• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাটছে না জবির তিন বিভাগের সেশনজট

  জয়নুল হক, জবি প্রতিনিধি

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:২৩
জবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগে সেশনজট কাটছে না। এতে ৬ মাসের এক সেমিস্টার শেষ করতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগছে শিক্ষার্থীদের। এর ফলে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক শেষ করতে ৫ বছর এবং স্নাতকোত্তরসহ শেষ করতে প্রায় ৭ বছর বেশি সময় লাগছে শিক্ষার্থীদের।

অ্যাকাডেমিক রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের অনীহা ও স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের অন্তঃকোন্দল ও ক্লাসরুম সংকটের কারণে সেশনজট আরও তীব্র হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালুকৃত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিভাগটির ১ম ব্যাচ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ ও ২য় ব্যাচ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক বছর পিছিয়ে ক্লাস শুরু করেছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টার পিছিয়ে থেকে ৪র্থ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। এ দিকে পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ভাইভা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘বিভাগের চেয়ারম্যান ক্যাম্পাসে অনিয়মিত। বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষকরা তুচ্ছ অজুহাতে ক্লাস-পরীক্ষা নেন না। নাট্যকলা বিভাগে সেশনজটের অবস্থা আরও ভয়াবহ। শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকটের কারণে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে ভুগছেন। নবীন শিক্ষকরা পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সংক্রান্ত কাজে দক্ষ না হওয়ায় বিভাগটির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ধীর গতিতে চলছে। নাট্যকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২ বছর পিছিয়ে থেকে স্নাতক পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৯ মাস পিছিয়ে ৭ম সেমিস্টার ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ মাস পিছিয়ে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও ইতোমধ্যে ৯ মাস পিছিয়ে রয়েছেন। এছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৭ মাস পিছিয়ে মাত্র ৪র্থ সেমিস্টার শেষ করেছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৬ মাস মেয়াদি সেমিস্টার শেষ করতে ৯ মাস সময় লাগছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১১ মাসে শেষ করেছে মাত্র এক সেমিস্টার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সেমিস্টারের নির্ধারিত ক্রেডিট ক্লাস শেষ হলেও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০ এর পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

শিক্ষার্থী সূত্রে আরও জানা যায়, ‘এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বরাবর কয়েকবার লিখিতভাবে জানাতে গেলে বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া বিভাগটিতে ক্লাসরুম সংকটের কারণে এক ব্যাচের পরীক্ষা হলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করলেও ৭ বছরে মাত্র ২০১৩-১৪ সেশনের একটি ব্যাচ স্নাতক শেষ করেছে। এর পরবর্তী ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৮ম সেমিস্টার ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৭ম সেমিস্টারে ক্লাস করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের এই দুই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিয়েছে। এই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৭ মাস পিছিয়ে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২ মাস পিছিয়ে আছে। এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টারের ফলাফল পায়নি। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩য় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করলেও এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখনো ২য় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারেনি।’

জবি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম বলেন, ‘আমাদের শুরু থেকেই ক্লাসরুম সংকট ছিল। এ জন্য বিভাগে জট লেগে আছে। বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও বিভাগের পুরোপুরি সব কিছু বুঝেন না। আমাকে একাই সবদিক সামলাতে হয়। সেশনজট কমানোর জন্য আমি একনিষ্ঠভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন : উচ্চশিক্ষায় গবেষণার কোনো বিকল্প নাই : ইউজিসি চেয়ারম্যান

বিভাগে অনিয়মিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন বাসায় বিশ্রামে ছিলাম। ভাইভার জন্য এক্সটারনাল শিক্ষক সময় দিতে পারছেন না। শিক্ষক সময় দিলে আমরা ভাইভা নিয়ে নেব।’

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সেশনজটের বিষয়ে উপাচার্য সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী মাসে সকল ব্যাচের পরীক্ষা নিয়ে সেশনজট কমিয়ে আনা হবে।’

ওডি/এমআরকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড