• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শহীদ ড. শামসুজ্জোহা

ছাত্রদের বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন যিনি

  নুরুজ্জামান খান, রাবি প্রতিনিধি

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৫
রাবি
শহীদ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা (ছবি : সম্পাদিত)

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। গণ-অভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনে শহীদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তৎকালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা। 

এরপর থেকে দিনটিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জোহা দিবস ও শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তিনিই দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। তবে দীর্ঘ পাঁচ দশক পার হলেও এখনো তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানালেও সে চাওয়া অপূর্ণই রয়ে গেছে।

গত রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জোহা স্যার কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয় তা শিখিয়ে গেছেন। তার আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দিবসটিকে এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সূত্রে জানা যায়, আসাদ ও সার্জেন্ট জহুরুলের খুনের প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে রাবি শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান শহীদ ড. জোহা। তার সঙ্গে যান অধ্যাপক ড. মাযহারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক, অধ্যাপক ড. সুব্রত মজুমদার, অধ্যাপক ড. মোল্লাসহ অনেকে।

১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাবি শিক্ষার্থীদের দিকে বন্দুক তাক করে এগিয়ে আসে। সে সময় ড. জোহা বজ্রকণ্ঠে বলেন, ‘প্লিজ ডোন্ট ফায়ার, দে উইল গো।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে সে গুলি আমার গায়ে লাগবে।’ পাকিস্তানি সেনারা ড. জোহাকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে শহীদ ঘোষণা করেন।

এরপর থেকে রাবি কর্তৃপক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারিকে শিক্ষক দিবস ও শহীদ ড. জোহা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে দিবসটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের আমলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তখন জোহা দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে কথা হয়। তারা বিষয়টি দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস আলোর মুখ দেখেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা বলছেন, শহীদ জোহা একজন মুক্তিকামী মানুষ ছিলেন। তার আত্মত্যাগ গণআন্দোলনে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিলেন।

রাবির জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, ‘জোহা দিবসে আমরা প্রতিবছরই নানা কর্মসূচি করে থাকি। আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে জানানোর চেষ্টা করি যেন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।’

জানতে চাইলে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা চাই দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’

এ দিকে ড. জোহার শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল পৌনে ৭টায় ড. জোহার মাজার ও স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর আলোচনা সভা, জোহা স্মারক বক্তৃতা, দোয়া অনুষ্ঠান, রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন : জাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ২য় বর্ষপূর্তি

উল্লেখ্য, শহীদ জোহা ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস ক‌রেন। তিনি ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৫৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড