• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঠিকাদারের কাছে জিম্মি কুবির ‘শেখ হাসিনা হল’

  আহমেদ ইউসুফ, কুবি প্রতিনিধি

১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৯
কুবি
নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা ছাত্রী হল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের দুই গুণ পার করলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কিংবা সুষ্ঠু তদারকির দেখা মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের মার্চে টেন্ডার আহ্বান করে আবদুর রাজ্জাক জেবিসিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পটির কাজ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ১৮ মাস সময় বেঁধে দিলেও ৩২ মাস সময় পার করে এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এমনকি অতিরিক্ত দুই গুণ সময় পার করলেও এখন পর্যন্ত ভবনের দুই তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করে তৃতীয় তলার আংশিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে এমন বিলম্বিত হওয়ার জন্য উল্টো প্রশাসনের ওপরই দায় চাপাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প তদারক জাহাঙ্গীর আলম।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অনিয়মিত আর স্বল্প পরিমাণে শ্রমিক এবং অদক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করানোর কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। বরং বিভিন্ন মেয়াদে কয়েকধাপ সময় বৃদ্ধি করেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে এখন প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দুই তলার কাজ আংশিক সম্পন্ন হলেও সেটি অপূর্ণাঙ্গ এবং তিন তলার কাজ কিছুটা করা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে খুড়িয়ে চলছে প্রকল্পটি। আবার অধিকাংশ শ্রমিকের অভাবে বন্ধ থাকতে দেখা যায় নির্মাণ কাজ। জানা যায়, মূল প্রকল্পের ঠিকাদারি আবদুর রাজ্জাক জেবিসিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিলেও তৃতীয় ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলমের তদারকিতে চলছে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কর্ম।

বিলম্বিত হওয়া প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রথমে প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগেই ছয় মাস পর্যন্ত জায়গা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জটিলতা পোহাতে হয়েছে। এতে কাজ শুরু করতে বিলম্বিত হয়। এছাড়াও জটিল নকশা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্রমিক না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমরা এ প্রকল্প প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিতে পারব।

এ দিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. শহীদুল হাসান জানান, এই প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা বার বার চিঠি দিয়েছি। প্রশাসন প্রকল্পের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বলে তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে অবহিত করা হলেও আমরা কাজের অগ্রগতি পাইনি। এদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই, টাকা নেই, অভিজ্ঞতা নেই তবুও কোনো এক শক্তির বলে খুঁড়িয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ধারস্থ হয়েও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখন বলতে গেলে আমরা নিরুপায়।

এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের কাছে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দিয়েও এখন কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি পাইনি। আগামী ১৫ নভেম্বর ইউজিসির সঙ্গে মিটিং করব। সেখানে হয়তো তাদের সঙ্গে টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড