• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এক বছরেও জ্ঞান ফেরেনি মুন্নীর

  বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

২২ মে ২০২০, ২২:৩৫
বশেমুরবিপ্রবি
শয্যাশায়ী শিক্ষার্থী মুন্নী (ছবি : সংগৃহীত)

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নীর স্বপ্ন ছিলো ভালো চাকরি করে স্বাবলম্বী হবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু নার্সের ভুল ইনজেকশনে এক বছর ধরে বিছানা বন্দী মুন্নী।

২০১৯ এর ২১ মে ভুল ইনজেকশনে জ্ঞান হারানোর পর এক বছর যাবত বিছানাতেই বন্দী হয়ে আছে মুন্নীর জীবন। চোখ খুলে তাকাতে পারলেও ইনজেকশনের প্রভাবে কথা বলা এবং চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

মুন্নীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার ভাই হাসিবুল রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এক বছর পার হয়ে গেলেও মুন্নী এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেনি। পাইপের মাধ্যমে খাবার প্রদান করা হয়। চোখে খুলে তাকালেও পরিবারের কাউকেই চিনতে পারেনা, কোনো কথা বলতে পারেনা, চলাফেরা করতে পারেনা।

মুন্নীর চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রোগের চিকিৎসা হয় কিন্তু এটাতো মানুষের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা। পৃথিবীর কোথাও এই সমস্যার কোনো ঔষধ নেই। তাই আপাতত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু খিচুনি বন্ধের ঔষধ দেওয়া হচ্ছে।’

মুন্নীর বিষয়ে তার সহপাঠী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনজুমান আরা আঁখি বলেন, ‘ভুলটা ছিলো নার্সের কিন্তু আজ ভুক্তভোগী শুধু মুন্নী। এটি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক যে এই ঘটনায় জড়িত সবার জীবন স্বাভাবিক থাকলেও মুন্নী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। মুন্নী সুস্থ হয়ে উঠুক, এই ঘটনায় জড়িতরা সবাই শাস্তি পাক এবং এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

এদিকে এ ঘটনায় মুন্নীর চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় চিকিৎসক তপন কুমার মণ্ডল সহ দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামি করে হত্যা চেষ্টার মামলা করলেও এখনো মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আরও পড়ুন : জাককানইবির ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রলীগের সাবেকরা

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ মে রাতে পিত্তথলিজনিত সমস্যার কারণে ডাক্তার তপন কুমার মণ্ডলের অধীনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন মুন্নী। কিন্তু ২১ মে সকালে হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ রোগীর ফাইল না দেখে গ্যাসট্রাইটিসের ইনজেকশন সারজেলের পরিবর্তে অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান কারার) ইনজেকশন সারভেক মুন্নীর শরীরে পুশ করেন এবং এই ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুন্নি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স শাহানাজ এবং কুহেলিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেয় সেবা অধিদপ্তর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড