• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তিতুমীর কলেজে শোভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল, মুগ্ধ শিক্ষার্থীরা

  মামুন সোহাগ

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৫৬
তিতুমীর
তিতুমীর কলেজ প্রাঙ্গণে আমের মুকুল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

তীব্র শীত শেষে রিক্ততা উড়িয়ে প্রকৃতিতে এসেছে বসন্ত। বসন্তে আকুল হয়ে কবি সুফিয়া কামাল লিখেছিলেন, ‘কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- দখিন দুয়ার গেছে খুলি? বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?’

শুধু কবির কাব্য মনেই বসন্তের সঞ্চার? না! গাছে গাছে ফুটতে শুরু করেছে নানা রকম ফুল। আমগাছের শাখাগুলো ভারী হয়েছে মুকুলে মুকুলে। ডাল ভরা সোনালি মুকুল যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি তিতুমীর কলেজে মধুমাসের আগমনী বার্তা ঋতুরাজ বসন্তের কথা জানান দিচ্ছে। কাঠখোট্টা শহুরে জীবনে যে গ্রাম্য অনুভূতি অনুভবে মিশেছে শিক্ষার্থীদের, তা নজরবন্দি করার মতো।

তিতুমীর কলেজের অডিটোরিয়ামে যেতে পথে চোখে পড়ছে আমগাছ। ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ, ভ্রমরের গুঞ্জন। আমের মুকুলে বেড়েছে মৌমাছির আনাগোনা। মুকুলের মিষ্টি সৌরভ মন্ত্রের মতো টানছে তাদের। শাখায়-প্রশাখায় তাই তুমুল ব্যস্ততা। বসন্তের স্নিগ্ধতা এনেছে স্বর্ণালি মুকুল। ক্যাম্পাসের বাতাস জুড়ে এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। যা বিমোহিত করছে শিক্ষার্থীদের। 

ঋতুরাজ বসন্তে আমগাছে আসতে শুরু করা আমের মুকুলে মুগ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছে নানান কথা। কারও মন জুড়ে গ্রাম্য হাওয়া লেগেছে, কেউবা পাচ্ছে চোখ বুলিয়ে নেওয়ার সুখানুভূতি। 

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাওসিফ মাইমুন বলেন, ‘শীত শেষে প্রাণের ক্যাম্পাসে আমের মুকুল বসন্তের আগমনী বার্তা এনেছে। এর ঘ্রাণ আমায় মুগ্ধ করে। ব্যস্ততার কারণে এই লাল বালির শহরে এখন আর তেমনটা আমগাছ চোখে পড়ে না। আম গাছের পাশ দিয়ে হাঁটতেই মনে হয় আমায় ডেকে বলছে, ও পথিক আমার প্রেমে তুমি কি পড় নি? একবার পড়েই দেখ না। সত্যি এ বাংলায় জন্মে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। মা-মাটি আর সকালের সূর্য আমার প্রাণ জুড়িয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করে দূর বহু দূর হারিয়ে যাই। যেখানে থাকবে শুধুই পাখির কলহ। আর মুকুলে ঘ্রাণে আমি থাকব বিভোর এবং আমি একজন গর্বিত তিতুমীরিয়ান।’ 

আরও পড়ুন :পাঁচটি বাস পাচ্ছে সরকারি তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীরা

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন, ‘আসলে মানুষ প্রকৃতির প্রেমিক। আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে আকর্ষণ করে। বসন্ত আসলে ক্যাম্পাসে শুকনা পাতা আর নতুন আমের মুকুল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। আর মনে পড়ে গ্রামের আম বাগানের কথা। আমাদের জাতীয় সংগীতের কথা 'ওমা ফাগুনে তোর আমের বলে ঘ্রাণে পাগল করে!’

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম শুভ বলেন, ‘এই কলেজ শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর নয়নাভিরাম সবুজ ক্যাম্পাসও অন্য ক্যাম্পাসের দিক থেকে একটু বেশিই দৃষ্টিনন্দিত। বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে তিতুমীর কলেজের সামনের আম গাছগুলোর থোকা থোকা আমের মুকুলে। এ ব্যস্ত শহরে এ মুকুলগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বসন্ত এসে গেছে। এ মুকুলগুলো দেখে শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক পরিবেশের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে পারবে। আম গাছের এ মুকুলগুলোর মাঝে তারা তাদের বাড়ির উঠানের সেই আম গাছগুলোর আমের মুকুলের কথাই স্মরণ করতে পারবে। সবমিলিয়ে একটা ভিন্নরকম পরিবেশ সৃষ্টি হবে অডিটোরিয়ামের সামনের আমগাছগুলোর থোকা থোকা মুকুলগুলোর মাধ্যমে।

রসায়ন বিভাগে পড়ুয়া আকাশ ঘোষ প্রিন্স বলেন, ‘এসেছে বসন্ত। শীতের রুক্ষতাকে বিদায় দিয়ে চারিদিকে বৃক্ষে ফুটেছে নানা রকমের নানা রঙের ফুল। এসেছে আমের মুকুল। সরকারি তিতুমীর কলেজের অডিটোরিয়াম সামনের অংশতে বেড়েছে পাখিদের আনাগোনা। মুকুলে ছেয়ে গিয়েছে আম গাছগুলো। মৌমাছি, ভ্রমরার গুঞ্জন বেড়েছে। বসন্তের আমেজে মেতে উঠেছে সব কিছু। সবাই যেন ঋতুরাজ বসন্তের বন্দনায় ব্যস্ত।

তিতুমীর কলেজে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের লুবনা রহমান বলেন, বসন্তের আগমনীতে প্রকৃতি আপন খেয়ালে রূপ বদলাচ্ছে। আগুন ঝরা ফাগুনের আবাহনে ক্যাম্পাসের গাছে গাছে এখন আমের মুকুল! কবি বলেছেন, 'আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাসে আনমনা হওনি বলো, কে কবে?'

আসলেই আনমনা হতে হয় সেদিকে চোখ গেলে! মনে পড়ে প্রতিবারের সেই স্মৃতি, বন্ধুরা আম পেরে নিয়ে আসলে কাড়াকাড়ি লেগে যেত!

এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের সাবরিনা তালুকদার বলেন, বসন্ত মানেই হচ্ছে রঙের সমাহার। শীতের শুষ্কতাকে দূর করে নতুন নতুন ফুল পাতা উঁকি দিচ্ছে। আমি প্রায়ই অডিটোরিয়ামের সামনের মুকুলগুলোর দেখি আর ভাবি কি বাহারি সাজেই না আমার তিতুমীর কলেজ সাজছে। মানুষ বসন্ত খুঁজে নিজের সাজে অথচ বসন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তিতুমীরের আনাচে কানাচে। 

আরও পড়ুন : শিগগিরই তিতুমীর কলেজ ছাত্রাবাসে পাঠাগার নির্মাণ : অধ্যক্ষ  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের মুকুল আমে রূপ নেবে। তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম ছাড়াও মাঠের চার কোণে, হল গুলোর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমগাছ। বসন্তের এই ছোঁয়া ছাড়াও প্রাণের ক্যাম্পাসে বসে ঝাল-লবণে প্রিয় এই ফল খেতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এমনটাই প্রত্যাশা সবার!

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ 

ওডি/এমআরকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড