• শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থী প্রহারের অভিযোগ

  চুয়েট প্রতিনিধি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৫৭
চুয়েট
বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের অবস্থান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

র‍্যাগিং বন্ধ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ১ম ও ২য় বর্ষের প্রায় ৩শ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। 

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কার্যালয়ের জানালা এবং নেমপ্লেট ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কাটাপাহাড় এলাকায় পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম বর্ষের ৮ জন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করা অবস্থায় একই বিভাগের ২য় বর্ষের ৬ শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। এ ঘটনায় ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানায়। এ সময় অভিযুক্তরা শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। পরে র‍্যাগিংয়ে জড়িত শিক্ষার্থীদের টিচার্স ক্লাব কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আনোয়ার পারভেজ হাঁপানিজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষকরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ছেড়ে দেন। পরে আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ভোর ৬টায় একই অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়।

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ‘তার হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু এটা ফ্র্যাকচার কি না তা এক্সরের রিপোর্ট দেখে কোনো রেডিওলজিস্ট বলতে পারবেন।’

এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আনোয়ার পারভেজ জানান, ছাত্রকল্যাণ উপপরিচালক আরাফাত রহমান রানা বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাটা পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও গাছের ডাল ভেঙে মারধর করেছেন।

পারভেজ আরও জানান, ‘পরবর্তীকালে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে ২০ মিনিট অক্সিজেন মাস্ক পরে থাকি। এ সময় আমার হাত ফুলতে থাকে এবং প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ায় আমিসহ আমার ছয় বন্ধুকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

এ সময় অভিযুক্ত বাকি ৫ শিক্ষার্থীও তাদের শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ আনেন এবং তাদের শরীরের ক্ষতগুলো উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখান।

পারভেজ জানান, ‘আমরা পাহাড়তলী থেকে গল্প করতে করতে গৌরীশঙ্কর এলাকায় চলে গিয়েছিলাম। পরে চিন্তা করি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকব। এই উদ্দেশে আমরা হাঁটছিলাম। কাটাপাহাড়ের দিকে যাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। শিক্ষকেরা আমাদের বলে আসছিলেন, আমাদের পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হবে। সাধারণ পরিবারের ছেলে হিসেবে আমরা ভয় পেয়ে মূলত তাদের কাছে ক্ষমা চাই।’

এ ব্যাপারে ছাত্রকল্যাণ উপপরিচালক আরাফাত রহমান রানা বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে কাটাপাহাড় থেকে তাদের আটক করা হয়। র‍্যাগিংয়ের ন্যূনতম শাস্তি আজীবন বহিষ্কার এবং এক বছরের অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার। তারা শাস্তি এড়ানোর জন্য এ ধরনের বানোয়াট পরিকল্পনা করছে।’ 

হাতে আঘাত কীভাবে পেল প্রশ্নে তিনি জানান, ‘আমরা তাদের যে রাস্তায় পাই সে রাস্তাটি মূলত ইট ও সুড়কির তৈরি। রাস্তায় তাদের ধাওয়া করা হলে তাদের একজন পড়ে যায়। তখনই হয়তো আঘাত পেয়ে থাকবে।’ 

র‍্যাগিংয়ের শিকার ১ম বর্ষের আফনান রহমান জানান, ‘বুধবার আমাদের পাহাড়তলীতে ডাকা হয়। তারা আমাকে কেক কিনে দেয় এবং তাদের সঙ্গে কিছুদূর হাঁটার জন্য বলেন। তখন শিক্ষকরা এসেই উনাদের মারতে শুরু করেন এবং আমাকেও মারে। পরে আমি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী বলায় শিক্ষকরা আমাকে ছেড়ে দেন।’

র‍্যাগিংয়ের শিকার হওয়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘আমরা কোনো ধরনের র‍্যাগিংয়ের শিকার হইনি। আমাদের সঙ্গে উচ্চস্বরেও কথা বলা হয়নি। আসলে অভিযোগ করার মতো কিছুই ঘটেনি। শিক্ষকরা আমাদের কী ঘটেছে এটা লেখার জন্য বলায় আমরা লিখেছি। শিক্ষকেরা না বললে আমরা অভিযোগ লিখতাম না।’

আরও পড়ুন : ছাত্রী নিপীড়নে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাবি ছাত্রলীগের 

তবে এমন ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন অনেক শিক্ষার্থী বলেন, র‍্যাগিংয়ের জন্য কাটাপাহাড় অনেক আগে থেকেই কুখ্যাত। সেখানে তাদের শুধু মাত্র হাঁটার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এমনটা ভাবাও হাস্যকর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রফিকুল আলম জানান, ‘শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী দুই পক্ষের কথা শুনেছি এবং একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ওডি/এমআরকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড