• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রমেকে মরণোত্তর চক্ষুদান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

  রমেক প্রতিনিধি

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:০০
কর্নিয়া
কর্নিয়া উত্তোলনের ওপর প্রশিক্ষণ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রংপুর মেডিকেল কলেজ  (রমেক) হাসপাতালে মরণোত্তর চক্ষুদান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ থেকে ৩০ নভেম্বর এই দুই দিনব্যাপী হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ট্রেনিং দেওয়া হয়। উক্ত কর্মশালায় কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব এবং মরণোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা এবং কর্নিয়া উত্তোলনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে কর্নিয়াজনিত সমস্যা নিরসনে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রশিক্ষণের মধ্যে- সেমিনার ক্লাস, প্রাকটিক্যাল ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ সেশনটি পরিচালনা করেন বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন।

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্টদের কেবল রক্তদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেই হবে না। পাশাপাশি মরণোত্তর চক্ষুদানেও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।’

মরণোত্তর চক্ষুদানের স্লোগানটি ছিল- ‘চোখ বেঁচে থাক, চোখের আলোয়’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বিশ্বে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৮ দশমিক ৫ কোটি। অন্য একটি তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে অন্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। প্রতি বছর নতুন করে অন্ধত্ববরণ করছেন আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। দেশে মোট অন্ধ ব্যক্তির এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫ লাখ ২৬ হাজার জন শুধু কর্নিয়াজনিত কারণে দৃষ্টিহীন। এসব মানুষদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে আমরা এই অসহায় মানুষদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারি। আমরা দিতে পারি তাদের সৃষ্টির অপার সৌন্দর্য দেখার এবং সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ।

রমেক পরিচালক ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাদের দেশের কর্নিয়াজনিত সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে’।

রমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুন্নবী লাইজু বলেন, ‘আমি নিজেও সন্ধানীয়ান। স্টুডেন্ট লাইফে নয়বার রক্তদান করেছি সন্ধানীতে। আমাদের দেশে রক্তদানের মতো মরণোত্তর চক্ষুদানেও সফলতার জোয়ার বয়ে যাবে একদিন ইনশাআল্লাহ’।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-  রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.এ.কে.এম নূরন্নবী লাইজু, পরিচালক ডা.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান বীরপ্রতীক লে. জে. হারুন অর রশীদ, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী জামাল, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জয়নুল ইসলাম, ঢাকা সেন্ট্রাল ও রোটারি ক্লাবের সভাপতি মিসেস সালমা মাসুদ, সন্ধানী রংপুর মেডিকেল কলেজ ইউনিটের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ডা. আনিসুল ইসলাম খান ডিউক, অধ্যাপক ডা. মোখলেসুর রহমান, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি ডা. রিপন সরকার, রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান।

এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও উপদেষ্টা ডা. নীহার রঞ্জন রায়, উপদেষ্টা ডা. শফিউল আলম চপল, উপদেষ্টা ডা. মঞ্জুরুল করিম প্রিন্স, উপদেষ্টা ডা. তাপস বোস, উপদেষ্টা ডা. রাজকুমার রায়, উপদেষ্টা ডা. নুরুল হাসান বাবু, রমেকহা জোন, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সাধারণ সম্পাদক উপদেষ্টা ডা. রাজু আহমেদ, সন্ধানী রমেক ইউনিটের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সন্ধানী রমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তুষার চন্দ্র সিংহ, রংপুর রোটারি ক্লাবের সভাপতি মো. আশিক ইকবাল টুটুল।

ভবিষ্যতে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব দূরীকরণের এ আন্দোলন আরও বেগবান হবে, চোখ বেঁচে থাকবে চোখের আলোয় এ আশাবাদ ব্যক্ত করে একটি সফল অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

কর্মশালাটির আয়োজক হিসেবে ছিলেন- সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি, রাোটারি ক্লাব ও কেরালিংক ইন্টারন্যাশনাল।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড