• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লকডাউনে ঢাকা কলেজ শিক্ষকের স্ট্যাটাস

ওদের উপস্থিতিই হবে আতঙ্কহীন স্বাভাবিক জীবনের বার্তা

  রাকিব হাসান তামিম, ডিসি প্রতিনিধি

২২ মার্চ ২০২০, ১৪:০৮
ঢাকা কলেজ
ঢাকা কলেজের প্রধান ফটক, ইনসেটে সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরা মোস্তফা

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রথম ধাপে সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। 

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ মার্চ থেকে ঢাকা কলেজের সকল প্রকার ক্লাস, পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং ২০ তারিখ সন্ধ্যা ৬টায় আবাসিক হল লকডাউন করা হয়। 

লকডাউনের পর থেকে শিক্ষার্থীদের কোলাহলপূর্ণ ক্যাম্পাসে নেমে আসে স্থবিরতা। সেই স্থবিরতায় শূন্য কলেজ প্রাঙ্গণ আর শূন্য আবাসিক হলের নির্জনতায় আবেগঘন ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরা মোস্তফা। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। নিচে হুবহু স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘প্রায় বছর খানেক আগে ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন ফ্ল্যাটটিতে উঠি। এখানে ওঠার পর একটা নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। সেটা হলো- ছাত্রাবাসের ছাত্রদের দুর্দান্ত রাত জাগরণ। প্রায় রাতেই ওরা দল বেঁধে ছাদে উঠে সারারাত গলা ছেড়ে গান করে। চলে আড্ডা, গল্প, হৈ হুল্লোড়। কখনো বা মাঝরাতের নিয়ম ভেঙে ছুটে আসে স্লোগানের আওয়াজ। ঘন ঘন হোন্ডা আসা যাওয়ার শব্দ থাকে শেষরাত অব্দি। এখানেই শেষ নয়। কখনো কখনো দুপক্ষের সংঘর্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও চলতে থাকে রাতের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে। আমি মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে শব্দ থেকে বাঁচার জন্য বেডরুম ছেড়ে অন্য রুমে চলে যাই নিঃশব্দে নিরিবিলি শান্তিতে ঘুমাবো বলে//
----------------------

আজ ৬/৭ দিন হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ায় ছাত্ররা ক্যাম্পাস ছেড়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস লকডাউন। ছাত্ররা কেউ কোথাও নেই। স্তূপীকৃত অখণ্ড জমাট নিস্তব্ধতা চারিদিকে। গভীর রাত। বাতাস ও বড় বড় গাছের পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ  ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। আমি তো এমনটাই চেয়েছিলাম। এমন মোহনীয় স্তব্ধতায় শান্তির ঘুম।

তবে? তাহলে? আমার ঘুম আসে না কেন?
আসলে--

আমার অজান্তেই আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রাণপণ প্রত্যাশা করছে রাত জাগানিয়া সেইসব উত্তাল শব্দ, গান ও হট্টগোল। ছাত্রাবাসের রুফ টপে ছাত্রদের বেসুরো গানের সুরই হবে আমার ঘুমের একমাত্র টনিক। আমি প্রমাণ পাব যে, আমরা এখন নিরাপদ। আর ভয় নেই একত্রিত হওয়ার।

আরও পড়ুন : ইবির প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ

ঐ তো ওরা কাঁধে হাত রেখে আড্ডায় মেতেছে। ছোঁয়াছুঁয়িতে আর জীবননাশী জীবাণুর ভয় নাই। ওদের দলগত উপস্থিতিই হবে, ‘কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, ইমারজেন্সি, কার্ফু’ এই শব্দগুলো চিরবিদায়ের সংকেত। আতঙ্কহীন নিরাপদ স্বাভাবিক জীবনের বার্তা।
Miss the sounds vehemently. 
Stay at home. Stay safe.

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড