• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কবে হবে হল কমিটি?

  হাসান বিশ্বাস, ঢাবি প্রতিনিধি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০২
হল কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ (ছবি : সম্পাদিত)

মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭ মাস পরেও হল কমিটি দিতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা।

বিগত কয়েক মাস ধরে কমিটি দেওয়ার কথা বললেও নানা ছলে সময় পার করছেন মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এখন পর্যন্ত তাদের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা পায়। আর জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। সে হিসেবে গত সাত মাস আগে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে জেলা শাখাকে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেবে।’

গত বছর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বলা হয়, নির্বাচনের পরেই হল কমিটি ঘোষণা করা হবে। যারা হলে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচনের জন্য কাজ করবেন, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নির্বাচনের পরে পদ প্রত্যাশীদের দেওয়া কোনো কথা রাখেননি তারা।

এর কিছুদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। সেসময় বলা হয়, দেশে ফিরেই হল কমিটি দেওয়া হবে। সাদ্দাম ফেরার পর হল কমিটির বিষয়টি পুনরায় উঠে আসে এবং তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী হল সম্মেলনের প্রস্তুতি নেন। তবে তার কিছুদিন পরেই দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। নতুন নেতৃত্বে সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্য দায়িত্ব পান।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় দৈনিক অধিকারকে জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে সব সমস্যা ছাপিয়ে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবেন তারা। পরে দৈনিক অধিকার থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে ৭ কার্যদিবস পরেও সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে হল কমিটির জন্য চাপ প্রদান করলে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে অভিযোগ করেন পদ প্রত্যাশী নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানান, হল কমিটির অপেক্ষায় ছাত্র জীবন শেষের দিকে। নেতাদের এমন অনীহা আর একঘেয়েমির ফলে রাজনীতি জীবনে চরম বিপদগ্রস্ত এসব নেতা।

তিনি বলেন, ‘মূলত নেতারা তাদের প্রটোকল হারানোর ভয়ে সম্মেলন দিতে দেরি করছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা এখন কেন্দ্রীয় নেতাদের পেছনে সময় দিলেও কমিটি ঘোষণার পরে হল কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হবে। যার ফলেই এতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।’

পদপ্রত্যাশী নেতারা আরও বলেন, ‘হল কমিটি দিলে সংগঠনটির শীর্ষ চার নেতার প্রটোকল কমে যেতে পারে। প্রটোকল কমে যাওয়ার কারণে তারা হল কমিটি দিতে দেরি করছেন। এদিকে হল কমিটি না দেওয়ার কারণে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন।’

এই বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কমিটি হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তাই কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে এখনো তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমন কি সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা পর্যন্ত করা হয়নি। তাই তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে পারছেন না পদপ্রত্যাশীরা।

সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব খুঁজছি।’ তবে এই যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব খুঁজতে আর কতদিন লাগবে, সেটাও পদপ্রত্যাশীদের অজানা।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটির সাবেক শীর্ষ দুই নেতা শোভন-রাব্বানী পদ হারান। পদ হারানোর পর সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জয়-লেখক। শোভন-রাব্বানী পদ হারানোর পর তাদের প্রতিটি হলে রেখে যাওয়া সমর্থিত কর্মী ও হল পদপ্রত্যাশীদের অনেকে জয়-লেখকের এলাকার না হওয়ায় বিপদে পড়েছেন।

আরও পড়ুন : ৩ দিনের মধ্যে হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা

জয়-লেখক দায়িত্ব পাওয়ায় তাদের এলাকাভিত্তিক অনেক পদপ্রত্যাশী নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। একই হলে নতুন নেতার আবির্ভাব হওয়ার কারণে শোভন-রাব্বানীর কাছের কর্মীরা জয় লেখকের কাছে যেতে পারেনি। অন্যদিকে জয় লেখক তাদের সমর্থন বা প্রটোকল বাড়াতে হল কমিটি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

এদিকে ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে সঞ্জিত চন্দ্র দাস সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে গত ৩০ মে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ওডি/এমএ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড