• শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

থমথমে ক্যাম্পাস

ইবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১২

  ইবি প্রতিনিধি

২১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৪৯
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী ও পদ বঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন কোনো ভাবেই থামছে না। একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন থমথমে।

সর্বশেষ বুধবার (২০ নভেম্বর) ইবি শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী ও পদ বঞ্চিত গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত কয়েক দফায় এই সংঘর্ষ চলে। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে জিয়া হল মোড়ে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রিজভী আহমেদ ওশান হেটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে ডেকে আনেন লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আলাল ইবনে জয়, ঝিনুক এবং চঞ্চু চাকমা। এ সময় জুনিয়র ওশান সিনিয়রদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে সিনিয়ররা ওশানকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এই ঘটনার জেরে দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। 

বাঁশ, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে বিভিন্ন হলের সামনে দফায় দফায় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রুপের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয় এবং কয়েকজন রক্তাক্তও হয়। 

আহতরা হলেন- বিদ্রোহী ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী শাহাজালাল ইসলাম সোহাগ, বাধন, আলাল ইবনে জয় ও স্বাধীন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মেডিক্যাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে ৭/৮ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে উভয় গ্রুপের কর্মীরা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। দফায় দফায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিদ্রোহী নেতা বিপুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেয় এবং সে স্থান থেকে চলে যেতে বলে। এতে সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এহেন আচরণের কারণে বিদ্রোহী নেতা বিপুল দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন।

সংঘর্ষের ব্যাপারে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ‘এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি মাত্র। তবে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় গ্রুপকে শান্ত করে হলে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এই ঘটনা ঘটলো তা আমরা ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড