• রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৭  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঝুলে ঝুলে ক্যাম্পাস যাত্রা!

  নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩৭
নোবিপ্রবি
বাদুড়ঝোলা হয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পরিবহন সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাদুড়ঝোলা হয়ে ক্যাম্পাসে যান অনেক শিক্ষার্থী।

দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী কিংবা কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, ‘বিগত ২ বছরে অন্তত ১০টির বেশি বিভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে দাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। বাস সংখ্যা এবং শিডিউল চাহিদা মোতাবেক না হওয়ায় প্রায়ই আমাদের স্থানীয় যানবাহনে যাতায়াত করতে হয়। যা আমাদের জন্য ব্যয়বহুল ও অনিরাপদ। আমরা দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী বাস সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।’

সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের একমাত্র আবাসিক হল বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে জেলা শহর মাইজদী এবং তার আশেপাশে মেসে থাকতে হয়। ফলে তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিক কাজসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন শহর থেকে যাতায়াত করে ক্লাস করতে হয়। যাতায়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও স্থানীয় যানবাহন একমাত্র উপায়। কিন্তু বাসে যাওয়া-আসার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রায় সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় এতটাই ভিড় থাকে যে, দাঁড়িয়েও যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও যথেষ্ট বাস দেওয়া হয় না। যা দিয়ে শহর থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৯টি বাস রয়েছে। যার মধ্যে ৮টি বিআরটিসির লাল বাস এবং ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস। বাসগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ জন করে। প্রতি বছর নতুন করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাস সংখ্যা বৃদ্ধি না করার কারণে এই সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আগে তারা দাঁড়িয়ে যেতে পারলেও এখন তারা সে সুযোগও পাচ্ছেন না। তিল ধারণের জায়গা নেই।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে বিআরটিসি ডাবল ডেকারের এক চালক জানান, বাসে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুই তিন গুণ বেশি যাত্রী থাকার কারণে তারা ভয়ে গাড়ি চালান। রাস্তা খারাপসহ অন্য কারণে বাস হেলে যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এখন গাড়ির টায়ার ডেমেজ হওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে, যা ভোগান্তির মাত্রা বৃদ্ধি করছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ওঠে। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বাদুড়ঝোলা অবস্থায় দেখা যায়। আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে দরজার পাশে অবস্থান নেয়। অনেক ছাত্রীকে ভিড় ঠেলে বাসে উঠে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়, যা তাদের জন্য অসহনীয় ও বিব্রতকর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘প্রায় সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহর পর্যন্ত যাওয়ার পুরো রাস্তাটা ছাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। বসার জায়গা পাওয়া যায় না। ভিড়ের মধ্যে আমাদের মাঝেমাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থী অনুযায়ী বাস সংকট সম্পর্কে আমি অবগত আছি।’

আরও পড়ুন : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি তদন্তে দুদক

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব বাস ক্রয় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিকট অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে নিজস্ব বাস ক্রয় করা হবে।’ 

তিনি জানান, পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে নিজস্ব বাস ক্রয়ে কিছুদিন সময় লাগতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুসারে বিআরটিসি থেকে ভাড়া বাস নিয়ে আপাতত পরিবহন সংকট দূর করার আশ্বাস দেন তিনি।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড