• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ আছে

  হাসান বিশ্বাস, ঢাবি প্রতিনিধি

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৪৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মারধরের শিকার রানা নাসের, প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দায়ের (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংলগ্ন ফুলার রোডে সিসিটিভি থাকায় সাবেক শিক্ষার্থীকে মারধরের ফুটেজ আছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনাস্থলটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে হওয়ায় সেখানে থাকা সিসিটিভিতে হামলার ফুটেজ আছে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা যাবে। এছাড়া হামলার সূত্রপাত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল দৃশ্য দেখা যাবে।

তবে এই ফুটেজ দেখতে বারবার অনুরোধ জানালেও কর্তব্যরতরা কোনো ধরনের সাহায্য করেননি। তারা জানান, অনুমতি ছাড়া এই ফুটেজ দেখানো নিষেধ। একমাত্র ডিএমপির অনুমতিক্রমে তারা এই ফুটেজ দিতে পারবেন। এই ফুটেজ নিয়ে কোনো চিন্তার কারণ নেই। অনুমতি নিয়ে আসলেই তারা পুলিশের উপস্থিতিতে এই ফুটেজ দেখাতে পারবে।

এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি কামাল উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়।

ফুলার রোডে অবস্থিত ‘ব্রিটিশ কাউন্সিলের’ সামনে এই ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরমেন্স বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী (২০১০-১১) রানা নাসের, দর্শনার্থী বাপ্পি (রানার ছোট ভাই), প্রক্টরিয়াল বডির ৩ সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ পরাগ আহত হন। 

এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা (২০০৯-১০) লাঞ্ছনার শিকার হন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে অনুসন্ধানে নামে দৈনিক অধিকার।

জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা র‍্যাগিংয়ের উদ্দেশ্যে ফুলার রোডে আসেন। কয়েকজনকে র‍্যাগিংয়ের পর আনুমানিক পৌনে ১০টায় হামলার ঘটনাস্থলে আসেন তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা (২০০৯-১০) এবং বাপ্পি। তার কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন রানা নাসের।

হামলাকারীরা প্রথমে বাপ্পিকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না। বাপ্পি উত্তরে বলেন হ্যাঁ। তার পাশেই বসে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা। তখন তাকে (বাপ্পি) জিজ্ঞাসা করা হয় কোন হলের? উত্তরে বাপ্পি বলেন, ‘কার্জন হল।’ বাপ্পির এমন উত্তরে কোনো কথা না বলেই তাকে মারধর করেন হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের দুইজনকে হারায় বাপ্পি। এতে নিজেও গুরুতর আহত হন। মাথা এবং শরীরে বেশকিছু অপারেশন করানো হয়। বাপ্পিকে মারধর করতে দেখে পাশ থেকে চিৎকার করে দৌড়ে আসেন রানা। সে সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা শেখ পরাগের মোবাইল ফোন পড়ে গেলে তা নিতে ফেরত আসেন পরাগ। সে সময় তাকে আটক করেন রানা।

এ দিকে এর আগে র‍্যাগিং এবং হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে ছুটে আসেন পরাগের কাছে। সে সময় তাকে মারধর করেন দর্শনার্থীরা। পরাগ হামলাকারীদের সঙ্গে আসলেও মারধরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে জানান তিনি। তাই তাকে রক্ষা করেন রানা নাসের।

ঘটনার কিছুক্ষণ পরে হলের ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন হল সংসদের ভিপি কামাল উদ্দিন। সে সময় তার সঙ্গে রানা নাসেরের কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় নুজহাত ফারহানা নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক্স’ স্টুডেন্ট পরিচয় দিলে সেই শব্দকে ব্যাঙ্গ করে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসএম হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রানা নাসের সে সময় ভিপি কামালকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলার যোগ্যতা আছে তোমার?’ তখন অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রানা নাসেরকে মারধর করেন। রানা নাসের তাদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বললে এই হামলাটা হতো না।’

এই বিষয়ে রানা নাসের বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এভাবে মারধর করেছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আর দুয়েকটা মারলে সে (বাপ্পি) মরেই যেত। আমি তার সঙ্গে কীভাবে ভালোভাবে কথা বলব? সে সমাধান করতে আসেনি। সে এসে নুজহাত ফারহানার ফোন থেকে ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেয়। একজন হলের প্রতিনিধি হয়ে কীভাবে সে এ ধরনের কাজ করে?’

পুরো ঘটনার তদন্তে দায়িত্বরত নীলক্ষেত থানার এসআই রইস জানান, গুরুত্বের সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এ দিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার বিকালে ভুক্তভোগী রানা নাসের এবং নুজহাত ফারহানা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তার কিছুক্ষণ পরেই প্রক্টরিয়াল টিমের এক সদস্য তা নিয়ে শাহবাগ থানায় জমা দেন।

আরও পড়ুন : বেড়াতে এসে মারধরের শিকার ঢাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী

প্রক্টর টিম সূত্রে জানা যায়, ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিসি ফুটেজ সংগ্রহ হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে রানা নাসের এবং নুজহাত ফারহানা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে দায়িত্বরত ওসি হাসানের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই মামলা নেবে। মামলা না নিলে আমাকে জানাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সাহায্য পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রানা নাসের। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড