• রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি চান ইবি কর্মকর্তারা!

  ইবি প্রতিনিধি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৯
কর্মবিরতি
ইবি কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পরীক্ষা ছাড়াই পোষ্য কোটায় ভর্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।

পোষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম আবেদনের যোগ্যতা থাকলেই ভর্তির ব্যবস্থা করাসহ ১৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনকালে তারা এ দাবি উত্থাপন করেন।

কর্মকর্তাদের অন্য দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে- উপরেজিস্ট্রার/সমমান পদের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল ৪ নম্বর গ্রেড (জা. বে. স্কেল ২০১৫) এবং সহকারী রেজিস্ট্রার/সমমান পদের বেতন স্কেল ৬ নম্বর গ্রেড (জা. বে. স্কেল ২০১৫) অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, অফিস সময়সূচি পূর্বের ন্যায় (সকাল ৮টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত) করতে হবে, কর্মকর্তাদের চাকরি হতে অবসরের বয়স ৬০ বছর হতে ৬২ বছর পুনর্বহাল করতে হবে, শাখা কর্মকর্তা হতে উপরেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মোট চাকরিকাল ১০ (দশ) বছর অর্থাৎ (৫+৫) করতে হবে, সকল দপ্তর প্রধান পদে স্থায়ী ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে, বিধি মোতাবেক অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/সমমান পদে নিয়োগ দিতে হবে, কল্যাণ তহবিলের অর্থ প্রচলিত ৩টি বেতন ও ভাতাদির পরিবর্তে ১৫টি বেতন ও ভাতাদি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে, চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্মরত সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসারদের ডেপুটি চিফ টেকনিকাল অফিসার পদে পদোন্নতি ও আপগ্রেডিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, পদোন্নতি প্রাপ্ত ৭ (সাত) জন কর্মকর্তাকে প্রাপ্তির তারিখ থেকে প্রাপ্ত সুবিধা প্রদান করতে হবে, শিক্ষা জীবনের সকল পর্যায়ে ২য় বিভাগ/ শ্রেণি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সার্বজনীন রেয়াত হতে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৬ (ছয়) মাসের বেতন কর্তন না করা, পদোন্নতি প্রাপ্ত ৮ (আট) জন কর্মকর্তাকে প্রাপ্তির তারিখ হতে প্রাপ্ত সুবিধা প্রদান করতে হবে, ‘সিনিয়র পেশ ইমাম’ পদটি চূড়ান্ত অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সভায় পূর্বের ১৩ দফা দাবির সঙ্গে আরও ৩ দফা দাবি সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পি. এস রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দাবি করছি যে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী রেজাউল করিম রেজার পিতার নামে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সাময়িক/মূল সনদপত্র মো. রেজাউল করিমের ব্যক্তিগত নথিতে অন্তর্ভুক্ত না হলে আগামী ০৯/০২/২০২০ইং তারিখের মধ্য জনাব মো. রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. নওয়াব আলী খানকে অপসারণ করতে হবে, এস্টেট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশসহ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মো. মোর্শেদুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম জোহা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান খান টুটুলসহ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবি বাস্তবায়নে আমাদেরকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত একটি দাবিও মানা হয়নি। বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে হলো।’

তারা বলেন, ‘আজ থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১-১২টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি চলবে। এতেও যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়া যায় তাহলে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি চলবে। প্রয়োজনে লাগাতার কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

অপরদিকে কর্মবিরতি চলাকালীন কর্মকর্তাদের একাংশ অফিসের নিয়মিত রুটিন সচল রেখেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মীর মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কর্মবিরতির বিষয়টিকে আমি ভালো চোখে দেখছি না। কারণ এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ভিসি স্যার তাদের যথেষ্ট পরিমাণ সম্মান দেন। তাদের যে কথাবার্তা সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণ করিনি, অফিসের নিয়মিত রুটিনের কাজ চালিয়ে গেছি।’

আরও পড়ুন : ঢাবি ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন

এ সম্পর্কে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বেতন স্কেলের বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আংশিক অনুমোদন হয়েছে। যাদের মাস্টার্স ডিগ্রি আছে তারা পাবে। চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরের বিষয়টি আচার্যের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ন্যায়সঙ্গত দাবি অতীতেও মানা হয়েছে, ভবিষ্যতেও মানা হবে।’

ওডি/এমএ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড