের তেল ও অন্যান্য কোনো খাতে এবার অর্থ ব্যয়ের সুযোগ ছিল না।’

এছাড়া মহামারির তান্ডবে অনেকের জীবিকা থমকে গেছে সঙ্গে নতুন যোগ হলো বন্যা। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অনুদান দেওয়া উচিত। পুরো সেমিস্টার ফি চাওয়া মানবিকতার বিপরীত বলে আমাদের মনে হয়, যোগ করেন তাঁরা।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নজরুল ইসলাম রলিফ বলেন, ‘সময় এখন অনুকূলে নেই। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই ভাল হয়। মূল সেমিস্টার ফি'র ৫০% মওকুফ করে পরবর্তী সেমিস্টার অনলাইনে আরম্ভ করা যেতে পারে। এতে শিক্ষকদের বেতনের দিক চলে আসছে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের বেতনও অর্ধেক দেওয়া যেতে পারে।’

জিএস আরও বলেন, ‘আমরা ছাত্র সংসদ সবসময়ই প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলি। প্রয়োজনে এবারও বলবো। প্রত্যাশা থাকবে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে নমনীয় হবেন। টিউশন ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ করলে ছাত্রদের ডাটা কিনতে খুব বেশি সমস্যা হবে না।’

আরও পড়ুন : ইংরেজি মাধ্যমের সকল স্কুল নিবন্ধনের নির্দেশ

গবি সহকারী রেজিস্ট্রার আবু মোহাম্মদ মোকাম্মেল বলেন, ‘সেমিস্টার ফি কমানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফি দেওয়ার নোটিশ সম্বন্ধে আমি অবগত নই।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ডা. মো. দেলওয়ার হোসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘সেমিস্টার ফি গ্রহণ এখনও শুরু হয়নি। এখন যারা দিতে পারবে তারা জমা দিবে। ফি কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। শিক্ষার্থীদের একটি করে মুঠোফোন দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন তারা চেষ্টা করবে ফ্রিতে দেওয়ার জন্য। এই কাগজ আমি পেয়েছি।’

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড