• বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অষ্টম বর্ষে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি

  শিহাব জাহিদ

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:১৬
গবিসাস
বেলুন উড়িয়ে বর্ষপূর্তির উদ্বোধন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) ৭ম বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করল।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভবনের সামনে মিলিত হয়। এরপর অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ এমপি, দৈনিক অধিকারের প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক তাজবীর হোসাইন সজীব, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবু, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রনি খাঁ, সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান মনি, আজীবন উপদেষ্টা আসিফ আল আজাদ, আব্দুল আল কাউসার মিলন, উপদেষ্টা মেহেদী তারেক, এস এম আহমেদ মনি, তাজবিদুল ইসলাম, রিফাত মেহেদী, মুন্নি আক্তার, ওমর ফারুক প্রমুখ।

মঞ্চে অতিথিবৃন্দ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অনুষ্ঠানে বেনজির আহমদ এমপি বলেন, ‘সাংবাদিকরা আয়নার মতো কাজ করে। আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটে সেগুলো তুলে নিয়ে আসা সাংবাদিকদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমিও একসময় সাংবাদিকতার ছাত্র ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেষ করতে পারিনি। ইতিহাসে মাস্টার্স করেছি। কাজেই এটি একটি ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট।’

তিনি বলেন, ‘আজকে তরুণ শিক্ষার্থীরা যারা এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, সাত বছর হয়ে গেল আমার মনে হয় আপনারা অনেক দূর এগিয়েছেন, আপনারা সফল। কারণ, আপনাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয়নি। আপনাদের অনেক সফলতার কথা শুনলাম, এটা প্রশংসার দাবিদার।’ 

বেনজির আহমদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। সেটা রাজনৈতিকভাবে হোক বা সামাজিকভাবে। বিশেষ করে যুদ্ধের সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারায়। যারা এই পেশায় কাজ করছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’

এমপি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে জেনেছি যে, আপনাদের কিছু কম্পিউটারের ঘাটতি আছে। আপনারা সাংবাদিক সমিতি থেকে একটা দরখাস্ত দেন, আমি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে থেকে কিছু কম্পিউটার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব। আর মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণের জন্য আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আপনাদের কাছে দুই হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা হস্তান্তর করব।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখছেন দৈনিক অধিকারের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী তাজবীর হোসাইন সজীব (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দৈনিক অধিকারের প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক তাজবীর হোসাইন সজীব বলেন, ‘গবিসাস ক্যাম্পাস থেকে সংবাদ পরিবেশন করছে। যেহেতু এটি একটি বেসরকারি ক্যাম্পাস তাই কাজটি খুব কঠিন ছিল। সেগুলো আমরা শুনলাম। কিন্তু কঠিন হলেও করতে হয়, করতে হবে। আসলে আমি কখনো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসিনি, এখানে আসার পরে আমার মনেই হয়নি এটি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। মনে হয়েছে এটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং এতগুলো ক্লাব। সবকিছু অবলোকন করে মনে হচ্ছে, এখানে একটি সাংবাদিক সমিতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়টি করতে কত সংগ্রাম করতে হয়েছে সেটা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতারাই জানেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি সংগঠন করাকে ভালোবাসি। আমি নিজেও অনেক সংগঠন করেছি। একটু আগে অ্যানাউন্স হলো আমি দেশের সর্বকনিষ্ঠ সম্পাদক। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমি ভালো স্বপ্ন দেখতে পারি, ভালো স্বপ্ন দেখাতে পারি এবং স্বপ্নের দিকে ভালো ছুটতে পারি। এগুলো আমি শিখেছি সংগঠন করে। আমি মনে করি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা হওয়া উচিত ক্যাম্পাসের কান হয়ে শোনা, মুখ হয়ে বলা ও চোখ হয়ে দেখা। এই সংগঠন এটি ভালোভাবে করছে বলে আমার মনে হয়।’

দৈনিক অধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা দৈনিক অধিকার নামটা শুনছেন। আমরা দৈনিক বেরও করি তবে কম, কিছু অফিসে দেই। কিন্তু কীভাবে আমরা জাতীয় গণমাধ্যম হলাম? অধিকার ডট নিউজ অ্যালেক্সায় ভালো করছে। আমাদের পাঠক ৩ লাখ প্লাস। এমন পাঠক সংখ্যা বাংলাদেশে ১০টির বেশি গণমাধ্যমে পাওয়া যাবে না। তার মানে আমরা দৈনিক নামে চলছি, আমাদের দৈনিক ছাড়পত্র রয়েছে। আসলে দৈনিক দিয়ে নয় আমরা অনলাইন দিয়ে মানুষের কাছে যেতে চাই।’

তাজবীর সজীব আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলায়, অধিকাংশ থানায় এবং প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসে আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে, তারা সম্পূর্ণ পেইড এবং প্রফেশনাল। আমি গর্ব করে বলতে চাই দেশে অধিকাংশ গণমাধ্যম এখনো এই পর্যায়ে যেতে পারেনি। দৈনিক অধিকার একমাত্র গণমাধ্যম যাদের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিধি আছে যারা সম্মানী পায়। তাদের অফিসের পক্ষ থেকে সিম ও আইডি কার্ড দেওয়া আছে।’

গবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী বাবু বলেন, ‘গবিসাসের প্রতি আমার পক্ষপাত কেন? আমি তখন ছাত্র, কিশোর বয়স। আপনারা অনেকেই জানেন না ৭০ এর দশকে কিশোর বাংলা বলে একটি পত্রিকা বের হতো। এই পত্রিকায় কিশোর সংবাদদাতা বলে একটা পদ ছিল, ওই স্থানে কিশোররা লিখত। সেখানেই আমার হাতেখড়ি। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলাম। তাই সাংবাদিকদের প্রতি আমার পক্ষপাত সবসময় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সাংবাদিক সমিতি হলো, আসিফ আজাদরা যখন লেখালেখি শুরু করল, তাদের দোষণীয় কাজ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খড়গটা আমার ওপরেই পড়েছে। আমাকে ডেকে পর্যন্ত বলা হয়েছে আপনার সাংবাদিকরা, আপনি যেসব সাংবাদিক বানাচ্ছেন তারা ক্যাম্পাস সম্পর্কে নেতিবাচক নিউজ করছে। ভালো কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর খারাপ করলে মুর্তজা বাবুর। এ রকম ঘটনা আমার জীবনে অনেক ঘটেছে। সেজন্য আমি কষ্ট পাইনি, দুঃখ পাইনি। কারণ, সাংবাদিকতা করতে গেলে এগুলো হবেই।’

আরও পড়ুন : বাকৃবি অফিসার পরিষদের সভাপতি নান্নু সম্পাদক আসাদ

মীর মর্তুজা আলী বাবু বলেন, ‘সাংবাদিকতা করতে হলে ঘটনার গভীরে প্রবেশ করতে হবে, আপনি ঘটনার গভীরে না গেলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারবেন না। গবিসাসের সদস্যদের এটি লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বলবেন, আমাদের তাতে কষ্ট নেই। আমাদের কোনো দুর্বলতা থাকলে সেগুলো তুলে ধরবেন। কিন্তু আমাদের সফলতাও তুলে ধরতে হবে।’

আলোচনা সভা শেষে ব্যান্ড দল বাংলা ফাইভ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে ফানুস উড়ানো হয়।

ওডি/জেআই/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড