• বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভর্তি পরীক্ষায় দুই ইউনিটে ফেল, অন্য ইউনিটে প্রথম!

  বেরোবি প্রতিনিধি

০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৫
বেরোবি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ও ‘এফ’ দুইটি ইউনিটে ফেল করেও ‘বি’ ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হয়েছে মিসকাতুল জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী । 

‘বি’ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ইউনিটে ওই শিক্ষার্থী যে পরিমাণ মার্কস পেয়েছে, ছয় ইউনিটের ১৬ শিফটে অন্য কেউ সে পরিমাণ মার্কস তুলতে পারেনি। মিসকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষকের ছোট বোন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।     

সূত্রে জানা যায়, গত ১০-১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড টাইমের (দ্বিতীয় বার) শিক্ষার্থী হিসেবে মিসকাতুল জান্নাত ‘এ’ (কলা অনুষদ), ‘বি’ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) এবং ‘এফ’(জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ) ইউনিটে অংশগ্রহণ করে। ১৯ নভেম্বর সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়। 

এতে দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটের (রোল-১৪১৭৫২) পরীক্ষায় ন্যূনতম মার্কস (৩০) নিয়ে পাস করতে পারেনি জান্নাত। এ দিকে ‘এফ’ ইউনিটের চতুর্থ শিফটের (রোল-৬৪১৭৫১) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে অকৃতকার্য হন। অথচ এসএসসি ও এইচএসসির ফল খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান) চতুর্থ শিফটের (রোল ২৪০২৭৮) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এমসিকিউতে ৮০ মার্কসের মধ্যে ৬৭.২৫০ এবং রেজাল্ট স্কোর ১৮.২৩৫ সহ মোট ৮৫. ৪৮৫ পান, যা অন্য কোনো ইউনিটে আর কেউ তুলতে পারেনি।

এ বিষয়ে মিশকাতুল জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে তার ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, বেরোবি উপাচার্যের সঙ্গে আগে থেকেই তিনি মিউচুয়াল ফ্রেন্ড। প্রথম অবস্থায় ফেসবুক আইডি একটিভ থাকলেও বিষয়টি জানাজানির পর তার আইডিটি ডিঅ্যাকটিভ করা হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে ওই শিক্ষার্থী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এত সন্দেহের পরেও ভাইভা দিয়ে তিনি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মিসকাতুল জান্নাত বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ীর ইউপি সদস্য এনামুল বারীর মেয়ে এবং বেরোবির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারীর আপন ছোট বোন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফল অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকারী নিলয় ঘোষ ‘বি’ ইউনিটেও প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একইভাবে ‘ডি’ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকারকারী জিহাদ রহমান ‘ই’ ইউনিটেও ৫ম স্থান অধিকার করেন। আবার ‘এ’ ইউনিটে (সাইন্স) প্রথম স্থান অধিকারকারী শানজিদা আলম করবী ‘বি’ ইউনিটে ৭৪ তম স্থান অধিকার করেছেন। 

এভাবে প্রত্যেকটি ইউনিটের ১ম থেকে ৫ম স্থান অধিকারীগণ অপর যে কোনো ইউনিটে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু মিসকাতুল জান্নাত ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হলেও অপর দুইটি ইউনিটে ন্যূনতম মার্কস নিয়ে পাস করতে পারেনি।

আরও জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তার বড় বোন ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারি বলেন, ‘ফ্যাকাল্টির মিটিংয়ে জানিয়েছিলাম যে, আমার ছোট বোন পরীক্ষা দিবে।’ কিন্তু লিখিতভাবে বিষয়টি কাউকে জানাননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক সোহেলা মুসতারী বলেন, ‘ইমরানা বারীর ছোট বোন এখানে পরীক্ষা দিয়েছে সেটা আমাদের তিনি লিখিতভাবে জানাননি। যখন ও অ্যাডমিশনের জন্য আসল, ওকে আমরা চিনতাম। ফেসবুকে ছবি দেখেছি। ওকে (মিশকাতুল জান্নাত) দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি যে, এই মেয়ে এখানে কেন? এবং মোটেও আমরা খুশি হইনি। সত্যিকারার্থেই আমরা খুশি হইনি।’ খুশি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ'র ফোনে কল করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ওডি/জেআই 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড